নিজস্ব প্রতিনিধি : ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের বোগদাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল হক কে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে পদত্যাগপত্রে লিখিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এঘটনায় সৈয়দ মিজানুর রহমান ও কামরুল হাসান হারুনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২জনের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগি প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কামরুল হাসান হারুন ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান সভাপতি প্রার্থী এবং সৈয়দ মিজানুর রহমান সক্রিয় কর্মী।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে বোগদাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী নওশীদ হামিদা স্বপ্না ও আঞ্জুমান আক্তার প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যায়। তাদের একজন সংশোধিত রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখার জন্য এবং অপরজন ছুটির জন্য সেখানে যায়। প্রধান শিক্ষক কম্পিউটারে সংশোধিত রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখার পর ছুটি দেয়া হবে না জানিয়ে তাদের শ্রেণিকক্ষে চলে যেতে বলেন।
প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল হক অভিযোগ করেন, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিজানুর রহমান ও হারুন বিষয়টি মিথ্যাভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর বিকালে তারা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে মিথ্যা দোষারোপ করেন। এসময় ওই দুই শিক্ষার্থীকে মিথ্যা কথা বলার জন্য শেখানো হয়েছে বলেও প্রধান শিক্ষক দাবি করেন।
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশ ও মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এমন বক্তব্য লিখিয়ে নেয়া হয়। এ সময় তাকে ধাক্কা দিয়ে নাজেহাল, অপমান ও অপদস্থ করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এছাড়া বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয় নিলে ওই দুই শিক্ষার্থী অথবা অন্য কাউকে দিয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মাহবুবুল হক। একইসঙ্গে তাকে বিদ্যালয়ে যেতে নিষেধ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসান বলেন, ‘আমরা পদত্যাগপত্র পেয়েছি। ছাত্রীদের অভিযোগও শুনেছি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের আপত্তির বিষয়টিও এসেছে। এ কারণে আমরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়েছি। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছি।’
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা প্রধান শিক্ষকের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি তদন্তের জন্য বোগদাদিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠানো হয়েছে।’
জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাং আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক অপরাধ করে থাকলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে হবে। মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য যে বিধি রয়েছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষেই আমরা। কোনো সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রধান শিক্ষকের কাছে এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সভাপতি বরাবর অভিযোগ দিতে হবে। কিন্তু কোনো বিধি না মেনে যেভাবে লোকজন জড়ো করে পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেয়া হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই।’
সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও বিষয়টি এমপি মহোদয়কে জানানো হয়েছে। সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে যুবদল নেতা কামরুল হাসান হারুন কে একাধিকবার কল দেয়া হলে তাকে পাওয়া যায় নি।