মার্চ ৬, ২০২৬ ০৭:০৪

ছুরিকাঘাতে টমটম চালক হত্যাকান্ড নাজির রোডের কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক শরীফ ধরা ছোঁয়ার বাইরে


শহর প্রতিনিধি :

ফেনী শহরের নাজির রোডে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত মো: মাসুদ হাসান মাহিদের হত্যাকারী ও সহপাঠীরা ওই এরিয়ার কিশোর গ্যাংয়ের টিডিএক্স-১০ ও এসআরডিএক্স এর সদস্য। মাসুদ হাসান মাহিদও একই গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন। নিয়মিত একসাথে আড্ডা দিলেও হত্যাকারী মারুফের ছোট ভাইকে বকাঝকা করা নিয়ে হাতাহাতি থেকে হত্যাকান্ড পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি।


হত্যাকারী মারুফ ও রাহাতসহ ওই গ্যাংয়ের সদস্যরা নাজির রোড এরিয়ায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে থাকতো। সেখানে অনেকে ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। জানতে চাওয়া হলে সেখানকার এক দোকানার ফেনীর সময়কে বলেন, “কারা এখানে কথা বলবে? কেউ বলবে না। এদের পিছনে তাদের বড় ভাইরা আছে। তারা কিছুদিন পর এদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসবে। সে আগের মত এসব করে যাবে। মধ্যখানে আমরা এসব বলে বিপদে পড়বো।”


গোয়েন্দা সংস্থাসহ একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, হত্যাকারী মারুফ, রাহাতের সাথে মো: নাইম, রাফি, শান্তসহ আরো অন্তত ৮-৯ জন রয়েছে। এদের সাথে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটা গ্যাং রয়েছে। প্রকাশ নামে একজন এদের বড় ভাই রয়েছে, যে গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। প্রকাশ নিয়ন্ত্রিত হয় জোবায়ের হোসেন শরীফ ওরফে মেশিন শরীফ দ্বারা। জোবায়ের হোসেন শরীফ নাজির রোড, মিজান রোড, পাইলট ও রাজাঝির দিঘি, রেল স্টেশন ও মাষ্টারপাড়া কেন্দ্রীক বেশ কয়েকটি গ্যাং গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। সে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন রিয়াদ পাটোয়ারীর অনুসারী। এর আগে ২০ জানুয়ারী দৈনিক ফেনীর সময়ে ‘ফেনীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাথাচাড়া দিচ্ছে কিশোর গ্যাং’ শিরোনামে নিউজে এ সম্পর্কিত তথ্য উঠে এসেছে।


এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের এ সকল সদস্যদের পিছনে স্থানীয় যুবদল নেতা মো: ইয়াছিন ও মিজানদের প্রশ্রয় থাকতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন। মো: ইয়াছিন ও মিজানদের সাথে বেশ কয়েকবার তাদের দলীয় মিছিলে গিয়েছে বলেও তারা জানান।


হত্যাকারী মারুফ, রাহাতদের সাথে থাকা কিশোর গ্যাংয়ের এক সদস্য ফেনীর সময়কে বলেন, “মাসুদ, মারুফ, রাহাত এরা একসাথে আড্ডা দিতো। প্রকাশ একজন আছে, সে তাদের বড় ভাই। প্রকাশ তাদের কিছু হলে দেখবে বলছিল। প্রকাশ মূলত এদের দেখে। প্রকাশেরও বড় ভাই আসে জানি।”
এদিকে মাসুদ হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মারুফ ও রাহাতকে শনিবার কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে এ হত্যাকান্ডের পর নাজির রোড এলাকা এখন থমথমে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন