নিজস্ব প্রতিনিধি :
ফেনীতে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং ও গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। দিন-রাত শহর কিংবা গ্রাম কোথাও বিদ্যুতের স্থিতিশীল সরবরাহ নেই। এতে অনেকে ঘুমহীন রাত কাটাতে হয়।
বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লোডশেডিং অসহনীয় মাত্রায় চলছে। বিদ্যুতের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন তারা। অনেক এলাকায় এক ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকার পর দেড়-দুই ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছেনা। কোনো কোনো এলাকায় আরো বেশিসময় লোডশেডিং করা হয়।
তারা আরো জানান, বিদ্যুতের সমস্যায় নিয়মিত কাজকর্মের ব্যাঘাত ঘটায় উপজেলার ব্যবসায়ী, কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন। বিদ্যুতের সমস্যায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। চলমান এসএসসি পরীক্ষার সময় কেন্দ্রগুলোতে লোডশেডিং না হলেও গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং এ নাভিশ্বাস। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শিক্ষার্থীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শহরের পাড়া-মহল্লা ও গ্রামাঞ্চলের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, দোকানপাটে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা মালামাল নষ্ট হচ্ছে। অনেক দোকান সন্ধ্যার পর বন্ধ করে দেয়া হয়। রাতের বেলায় কিছু দোকান খোলা রাখলেও ক্রেতাশূণ্য হয়ে যায়।
শান্তিধারা আবাসিক এলাকার আনোয়ার উল্যাহ সড়কে বসবাস করেন বেসরকারী চাকুরীজীবি মঈনুল ইসলাম। তিনি জানান, গত ক’দিন ধরে লোডশেডিং বেড়ে চলছে। দিনের চেয়ে রাতের বেলায় বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। এতে করে তিন শিশুসন্তান নিয়ে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
ফেনী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন মাহমুদ শামীম ফরহাদ জানান, ফেনী জেলায় পিকআওয়ার-অপ পিকআওয়ারে ৩০-৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে ৩-৪বার লোডশেডিং করা হচ্ছে।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মুহাম্মদ নুরুল হোসাইন জানান, ধীরে ধীরে লোডশেডিং কমিয়ে সহনীয় মাত্রায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ফেনী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, ফেনী জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমে আসবে বলে তিনি জানান।