জুন ৬, ২০২৬ ০০:৪৪

‘রুমের কোনায় বালু উঁচু, উপরে প্লাস্টিক ওকাঠ ছিল,তুলে দেখি আমার ভাবির লাশ’

সদর প্রতিনিধি :

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের চোছনায় মঙ্গলবার রাতে রিনা আক্তার (৪০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা করে বালু চাপা দিয়ে মৃতদেহ গুম করা হয়। নির্মানাধীন ওই ঘরের একটি কক্ষ থেকে পুলিশ রাতে লাশ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।


পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও স্থানীয়দের ধারনা, সাইফুল ইসলাম নামে এক নির্মাণ শ্রমিক ওই গৃহবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মৃতদেহ বালুচাপা দিয়ে রাখে। রিনা আক্তারের স্বামী মো. মানিক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে রয়েছেন। সাইফুল ইসলাম (৩০) নির্মাণ শ্রমিক ছাড়াও সিএনজি অটোরিক্সা চালক বলে এলাকাবাসী জানান। সে পার্শ্ববর্তী জমিদার বাড়ির আবুল খায়েরের মেজো ছেলে।


পুলিশ, এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রিনা আক্তার দীর্ঘদিন যাবৎ ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দেড়শ গজ দূরে নতুন বাড়িতে পাকা ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। মঙ্গলবার বিকালে নির্মানাধীন ঘরে পানি দিতে যান রিনা। দীর্ঘ সময়েও বাসায় ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি করে স্বজনরা।
একপর্যায় নির্মানাধীন ঘরের একটি কক্ষে বালুর স্তুপ দেখে সন্দেহ হলে বালু সরাতে শুরু করলে রিনা আক্তারের মরদেহ দেখতে পান। স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।


রাতেই খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি ও ক্রাইম) মো. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম সহ পুলিশ কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।


ফেনী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা মরদেহটি উদ্ধার করেছি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। সাইফুলকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি ও ক্রাইম) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে পিবিআই এর একটি টীম ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে। অপরদিকে সাইফুলের স্ত্রী প্রমা (২৬) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বাড়ি গিয়ে মাকে ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। জানতে চাওয়া হলে তা মা আলেয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলে দীর্ঘদিন আমার সাথে ছিল না। সে আমাদের খোঁজখবর নিতোনা। সে মঙ্গলবার সকালে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।”


নিহতের ছোট ছেলে রাজু (১২) এর বর্ণনা মতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মাকে বাসায় না পেয়ে তাদের নির্মানাধীন বাড়িতে খুঁজতে যায়। সেখানে গিয়ে দেখেন সাইফুল নামের একজন শ্রমিক কাজ করছে। তার মায়ের বিষয় জানতে চাওয়া হলে সে দেখেননি বলে জানান। তখন সাইফুল ওই রুমে বালুর কাজ করছে বলে রাজু জানান।
নিহতের ননদ পারভিন জানান, “রাজু তার মাকে খুঁজতে আমার কাছে আছে। প্রথমে আমি আরো দেখতে বলি৷ পরে আমার ভাই বিদেশ থেকে কল দিলে আমি লাঠি একটা খুঁজতে বের হই। একা বাড়ি, হয়তো সাপে কামড় দিয়েছিল কি না এ জন্য ঘরে খুঁজতে যাই।আমি খুঁজাখুঁজি করে ওই কক্ষে গিয়ে দেখি কোনায় বালু কিছুটা উঁচু। উপরে প্লাস্টিক ও কাঠ ছিল। ওগুলা তুলে দেখি আমার ভাবির লাশ।”


স্থানীয়রা জানান, ঘটনায় জড়িত সাইফুল ইসলাম ওখানে গিয়ে মাদক সেবন করতো। তার সাথে একই বাড়ীর সাজু নামে একজনও থাকতেন। তারা ওই ঘর নির্মাণে কাজ করতো। ইব্রাহিম নামে এক ঠিকাদারের অধীনে তারা কাজ করতো।


নির্মানাধীন ঘরটির আশেপাশের পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘরের রড থেকে শুরু করে নির্মাণ সামগ্রী চুরি হওয়া নিয়ে সাইফুলের সাথে রিনার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এছাড়া সাইফুল ও তার সহযোগীরা সেখানে মাদক সেবন করায় কয়েকবার বাধাও দেয় রিনা। এসব নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল রিনাকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!