-গরিব হাজারো রোজাদার এককাতারে
নিজস্ব প্রতিনিধি :
মসজিদের তৃতীয় তলায় হাজারো মুসল্লি। সামনে সাজানো হরেক ইফতারি। সাথে রয়েছে শরবত ও পানি। কোনদিন বুট-মুড়ি-খেজুর কিংবা কোনদিন বিরিয়ানী। আসরের পর থেকে রোজাদাররা দল বেঁধে সারিবদ্ধভাবে বসে যান। মাগরিবের আজান হতেই সবাই দোয়া পড়ে মুখে তুলে নেন ইফতার। পবিত্র মাহে রমজানের প্রথমদিন থেকে ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের জহিরিয়া মসজিদে চলছে এমন গণইফতার। প্রতিবছরের নেয় এবারও ইফতারে শামিল হচ্ছেন নানা শ্রেণীপেশা ও বয়সের রোজাদাররা। রিকশা চালক থেকে শুরু করে দিনমজুর শিক্ষার্থী, চাকরীজীবি, পেশাজীবিসহ সবশ্রেণীর মানুষ এই ইফতারে শামিল হন।
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, মসজিদের তৃতীয় তলায় ইফতারে জমায়েত হন ১ হাজার ৪শ রোজাদার। সকাল থেকে এসব তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন বার্বুচিরা। ইফতার কমিটির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম সোহেল, যুগ্ম-আহবায়ক এমদাদুল হাসান বিপ্লব, সদস্য সাইদুল মিল্লাত মুক্তা, এয়াকুব আলী হক সাব, খুরশিদ আলম ভূঞা ইফতারের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন। সুষ্ঠুভাবে ইফতার পরিবেশনের জন্য মসজিদের ৮জন খাদেম ও ১০জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। এ আয়োজনে তদারকী করেন মুসল্লী প্রতিনিধি ফারুক হারুন।
এমদাদুল হক বিপ্লব জানান, জহিরিয়া মসজিদে ইফতার আয়োজন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। সওয়াবের উদ্দেশ্যে এই আয়োজনে অনেক ধর্ণাঢ্য ব্যক্তি সহায়তা করে থাকেন। গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে অনেক মানুষ মসজিদের ইফতারে অংশ নেন।
এয়াকুব আলী হক সাব জানান, এখানে সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তৈরি করা হয় ইফতারি। স্বাস্থ্যসম্মত ইফতারি যাতে সবাই খেতে পারেন সেই চেষ্টা করা হয়। মূলত আমাদের এই আয়োজনে অনেক ধর্নাঢ্য ব্যক্তি সহায়তা করেন। সবাই সওয়াবের উদ্দেশ্যে ইফতার আয়োজনে শরিক হন। দানশীল ব্যক্তিরা ইফতারসামগ্রী দিয়ে যান। আমরা নিজস্ব বাবুর্চি দিয়ে সেসব রান্না করে পরিবেশন করি।
খুরশিদ আলম ভূঞা জানান, এই ইফতার আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধনী-গরিব ভেদাভেদ থাকেনা। এখানে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ বাড়ায়। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হয়।
মসজিদের মুসল্লী প্রতিনিধি মো: ফারুক হারুন জানান, ‘২০০৭সালে মক্কায় হেরেম শরীফে ইতিকাফ করার সুবাদে গণইফতার দেখে এ ধরনের আয়োজনের স্বপ্ন দেখি। এরপর ২০০৮সাল থেকে জহিরিয়া মসজিদে সেই আদলে ইফতার কার্যক্রম চালু করি। মাসব্যাপী এই ইফতারে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে ইফতার করার দৃশ্য দেখে খুবই ভালো লাগে।’