অক্টোবর ৪, ২০২৬ ০৪:২২

ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প উদ্বোধন

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এখন শুধুবিএনপির নয়, জনগনের কর্মসূচি: প্রধানমন্ত্রী


* সারাদেশে ৭৭টি উপজেলায় লক্ষাধিক কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন
* ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার প্যানেল প্রকল্প উদ্বোধন
* পরশুরাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কে ১৫০শয্যায় উন্নিত করার ঘোষণা
* জেলায় সেরা ফলাফল করলেই খালেদা জিয়া মহিলা কলেজকে জাতীয়করণ

নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা কৃষক ভাইদের মাঝে কৃষক কার্ড আর মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করছি। খাল-নদী খনন করছি। এইসব কর্মসূচি আর কোন দলের নেই। এটা বিএনপির নয়, জনগনের কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জনগন উপকৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, সারাদেশে অরাজকতার চেষ্টা করছে কিছু কিছু দল। দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হলে উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটবে। তাই আপনারা সৌচ্ছার থাকতে হবে। দেশ যেন এগিয়ে যেতে পারে। এক দফা বলে দেশকে পিছিয়ে নেয়া যাবে না। যারা এক দফা বলছে আবার যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড আছে? তাদের কি কৃষক কার্ড কর্মসূচি আছে? তাদের কি খাল খনন আছে? তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড উদ্বোধন ও ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিতদের ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, একটি দল নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট দিয়েছে। এই গুপ্ত বাহিনী মানুষের অধিকার নষ্ট করছে। ৫আগষ্ট স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর গুপ্তরা বলেছে পালিয়ে যাওয়ারা আসলে তাদের কোন আপত্তি নাই। কারণ তারাতো একসময় এক সঙ্গে ছিল। তারা ৮৬তে একসঙ্গে ছিলো ৯৬ তেও একসঙ্গে ছিলো। সামনে এদের প্রতিহত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের জন্য কাজ করে। তাই আমরা সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা কৃষক, ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সাধারণ মানুষের সাথে আমরা আছি। যারা হত্যার রাজনীতি করে তাদের কাছে জনগণের জন্য কিছু নেই। ১৯৭১সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এরপর বিভিন্ন সময় এদেশে স্বৈরাচারের উত্থান হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বহু বছর পর আজকে এখানে এসেছি। নানা বাড়ির লোকজনরা আমাকে দেখে রাখতে হবে। মা যেহেতু নাই। মা মারা গেছেন এখন আপনারা আমাকে দেখে রাখবেন। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছি ফ্যামিলি কার্ড দিবো। কৃষক ভাইদের মাঝে কৃষক কার্ড দিয়েছি। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা দিয়েছি। জনগণের অর্থ অসচ্ছল মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছি। এই এলাকায় বন্যায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি দেশের বন্যা ও কৃষি কাজের জন্য উপকৃত হয়েছে। গ্রামের মানুষ অসুস্থ হলে কষ্ট করতে হয়। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শহীদ জিয়াউর রহমান ৩০ বেড চালু করে। পরবর্তীতে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ৫০বেড করেছে। আগামী ৫বছরের মধ্যে ১০০বেড করা হবে। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষ যে কোন মূল্যে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে এখানে যারা মেডিকেল কলেজ দাবী করেছেন তা বাস্তাবন করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি।

এসময় বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, কৃষি ও মৎস্য এবং প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, প্রধানমন্ত্রীর জন প্রশাসন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, নারী সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলা উদ্দিন আল আজাদ, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু ইউসুফ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৫৬টি জেলার ৭৭টি উপজেলায় লক্ষাধিক কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

পরে বিকাল ৫টায় তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় জেলার ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম উপজেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহে স্থাপিত ছাদ ভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ সিস্টেম সক্ষমতা: ৯শ ৬০দশমিক ৮কিলোওয়াট এর শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‎এর আগে দুপুর দেড়টায় পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় ১হাজার ৫শ ৪২কোটি ১৬লাখ টাকা ব্যয়ের মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পূর্ণবাসন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে নদী খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে ঘাটঘর জামে মসজিদের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

পরশুরামে সংক্ষিপ্ত সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই রাস্তা দিয়ে যখন আসছিলাম তখন সম্ভবত ১৯৮৪সালে, তখন এই রাস্তা ছিলো না। এরপর এসেছি ১৯৯১সালে আপনাদের নেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণায়। এখন তো শুধুমাত্র নানা বাড়িতে বেড়াতে আসলে হবেনা। আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় একটা দায়িত্ব দিয়েছেন। মানুষের জন্য, জনগণের জন্য ও নানা বাড়ির জন্য কাজ করতে হবে। বিএনপি জনগণের দল হিসেবে জনগণের কাজ করছে। সেই জন্য নদী খনন, খাল খনন করা এই দেশের জন্য বেশি প্রয়োজন। এই এলাকার মানুষ বেশি উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪হাজার মেট্টিকটন ধান বেশি উৎপাদন হবে। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। আমরা বলেছিলাম বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আমরা কৃষি ঋণ মওকুফ করবো। সেই কৃষি ঋণ আমরা মওকুফ করেছি। আজকে মা বোনদের ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড পেলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।

তিনি আরো বলেন, শুধু কৃষি ঋণ মওকুফ করিনি। শুধুমাত্র খাল খনন করে শেষ নয়। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দেশের সব কলকারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওইসব কলকারখানা চালু করা হবে। এই পরশুরামে যে ৫০বেড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়েছে সেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৩০বেড দিয়ে শুরু করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া ৫০বেড করেছেন। এসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০বেড করা হবে। আর পরশুরাম হাসপাতাল ১৫০বেড করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এদেশে কিছুকিছু দুষ্ট মানুষ অশান্তি করার চেষ্টা করছে। আমরা তা করতে দিবো না। কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা ছিল। ১৯৭১সালে তাদের ভূমিকা কি ছিল। তারা তখন মা বোনকে কি করেছে তা মুরুব্বিরা দেখেছেন। গুপ্তরা এখনো সেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আজকে সময় এসেছে এদেশের মানুষ কাকে দেশের ক্ষমতায় রাখতে চায়। আপনারা অন্যকে নচিয়ত করছেন অথচ আপনারা মা বোনকে কি করছেন সেটা মানুষ দেখছে। নির্বাচনের সময় আমরা দেখেছি তারা টিকিটের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। প্রিয় মা বোন ও ভাইয়েরা আপনারা সমর্থন দিয়েছেন বলে আজ আমরা ক্ষমতায় এসেছি।

পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সভাপতিত্বে ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, নারী সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ও পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক প্রমুখ। পরে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনেন এবং তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে জেলায় সেরা ফলাফল করলেই খালেদা জিয়া মহিলা কলেজকে জাতীয়করণ করা হবে বলে জানান।

নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী

পথে পথে দলীয় নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী মহিপালের প্রবেশের পর স্বাগত জানান নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা তার গাড়ি বহরে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় প্রধানমন্ত্রীও হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর যখন শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে প্রবেশ করে তখন সড়কে দাড়িয়ে থাকা উচ্ছাস্বিত সাধারণ মানুষও তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর ট্রাংক ও একাডেমি হয়ে সদর হাসপাতাল মোড় পৌঁছালে সেখানে জেলা যুবদল তাঁকে স্বাগত জানান। এসময় নেতাকর্মীদের ভিড়ে গাড়ি বহর থমকে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরিয়ে দেয়। পরে আবার কিছুদূর গেলে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। এছাড়া পরশুরাম ও ফুলগাজী সড়কের কাজিরবাগ, আনন্দপুর, মুন্সিরহাট, ফুলগাজী বাজার থেকে শুরু করে পরশুরাম পর্যন্ত নেতাকর্মীরা রাস্তার পাশে সারিতে দাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!