নিজস্ব প্রতিনিধি :
ফেনী জেলায় বিভিন্ন এলাকায় মাটি খেকোদের থাবায় উজাড় হচ্ছে ফসলি জমি। সরকারি নির্দেশনা না মেনে একশ্রেণীর কতিপয় ব্যক্তিরা ভেকু দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে গভীর করে কেটে নিচ্ছে মাটি। ফলে এসব জমি কেবল অনাবাদিই নয় বিশাল গর্ত ও জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। বিভিন্নসময় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়েও থামানো যাচ্ছেনা। এক্ষেত্রে মাটিকাটা রোধে প্রশাসন আরো কঠোর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মনিরা হক। গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারী দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, যেকোনো মূল্যে মাটিকাটা বন্ধ করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণ অভিযানে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। ফলে এখন থেকে মাটি ক্রেতা-বিক্রেতা পালিয়ে গেলেও যে স্থানে মাটি কাটা হবে ওই জায়গার মালিক ও মাটি ক্রেতার জেল-জরিমানা করা হবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা হকের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকারিয়া জেলার সংক্ষিপ্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রজেক্টরের মাধ্যমে তুলে ধরেন। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম, হেফাজতে ইসলামের জেলা সেক্রেটারী মাওলানা ওমর ফারুক, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্যাহ মানিক, ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা একরামুল হক, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-সম্পাদক আজিজ উল্যাহ আহম্মদী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক আরো বলেন, যদি কোন জায়গার মালিক মাটি বিক্রি করতে চান তাহলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি নিতে হবে। কৃষি জমি ও কৃষি উৎপাদন রক্ষা এবং পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব যেন না পড়ে সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখার আহবান জানান তিনি।
সভায় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু মাটিকাটা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষন করে বলেন, মাটিকাটা বন্ধে এ পরিমান জরিমানা করতে হবে যাতে সে কোনোভাবেই পুষিয়ে উঠতে না পারে। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় মাটিকাটা বন্ধে সবধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দেন।
অবশ্য ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি দাবী করেন, মাটিকাটা কখনোই বন্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ ঘরবাড়ি অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইটের প্রয়োজন রয়েছে। তবে ইট তৈরিতে মাটি ব্যবহার বন্ধে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব করেন তিনি।