* জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে ধানের শীষে ভোট দিন- তারেক রহমান
* ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠার ঘোষণা
* বিশৃঙ্খলা, হুড়োহুড়িতে আহত ১০
নিজস্ব প্রতিনিধি :
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “বহুবছর পরে ফেনীতে এসেছি। ফেনীর সাথে রয়েছে আমার একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক তথা গ্রেটার নোয়াখালীর সাথে রয়েছে একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক। আমার নানার বাড়ি এখানে।” নানাবাড়ির আত্মীয় হিসেবে বৃহত্তর নোয়াখালীর সবকয়টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপির কাছে যেমন আপনাদের দাবী আছে, আপনাদের কাছেও বিএনপির দাবী আছে। কিসের দাবী, সেই দাবী ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা। আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য। স্বাভাবিকভাবে দেশের মানুষের কাজ করতে পরিকল্পনা থাকতে হবে। জনগনই হচ্ছে বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। ১৭ বছর পর স্বৈরাচারের পতনের পর দেশে এসেছি। তখন কিছু পরিকল্পনা করেছি। নারী সমাজ, গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেয়া। কেউ কেউ বলছে এই সহযোগিতা চলবে কিনা। কৃষক ভাইদের কৃষক কার্ড দিতে চাই। সার, কীটনাশক ও বীজ সরাসরি পৌঁছে দিতে চাই।”
তিনি গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ফেনী জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
ফেনীতে মেডিকেল কলেজ করা হবে উল্লেং করে তারেক রহমান আরো বলেন, ”আমরা আপনাদের যাতে চিকিৎসা সুবিধা পান বিশেষ করে গ্রামের মানুষ বিশেষ করে মহিলা এবং নারীরা এবং শিশুরা যাতে করে চিকিৎসা সুবিধা পায় তার জন্য আমরা সারাদেশে গ্রামে গ্রামে হেলথকেয়ারার আমরা নিয়োগ দিতে চাই। এই হেলথকেয়ারারটা কি? এখানে অনেক মুরুব্বী উপস্থিত আছেন। আপনাদের মনে আছে শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় পল্লী চিকিৎসক ছিল, পল্লী চিকিৎক নাম শুনেছেন? এই পল্লী চিকিৎসকের মতন আমরা হেলথকেয়ারার দিতে চাই যাদের কাজ হবে ঘরে ঘরে গিয়ে মা বোনদের কাছে স্বাস্থ্য সেবা যাতে পৌঁছে দিতে পারে, যাতে করে ছোটখাট অসুখ-বিসুখের চিকিৎসা এই হেলথকেয়ারাররা মা বোন এবং শিশুদেরকে ঘরে ঘরে গিয়ে সেবা দিবে। আর তাদেরকে (মা-বোন-শিশু) কষ্ট করে হাসপাতালে আসতে হবে না যদি বড় কোনো অসুখ না হয়। এক বছর আগে এই এলাকায় হঠাৎ করে বন্যা হলো। কোটি কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি ও আপনারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমরা ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে খাল খনন করতে চাই। একইভাবে সমাজে বহু তরুন যুবকের চাকরী-বাকরি, কর্মসংস্থান নাই। কর্মসংস্থান করতে চাই। ফেনী অঞ্চলে ইপিজেড করতে চাই। যাতে ফেনী এলাকার মানুষ চাকরী করতে পারে। আবার যারা প্রবাসে যেতে চান, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তারা সেখানে বেশি আয় করতে পারবেন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সহযোগিতা করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।”
তারেক রহমান বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলা যায়। তাতে জনগনের লাভ হবেনা। জনগণের লাভ হবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড পেলে। দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হলে। দেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসলে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তন হলে ধীরে ধীরে সমস্যা কমে যাবে। ধানের শীষ নির্বাচিত হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।” তিনি বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বৃহত্তর নোয়াখালীর ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, দীর্ঘ ১৭বছর দেশে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলনা। আপনাদের কাছে আজ তাদেরকে রেখে গেলাম। ভোট দিয়ে তাদেরকে নির্বাচিত করুন। তাদের কাছে নিজেদের সুখ-দুখের কথা বলতে পারবেন। আপনাদের সমস্যা তাদেরকে জানাবেন, তারা সমাধান করতে দায়বদ্ধ থাকবেন।”
জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ফেনী-১ আসনের প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের প্রার্থী চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ভিপি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালীর প্রার্থীদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারুক ও ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ফখরুল ইসলাম, লক্ষীপুরের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আশরাফ উদ্দিন নিজান ও শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু, সহ-গ্রাম সরকার সম্পাদক বেলাল আহমেদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি, জালাল উদ্দিন মজুমদার, মামুনুর রশিদ মামুন, এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান, শাহেনা আক্তার শানু, আবু তালেব ও মশিউর রহমান বিপ্লব, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াছিন আলী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলমগরীর আলো, লক্ষীপুর জেলা সাধারন সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু, ফেনী জেলা যুগ্ম-আহবায়ক এমএ খালেক, গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, সদর উপজেলা সভাপতি ফজলুর রহমান বকুল প্রমুখ।
জনসভায় বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। এছাড়া ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ফেনী পাইলট মাঠে তারেক রহমানের এটি প্রথম সমাবেশ। এর আগে পৈত্রিক জেলায় এ মাঠে তার মা বেগম খালেদা জিয়ার জনসভা হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর নানার বাড়ির জেলায় রাজনৈতিক সফরে ফেনী এসেছেন তারেক রহমান। তার আগমনে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে মুহুর্মুহু শ্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে। তিনি দুই হাত নাড়িয়ে নেতাকর্মীদের অভ্যর্থনার জবাব দেন। জনসভাস্থলসহ শহরের বিভিন্ন সড়কে ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পায়। জনসভা ঘিরে দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড, উপজেলা, আশপাশের তিন জেলা থেকে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মিছিল সহকারে লোকজন সমাবেশস্থলে জড়ো হয়। ভিড় সামলাতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ১০টি এলইডি স্ক্রিনে জনসভা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তবুও জনসভাস্থলে উপচেপড়া ভীড়ের চাপে অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। বিকালেই নেতাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কিতে সাংবাদিকদের জন্য সংরক্ষিত স্থানের বাঁশ ব্যারিকেড ভেঙ্গে যায়। সভাস্থলে বিশৃঙ্খলার জন্য স্থানীয় নেতাদের দায়ী করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। একপর্যায়ে তারেক রহমান মঞ্চে উঠে মাইক হাতে নেয়ার পর সর্বশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীও অকেজো হয়ে পড়ে। তিনি যখন বক্তব্য দিচ্ছেন তখন মঞ্চের সামনেই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়।