জুন ৬, ২০২৬ ০৫:১৯

আলু বোখারা উৎপাদনে সফল ফেনী হর্টিকালচার সেন্টার

নিজস্ব প্রতিনিধি :
ফেনী শহরতলীর পাঁচগাছিয়ায় অবস্থিত হর্টিকালচার সেন্টার আলু বোখরা উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে। এতে করে দূলর্ভ এ মসলা জাতীয় ফল ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাক্তি ও বানিজ্যিক ভাবে চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষি উদ্যেক্তাদের।

বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন, আকিকা সহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে পোলাও, বিরিয়ানি, মুরগির রোস্ট, খাসির রেজালা, আচারসহ নানা পদের খাবারে মসলা হিসেবে আলুবোখারা ব্যবহৃত হয়। স্বাদে ভিন্নতা আনতে মসলাজাতীয় এ ফলের বহুবিধ ব্যবহার আছে। ফলটি ব্যাপকভাবে পরিচিত হলেও দেশীয় পরিবেশে এ ফলের গাছ খুব একটা দেখা যায় না। ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শুকনা বা প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় আলুবোখারা এ দেশে রসনাবিলাসীদের পাতে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষিপ্তভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ির আঙিনায় কেউ কেউ আলুবোখারা গাছ রোপণ করছেন। কেউ কেউ সফলও হয়েছেন। তাদেরই একটি স্থান হচ্ছে ফেনী হর্টিকালচার সেন্টার।

জেলা হর্টিকালচার সেন্টারের উপ পরিচালক নয়ন মনি সূত্রধর জানান, মূল্যবান এ মসলা জাতীয় ফল প্রথম আবস্থায় ২০২০ সালে ৩ টি মাতৃ গাছ পাকিস্তান থেকে সংগ্রহ করে পরিক্ষামূলক ভাবে চাষ শুরু করে। এতে ৩ টি গাছ সফল ভাবে বেড়ে উঠে ও গাছে ফুল ফল আসে।

তিনি আরও জানান, গত ৪ বছরে ৩টি গাছ থেকে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে ৫০টি চারা উৎপাদন করে তা কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৩টি গাছে ফল উৎপাদন হচ্ছে। আগামীতে আরো বেশী পরিমানে চারা উৎপাদন করে উচ্চ মূল্যের মসলা ফসলের বিস্তার ঘটানো হবে। এতে করে দেশীয় ভাবে উৎপাদিত এ ফলের চাহিদা পূর্ণ হবে।

তিনি জানান, যে কেউ নিজের বাড়ির আঙিনায় লাগানো একটি আলুবোখারা গাছ থেকে বছরে নিজের পরিবারের চাহিদা মতো ফল সংগ্রহ ও তা বাজারে বিক্রি করতে পারবে। ভালো মাটি ও আলো বাতাস পেলে একটি গাছ থেকে ১৫/২০ কেজি ফল পাওয়া যাবে। কোনোটির রং লাল, কোনোটি গাঢ় খয়েরি। মাঝারি আকারের বরইয়ের মতো দেখতে আলুবোখারা ফলগুলো গাছের ডালের অগ্রভাগে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকে। ফলগুলো পুরোপুরি গোলাকার হলেও বোঁটা থেকে শেষ পর্যন্ত এক পাশে কিছুটা খাঁজকাটা। পাকা অবস্থায় টক-মিষ্টি এবং পাকার শুরুতে স্বাদ কিছুটা আমলকীর মতো। পুরোপুরি গাঢ় খয়েরি হলে ফলটি পেকেছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে আলুবোখারা গাছে ফুল আসতে শুরু করে। এরপর জুন মাসের শুরুর দিকে গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা যায়। গাছে ফুল ধরা শুরু করলে সব পাতা ঝরে যায়। এসময় ফুলভর্তি গাছ অন্য রকম সৌন্দর্য ছড়ায়।

তিনি আরো বলেন, ফেনী হটিকালচার সেন্টারে আমরা আপাতত আলু বোখারা চারা উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছি এবং কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করছি। যেহেতু মাতৃগাছগুলো থেকে কলম সংগ্রহের জন্য প্রতিবছর কাটা হচ্ছে তাই ফল আপাতত কম আসছে। তারপরও এখানে অন্তত এক মন ফল বছরে উৎপাদন হয় বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!