জুন ৬, ২০২৬ ০১:৫৫

সোনাগাজীতে একমাসে কুকুর ওসাপের কামড়ে ১৫২জন আহত

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সোনাগাজীতে বেওয়ারিশ ও পাগলা কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে শীতের মধ্যে সাপের কামড়ে আহতের সংখ্যাও বেড়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে অন্তত ১৪২ জন এবং সাপের কামড়ে ১০ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা (স্যাকমো) মো: সাদেকুল করিম গতকাল শনিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


চলতি মৌসুমে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার চর চান্দিয়া, সোনাপুর, চর ডুব্বা, উত্তর চর চান্দিয়া, আদর্শগ্রাম, চর সাহাভিকারী, আড়কাইম, চর মজলিশপুর, কুঠিরহাট, চাঁন্দলা, বাদুরিয়া, দৌলতকান্দি, চর গণেশ, সুলাখালি, বাদামতলী, সাহাপুর, সুজাপুর, আহম্মদপুর, চর কৃষ্ণজয়, ভোরবাজার, মজুপুর, সাতবাড়িয়াসহ আরও কয়েকটি এলাকায় বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। একই সঙ্গে শীতে বনে-বাদাড়ে এবং গর্তের মধ্যে উষ্ণতা না পেয়ে মানুষের ঘরে ও চলাচলের এলাকায় সাপের উপদ্রবও বেড়েছে।


চর সোনাপুর এলাকার এক শিশুর মা ফাতেমা খাতুন বলেন, গতকাল শনিবার সকালে তিনি বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন। তাঁর পাশে বসে ছিল তাঁর মেয়ে। হঠাৎ একটি কুকুর এসে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ডান হাতে কামড়ে দেয়। এ সময় তিনি লাঠি দিয়ে পিটিয়ে কুকুরটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। পরে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা ও সরকারি ভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় বাইরে দোকান থেকে কিনে দিয়ে তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
উপজেলার চর সাহাভিকারী এলাকার কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, গত শুক্রবার রাতে তিনি ফসলের মাঠে হয়ে স্থানীয় বাজারে যাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ ছোট একটি সাপ এসে তাঁর পায়ে কামড় দেয়। তিনি দেরি না করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সাপের কামড়ের ভ্যাকসিন নিয়েছেন। পরীক্ষায় দেখা যায় সাপটি তেমন বিষধর ছিল না বলে তিনি এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গেছেন।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে ১৪২ জন কুকুরের কামড়ে এবং ১০ জন সাপের কামড়ে আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন হাসপাতাল থেকে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আহত চারজন রোগী হাসপাতালে এসেছে। সরকারি ভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় আহতদের বাইরের ফার্মেসী থেকে কিনে কুকুরের কামড়ের বিষক্রিয়া থেকে হওয়া র‌্যাভিস রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক থেকেও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পৌরশহরের ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, খাবারের জন্য কুকুরগুলো বেপরোয়া হয়ে মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। বেওয়ারিশ কুকুর দমনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ করেন।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা (স্যাকমো) মো: সাদেকুল করিম বলেন, হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ না থাকায় কুকুরের কামড়ে আহত অনেক রোগী বর্তমানে হাসপাতালে কম আসে।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গত প্রায় দেড় বছর ধরে হাসপাতালে কুকুরের কামড়ে আহতদের জন্য ভ্যাকসিন (জলাতঙ্কের) সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে সাপের কামড়ে আহত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও টিকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আহতদের নিয়মিত ওষুধ ও টিকা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। শিয়াল, কুকুর ও সাপসহ যে কোনো প্রাণী কামড় দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় শরীরে বিষ ছড়িয়ে রোগীর জীবনহানির সম্ভাবনা থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!