নিজস্ব প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উৎসবমুখর করতে ফেনী জেলায় মাঠে নামছে ১৮ প্লাটুন বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)। সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা ফেনী-১ আসনের পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় ১২ প্লাটুন এবং অপর তিন উপজেলায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিজিবি সদস্যদের মাঠে নামানো হবে। একইসাথে নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলায় ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হবে। গতকাল সোমবার দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের ৪ বিজিবি সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোশারফ হোসেন এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিজিবি কুমিল্লা সেক্টরের অধীনস্থ ব্যাটালিয়ন সমূহের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলার ৫৩টি উপজেলায় ৩৪টি সংসদীয় আসনের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ফেনী জেলার সীমান্তবর্তী ৩টি উপজেলায় এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া অন্যান্য সীমান্তবর্তী ৯টি উপজেলাসহ অপর ৪১টি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে “মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স” হিসেবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচন উৎসবমুখর করতে নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে লে. কর্ণেল মোশারফ হোসেন বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬” উপলক্ষ্যে বিজিবি কুমিল্লা সেক্টরের অধীনস্থ ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) ১২টি সংসদীয় আসনের ১৯টি উপজেলা, ১০ বিজিবি কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের ১৪টি সংসদীয় আসনের ২২টি উপজেলা, ২৫ বিজিবি সরাইল ব্যাটালিয়নের ৩টি সংসদীয় আসনের ৫টি উপজেলা এবং ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের ৫টি সংসদীয় আসনের ৭টি উপজেলায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। এসব এলাকায় ১শ ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যগণ স্থানীয় জেলা/উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় স্থাপিত অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান করে আসন্ন নির্বাচনে “মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স” হিসেবে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে একক অথবা সমন্বিতভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরো বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে জনগণের অংশগ্রহণ, ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনী পরিবেশ উৎসবমূখর, নির্ব্রিঘ্নে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা বদ্ধপরিকর। অতীতের মত ভিন্ন মতাদর্শী রাজনৈতিক কর্মকান্ড, হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং স্বার্থান্বেষী, অপশক্তি ও নাশকতাকারীরা নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং, উৎসবমূখর পরিবেশ যাতে কেউ বিনষ্ট করতে না পারে সেলক্ষ্যে বিজিবি কর্তৃক দায়িত্ব পালনকালীন তথ্য উপাত্তের মাধ্যমে সার্বিক সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানান তিনি।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় নির্বাচনকালীন সময়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। ৩২৭.৩০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ৬১টি বিওপি এবং ৩টি আইসিপি ও ৭টি অস্থায়ী ক্যাম্পের মাধ্যমে অস্ত্র, মাদক ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আভিযানিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যাতে ভিন্ন মতাদর্শী, অস্ত্রধারী ও অপশক্তি/সম্ভাব্য নাশকতাকারীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে নির্বাচনী কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে না পারে।