নিজস্ব প্রতিনিধি :
ফেনী-৩ ( সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হয়েছে। এখন ভোটের অপেক্ষা। এ আসনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোট গ্রহনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এই আসনে দুটি উপজেলায় ১৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৩টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও আইন শৃঙ্খরা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেনী-৩ আসনে দুটি উপজেলার মধ্যে সোনাগাজী উপজেলায় নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এখানে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৩টি। এর মধ্যে ৬টি কেন্দ্র অধিক ও ২৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ এবং ৫০টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর দাগনভূঞা উপজেলায় আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। সেখানেও ৭৮টি কেন্দ্র আছে। এর মধ্যে ১৫টি অধিক ও ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৪৯টি কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাছুম বিল্লাহ বলেন, দুই উপজেলার সব কটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর থেকে প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রে সেনা, বিমান, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, আনসার ও নিরাপত্তাবলয়ের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সরঞ্জাম পাঠানো হবে।
ফেনী-৩ আসনে দুই উপজেলায় মিলে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৮ হাজার ১৯২জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৩ হাজার ২২৫জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬৫জন। এ আসনে এবার ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৬৩৪জন। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগ তরুণ-তরুণী।
সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সপুার (এএসপি) সৈয়দ মুমিদ রায়হান বলেন, নির্বাচনের সার্বিক বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে দুই উপজেলার ৬৩টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রসহ পুরো উপজেলায় পাঁচস্তরের নিরাপত্তাবলয়ের প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। প্রত্যেক কেন্দ্রে ১২-১৪জন আনসার ও দুজন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া উপজেলায় জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বেশ কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।
ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মুলত লড়াই হবে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ধানের শীষের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোটের দাঁিড়পাল্লার প্রার্থীর ফরুদ্দিন মানিকের মধ্যে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্র জানায়, ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে ভোট গ্রহনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। গত রোববার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে ভোট গ্রহনের সরঞ্জামাদি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশি ও আইন শৃঙ্খরা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।
সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে উপজেলার সবকটি ভোটকেন্দ্রে পাঠানোর লক্ষ্যে ব্যালট পেপার, সিল, বাক্স, কলমসহ যাবতীয় নির্বাচনী সামগ্রী আদালাভাবে বস্তায় ভরে প্রস্তুত করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে ভোট গ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তার (প্রিসাইডিং) কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় সেগুলো ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন।
ইউএনও রিগ্যান চাকমা বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী,র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ভোটের দিন সোনাগাজীতে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। প্রতিটি ভোট কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। এরপরও কেউ ভোটের আগে বা পরে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনিত ঘটাতে চাইলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।