অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৩:৪১

পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ


ঢাকা অফিস : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জলবায়ু সহনশীলতা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অর্থায়ন ও কার্বন মার্কেটে বাংলাদেশের প্রবেশে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইউএনডিপির মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ করে জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশ প্রণীত অর্থায়ন পরিকল্পনা (বিআইওএফআইএন), নিম্ন-কার্বন উন্নয়নে ন্যাশনাল কুলিং প্ল্যান (এনসিপি), জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও অভিযোজন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় অভিযোজন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্থানীয় বাস্তবতা নির্ভর ও ফলাফলমুখী করতে হবে। একইসঙ্গে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নিজস্ব সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কাজ করছে। তবে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সহজপ্রাপ্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউএনডিপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে বাংলাদেশ আরও বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ করতে চায়।
প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার ও জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল, চরাঞ্চল, পার্বত্য এলাকা, হাওর এবং খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান এবং জলবায়ু-সহনশীল জীবিকার কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অধিক অর্থায়ন সংগ্রহে ইউএনডিপির কারিগরি সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্টিফেন রড্রিকস বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে ইউএনডিপির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, জলবায়ু অভিযোজন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য মোকাবিলা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে আগ্রহী ইউএনডিপি।
সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত ও অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে সফল উদ্যোগগুলো বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দিতে ইউএনডিপি প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।
উভয়পক্ষ চলমান যৌথ প্রকল্প গুলোর বাস্তবায়ন আরও গতিশীল করতে একমত হন। একই সঙ্গে জলবায়ু অভিযোজন, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অর্থায়ন, উষ্ণতা হ্রাসকরণ, বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও কার্বন ক্রেডিটকে কেন্দ্র করে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!