- শ্রেণিকক্ষ সংকটে গাদাগাদি করে পাঠদান
- বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, ছাত্রীদের কমনরুমও নেই
নিজস্ব প্রতিনিধি :
ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বিরলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছরেও সরকারি বহুতল ভবন বরাদ্দ পায়নি। গত প্রায় ১৬ বছরে সদর উপজেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আওয়ামীলীগ দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করলেও বরাবরাই বঞ্ছিত রয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বঞ্ছিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানায়, ১৯৭২ সালে ফেনী-সোনাইমুড়ী সড়কের বিরলী বাজার সংলগ্ন স্থানে বিরলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয়টিতে ২০১৭ সালে নিজস্ব অর্থায়নে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এর আগে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। পুরোনো টিনশেড ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত করা হয়েছে। ফলে স্কুলে ৪শ শিক্ষার্থীর স্থান সংকুলান হচ্ছেনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে রয়েছে শ্রেণিকক্ষ সংকট। নেই কোন বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব। ছাত্রীদের নেই কমনরুম ও নামাজের ঘর। এতে করে বিপাকে পড়তে হয়। দোতলার একটিতে শিক্ষকদের দাপ্তরিক কক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের দাপ্তরিক কার্যক্রম সারেন। প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প হওয়ায় শৌচাগার নিয়ে বিপাকে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সিনিয়র শিক্ষক মো: ফজলুর রহমান জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকট তীব্র। প্রতি টেবিলে ৪-৫ জন করে বসতে হয়। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা শ্ক্ষিার মনোরম পরিবেশ থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে তেমনি শিক্ষকরাও পাঠদান করতে হিমশিম খেতে হয়।
পরিচালনা পর্ষদ সদস্য শাহজালাল ভূঞা বলেন, একবার ভবনের অনুমোদন হওয়ার পর অন্য বিদ্যালয়ের জন্য নিয়ে যায়। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনেও বহুতল ভবন না হওয়ায় সংকট কাটছেনা।
প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টিতে কক্ষ সংকট থাকায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে ৪ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের দাবী জানান তিনি।
পরিচালনা পর্ষদের এডহক কমিটির সভাপতি একেএম গোলাম সরোয়ার জানান, বেশ কয়েকবছর ধরে স্কুলে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক জটিলতার কারনে এটি আর হয়নি। প্রতিবারই শিক্ষা প্রকৌশল ও এলজিইডিতে আবেদন জানানো হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা জানান, ইতিমধ্যে ওই স্কুলে ভবন সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সদর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারি প্রকৌশলী আজাদ হোসেন জানান, সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে শিক্ষা প্রকৌশলের জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (অ: দা:) খন্দকার নাজমুল ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।