জুন ৬, ২০২৬ ০০:৪৪

ফেনীতে কুরবানির জন্য প্রস্তুত ৯০ হাজার পশু


* চাহিদার তুলনায় প্রায় ৮ হাজার পশু বেশি রয়েছেন
* এবার জেলার বসছে ১শ ২৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী হাট
* সীমান্ত প্রবেশ ঠেকাতে প্রস্তুত বিজিবি
* হাটের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও জাল টাকা রোধে কঠোর প্রশাসন


নিজস্ব প্রতিনিধি :

পবিত্র ঈদুল আজহায় ফেনীতে কুরবানির জন্য ৯০হাজার ৪শ ৫২পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এবারে জেলায় চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ৯শ ২৭টি পশু বেশি রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে পশুর পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ৫ হাজারের বেশি।


জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার কুরবানির জন্য জেলার ৬ টি উপজেলায় গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ৫শ ২৫টি। এরমধ্যে ৯০ হাজার ৪শ ৫২টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় ৭হাজার ৯শ ২৭টি বেশি রয়েছে। এরমধ্যে জেলায় গরুর রয়েছে ৭১ হাজার ৫শ ৬৯টি, ছাগল রয়েছে ১৩ হাজার ২শ ২৯টি, মহিষ রয়েছে ১ হাজার ৭শ ৩৫টি ও ভেড়া রয়েছে ৩ হাজার ৯শ ১৯টি।


গবাদিপশুর সংখ্যায় উপজেলা ভিত্তিক তথ্যে এগিয়ে রয়েছে ছাগলনাইয়া উপজেলা। উপজেলায় পশুর সংখ্যা ২৪ হাজার ৩শ ৬০টি। এরপর রয়েছে ফেনী সদর উপজেলা। এ উপজেলায় গবাদিপশু রয়েছে ২২ হাজার ৪শ ১৫টি। এছাড়া সোনাগাজী উপজেলায় রয়েছে ১৮ হাজার ৩শ ৭৫টি, দাগনভূঞা উপজেলায় রয়েছে ৮ হাজার ৮শ ৭৫টি, পরশুরাম উপজেলায় রয়েছে ৮ হাজার ৩শ ৭৮টি ও ফুলগাজী উপজেলায় ৮ হাজার ৪৯টি।


সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, জেলার ৬ উপজেলায় এবার স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে বসছে ১শ ২৯টি হাট। এরমধ্যে অস্থায়ী হাট বসছে ১শ ১৪টি ও স্থায়ী হাট বসছে ১৫টি। এরমধ্যে অস্থায়ী হাটের মধ্যে ফেনী সদর ও পৌরসভায় বসেছে ৪২টি, ছাগলনাইয়া উপজেলা ও পৌরসভায় ১৫টি, ফুলগাজী উপজেলায় ৭টি, পরশুরাম উপজেলায় ৮টি, দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌরসভায় ১৯টি এবং সোনাগাজী উপজেলায় ২১টি পশুর হাট ইজারা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ৩৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।


জেলার ৫ হাজার ৪শ ৭টি খামারে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতি। খামারিরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার ভালো লাভ করার আশাবাদী তারা।


৬০ থেকে ৭০টি গরু লালন-পালন করেন হাসিনা এগ্রোর সত্বাধিকারী আরাফাত খান। এবারে ভালো লাভের আশাবাদী সে। এবারে প্রতিটি ছোট থেকে বড় গরুর পিছনে খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার দাবী, “এবছর খরচ বেড়েছে। খাদ্যের দাম বাড়ায় প্রতিটা গরুর পিছনে খরচ বাড়ছে। ছোট গরুর পিছনে ২০ হাজার ও বড় গরুর পিছনে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ বাড়ছে।”


৪ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল এমএম জিল্লুর রহমান বলেন, কুরবানীর পশুর চামড়া পাচার রোধকল্পে সীমান্ত এলাকায় পাহারা জোরদার করা হবে।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, আসন্ন ঈদুল আযহার কুরবানীর পশুরহাট কোনভাবেই সড়ক-মহাসড়কের উপর করা যাবেনা। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পশু বিক্রেতাদের নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। বাজারে জাল টাকা ব্যবহার রোধ করতে তফসিলভূক্ত ব্যাংক সমূহের সহযোগিতা নিয়ে পর্যাপ্ত মেশিন রাখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!