জুন ৬, ২০২৬ ০০:৪৪

ফুলগাজীর জগতপুরে ঝুঁকিতে সাঁকো পারাপার

নিজস্ব প্রতিনিধি :

ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ও কালিরহাট ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের একমাত্র যাতায়াতের পথ মুহুরি নদীর উপর প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার হতে হয়। এতে দরবারপুর ইউনিয়নের জগতপুর ও শ্রীচন্দ্রপুর এবং আমজাদহাট ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের শত শত কৃষকদের চরম ভোগান্তি ও কষ্ট পোহাতে হয়।


সরেজমিনে জানা গেছে, দরবারপুর ইউনিয়নের জগতপুর ও শ্রীচন্দ্রপুর এবং আমজাদহাট ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের বসবাস। এরমধ্যে জগতপুর ও শ্রীচন্দ্রপুরের কৃষকদের জমি নদীর পূর্ব পাশে ধর্মপুর অংশে এবং ধর্মপুরের অনেক পরিবারের জমি এপাশে। পশ্চিমে জগতপুর ও শ্রীচন্দ্রপুর অংশে পড়েছে। ধর্মপুরে জমির পরিমাণ প্রায় ১শ ২০ একর ও জগতপুরে জমি প্রায় ৫০ একর। যাতায়াতে ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে তাদের সাঁকো পার হতে হয়। এরমধ্যে অনেকসময় নদীর পানি বেড়ে গেলে সাঁকো ডুবে যায়। ফলে দুই পাড়ের কৃষকদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে পরিবহন যাতায়াতে অনেককে বাড়তি খরচ গুনতে হয়।


মিজানুর রহমান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “এখানে আমাদের নদী পারাপারে মানুষের অনেক কষ্ট হয়। নদীর ওপাশে অনেক জমি। অনেকে ব্রীজ না থাকায় কৃষি কাজ করতে দিনদিন আগ্রহ হারাচ্ছেন। সাময়িক যাতায়াতে স্থানীয়রা একটা সাঁকো তৈরি করছে। সাঁকো দিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। তাও বেশি পার হওয়া যায় না। এ কারণে কৃষিতে অনেকে অনীহা প্রকাশ করতেছে।”


স্থানীয় কৃষক কামাল হোসেন বলেন, “আমার বাড়ি নদীর পাশে। ছোটকাল থেকে দেখে আসছি আমাদের এখানে লোকজন সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। পূর্বপুরুষরা আরো অনেক কষ্ট করছে। আমরাও কষ্ট করতেছি। এ সাঁকোর উপর আমরা পুরোপুরি নির্ভরশীল। কিন্তু এখানে যে পরিমাণ কাঁদা আমরা খুব ঝুঁকি নিয়ে পার হই।”
কবির আহমেদ নামে আরেক কৃষক বলেন, “এখানে মরিচ, করলা, কুমড়াসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করে থাকি। এ বয়সে কষ্ট করে সাঁকো দিয়ে আসতে হয়। আমাদের খুব কষ্ট হয়। এখন বর্ষাকালে সে কষ্ট দ্বিগুন হয়েছে। আমরা একটা ব্রীজ চাই। এখানে একটা ব্রীজ হলে আমরা সহজে এখানে আসতে পারবো।”


মুজাহিদ শিপন নামে এক ভুট্টা চাষি বলেন, “আমার সব ভুট্টা বৃষ্টি হওয়ায় এখান থেকে ভালো যোগাযোগ না থাকায় সরাতে পারিনি, ঘুরে পার করতে হয়। এখানে সাঁকো দিয়ে পার করা যায় না। ভুট্টা চাষে আমার ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন ২০ হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারবো না। ওপাশের ৫শ পরিবারের জমি এখানে। আমরা চাই এখানে একটা ব্রীজ হোক। ব্রীজটি হলে কৃষকদের জন্য সুবিধা হবে।”


আসলাম হোসেন সানি নামে এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের জন্য কষ্ট করতেছি। আমাদের এখানে এপারে দুইটা গ্রাম মিলে প্রায় ১ হাজার পরিবার আছে। আমরা এপারে যারা আছি তারা ওপারে যাই এবং ওপারের অনেকে এপাশে আছেন। আমাদের ব্রিজ না থাকার কারণে আমাদের অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখানে ওপাশে প্রায় ১শ ২০ একর জমি রয়েছে। সেখানে ধান ও সবজি চাষ করা হয়। আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছি। আমরা এমপি মহোদয়কেও জানিয়েছি যাতে দ্রুত একটি ব্রিজ হয়। আমাদের এলাকাবাসীর একটাই দাবি যাতে কাজটা দ্রুত হয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!