কিশান মোশাররফ :
ফেনী মডেল থানার পাশে বিশালাকারের পুকুরটি কচুরিপানায় ভরাট হয়ে পরিত্যাক্ত এবং বিষাক্ত হয়ে উঠছে। শহরের মধ্যস্থলে প্রশাসনিক নানাবিধ দপ্তরের চোখের সামনে এমন নরক কান্ড প্রকৃতির প্রতি বিদ্রুপাত্মক উপহাস ছাড়া কিছু নয়। ফেনী শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে উত্তর দিকে কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের পূর্বপার্শস্থ মধ্যবতী স্থানে পুকুরটির অবস্থান। সড়ক সংলগ্ন পুকুরের দক্ষিণ ও পূর্ব অংশে ফেনী মডেল থানা, পশ্চিমে কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ড সড়ক এবং উত্তরে কৃষি ব্যাংক ও পরিত্যাক্ত আবাসিক ভবন লাগোয়া ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতাল।
পুকুরটির জলাশয়ের অংশ প্রায় ১০০ শতকের উপরে হবে এবং পাড়সহ এর বিস্তৃতি দেড়শ শতক হবে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মত। দীর্ঘদিন পুকুরটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না রাখার ফলে পুরো পুকুরটি কচুরিপানায় ভরে গেছে। পুকুরটি পরিত্যক্ত থাকার ফলে এর পশ্চিম পাড়ের যত্রতত্র নিরাপদ ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রে যার যেমন ইচ্ছে ময়লা ফেলে যাচ্ছে কিন্তু এসব দেখার কেউ নাই।
সরেজমিন দেখে মনে হয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এই স্থান থেকে ময়লা সংগ্রহ করে বলে মনে হয়নি। চলাচলকারী পথচারী থেকে শুরু করে রিকশা ড্রাইভার তথা হকার শ্রেণীর মানুষজন মলমূত্র ত্যাগ করছে। পঁচা ময়লা আবর্জনা ও মলমূত্রের গন্ধে রাস্তার পাশ দিয়ে চলাচল করা যায়না। আবার পঁচা ময়লা, ময়লার পানি মিশছে পুকুরের পানিতে। সরেজমিন পুকুর পাড়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দেখাগেছে ভ্রাম্যমাণ কতক হকার ময়লা পানিতে শাক-সবজি ও মাছ দৌত করছে। এইসব ময়লা পানি মিশ্রিত শাক-সবজি, মাছ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে হোটেল, বাসা-বাড়িতে। নিজেদের অজান্তেই মানুষজন রোগজীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে। যা হয়তো স্বাভাবিক ভাবে কারো নজরে আসছেনা। দরিদ্র শিশুরা ময়লার ভাগাড়ে এটাওটা খুঁজতে নামছে। শহরের উপর এমন চিত্র বেদনাদায়ক ও অমানবিক।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, পুকুরটি তার মতে পরিত্যক্ত নয়। ইতিমধ্যে দুইবার এর কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়েছে কিন্তু অল্প সময়ে দ্রুত নতুন কচুরিপানা জন্মায় এবং পুকুরকে আচ্ছাদিত করে ফেলে। পুকুরটি স্বচ্ছ এবং পরিস্কার রাখতে পুণরায় কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।
পুকুরটির বর্তমান অবস্থা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ফেনী হার্ট ফাউন্ডেশনের হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শাহনেওয়াজ সিরাজ মামুন বলেন. পুকুরের এমন অবস্থা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বাতাসে ক্ষতিকর দুঃগন্ধ ও দূষণ চড়াচ্ছে। যা পথচারী নারী ও শিশুদের জন্য বেশি হুমকি। যারা মলমূত্র ত্যাগ করে তারা পরিবেশের যেমন ক্ষতি করছে অন্যদিকে নিজেরা মারাত্মক মূত্র সংক্রমন রোগে আক্রান্তের ঝুঁকিতে পড়ছে। অচিরেই এটিকে সংস্কার করা দরকার।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রামীণ প্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এমন চিত্র অত্যন্ত লজ্জার। এমনিতেই শহর গুলো পুকুর শূণ্য হয়ে পড়ছে। সেখানে এতো বড় একটি পুকুর, যার পাড়ে মডেল থানাসহ সরকারি বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় ও স্থাপনা। অতিশীঘ্রই এটিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে এর আশপাশ স্থায়ীভাবে পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
ফাইন আর্টস ফোরাম ফেনীর সভাপতি চিত্রশিল্পী কাজি গোলাম কিবরিয়া বলেন, আন্ধি পুকুর, বড় মসজিদের সামনের পুকুর হারিয়ে গেছে। শহরের মধ্যস্থলের এই পুকুর যদি ময়লার ভাগাড় হয়, তা দুঃখজনক। পুকুরটি অচিরেই পরিস্কার ও সংস্কার করে এর পাড়ের জায়গা গুলোকে নান্দনিক ভাবে সজ্জিত করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। উন্মুক্ত পাড়ের জায়গাগুলো ফুল- পাতার বাগানে আচ্ছাদিত করলে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।