মো: মহি উদ্দিন, পরশুরাম :
পরশুরাম উপজেলায় চব্বিশের ভয়াবহ বন্যায় মহুরি, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ৪২ টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে পরশুরাম পৌরসভার কোলাপাড়া এবং পরশুরাম বাজার ছাড়া পুরো উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতি হয়েছে হাজার হাজার মানুষ, ক্ষতি হয়েছে ফসল, সড়ক, সেতু দোকানের মালামাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বেড়িবাঁধ সঠিক সময়ে মেরামত না করায় পঁচিশের বন্যায় আবারও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সর্বস্তরের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ২৪ ও ২৫ এর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ এখনো মেরামত করা হয়নি। বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় ভাঙা অংশ দুই বছর পার না হতেই আবারও বৃষ্টি হলে বন্যার আতংকে রয়েছে স্থানীয়রা। আকাশে মেঘ জমলেই নদীরতীরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক দেখা যায়। গত দুই বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই এ বছর আবারও বৈরী আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে। গত ১৫দিনে কয়েকবার কালবৈশাখী ছোবল দেখা গেছে। সাগরের নিম্নচাপ বা টানা বৃষ্টির পূর্বভাস দেখলেই কপালে পড়ছে শঙ্কার ভাঁজ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, কোটি টাকার ব্যয় বেড়িবাঁধ মেরামত হয়েছে। আতংক হওয়ার কিছুই নেই। সরেজমিনে চিত্র ভিন্ন। মির্জানগর ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে ছিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধ চব্বিশের বন্যায় তলিয়ে যায়। ওই বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় ২৫ শে বন্যায় আক্রান্ত হতে হয়েছে স্থানীয়রা। কিন্তু এখনো মেরামততো দূরের কথা যেভাবে ভেঙে যায় এভাবে রয়ে যায়। ভারী বৃষ্টি হলে ভাঙা অংশ দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। পুরো এলাকা ক্ষণিকের মধ্যে প্লাবিত হয়ে যায়।
মির্জানগর ইউনিয়নে কাশিনগর মহুরি নদীর বেড়িবাঁধ মেরামত না করার কারণে ২৫০ পরিবারের মাঝে বন্যার আতংকের মধ্যে জীবন কাটছে। জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কাশীনগর ও চম্পক নগর দুটি স্থানে মহুরি নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙন রয়েছে। আবার একই বেড়িবাঁধের পশ্চিমে ৪৫০ ফুট বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মূখে রয়েছে। ২৫০ পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। আবার বৃষ্টি হলে বন্যার আতংকে স্থানীয়রা।
চিথলিয়া ইউনিয়নে পাকিরখীল গ্রামে একই অবস্থা। স্থানীয় নুরুল ইসলাম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে বেড়িবাঁধ মেরামত হয় না। আমরা প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা ক্ষতি গ্রস্থ হয়ে থাকি চিথলিয়া ইউনিয়নে শালধর গ্রামে বেড়িবাঁধ মেরামত হয়েছে নামকবস্থা। কিন্তু ঠিকাদার লাভবান হলেও বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। ব্যবসায়ী করিম মিয়া জানান, সরকার বড়ো প্রকল্প হাতে নিবে।তখন বেড়িবাঁধ মেরামত করা হবে। এর মাঝে আমাদের বারোটা বেজে যাচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ, ৯০% সড়ক, সেতু, মৎস্য ব্যবসায়ী, কৃষক, প্রতি বছর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
স্থানীয় জসিম উদ্দিন জানান, উপজেলা বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ মেরামত করা না হলে গত দুই বছরের ন্যায় খেত খামার, পুকুরের মাছ, খেতের ফসল, রাস্তা, সেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বৃষ্টির আসবে মেঘ দেখলে সাধারণ মানুষের মাঝে অনেক আতংক দেখা দেয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক জানান, এটা আমার নজরে ছিল না। কিন্তু ভাঙা অংশ মেরামত করার জন্য পানি উন্নয়নের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করতেছি।দ্রুত মেরামতের জন্য চেষ্টা করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সাদিয়া সুলতানা জানান, বেড়িঁবাধ মেরামত করার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামত করতে যোগাযোগ করবো।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে পরশুরাম উপজেলা মুহুরি, কহুয়া, সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধ মেরামত হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ তালিকা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামত করা হবে।