নিজস্ব প্রতিনিধি : চব্বিশের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফেনী শহরের মহিপালে বর্বরোচিত ব্রাশফায়ারে নিহত কলেজ ছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় চার্জশীটভুক্ত আসামীর জামিন দিয়েছেন আদালত। গতকাল রবিবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ এর বিচারক মাশফিকুল হক এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ খবর জানাজানি হলে শহীদের পরিবার, জুলাই যোদ্ধাসহ সর্বত্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান জানান, মাসুম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী ফুলগাজীর যুবলীগ নেতা সোহেলকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ২২১ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার এসআই আলমগীর হোসেন ওই মামলার চার্জশীট জমা দেন। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও রয়েছেন। গত প্রায় তিন মাস আগে গ্রেফতার হয়ে চার্জশীটভুক্ত আসামী সোহেল কারাগারে রয়েছেন।
পিপি মেজবাহ উদ্দিন আরো জানান, গতকাল রবিবার আদালতে সোহেলের পক্ষে জামিন আবেদন করেন এডভোকেট সাইফুল্লাহ রাসেল সহ কয়েক আইনজীবী। চার্জশীটভুক্ত আসামী হওয়ায় সোহেলকে জামিন দিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রবল বিরোধীতা করলেও বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা মামলার ফেনীর আদালতে এটিই প্রথম কোন চার্জশীটভুক্ত আসামী জামিন পেয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিলে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে মহিপালে আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সশস্ত্র হামলায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মাসুম। তাকে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের তিনদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট মারা যান মাসুম।
মাসুম সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তোরাব পাটোয়ারী বাড়ির মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে ও ছাগলনাইয়া উপজেলার আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। এ ঘটনায় ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪শ-৫শ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় এজাহারনামীয় ১২ জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মুরাদ হাসান বাবুসহ তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এদিকে মাসুম হত্যা মামলার চার্জশিট ভুক্ত আসামির জামিনের খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা জানান, এ ঘটনা নজিরবিহীন। আইনজীবীদের মাঝেও এনিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।
জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, “ছাত্র হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামির জামিন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া জরুরি।”