জুন ৫, ২০২৬ ২৩:৪০

ফেনীতে বোরোর বাম্পার ফলনেও খরচ পোষাতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা


নিজস্ব প্রতিনিধি :

ফেনীতে চলতি মৌসুমে বোরো ধান ঘরে উঠাতে ব্যাস্তসময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। সময়মতো বৃষ্টিপাত ও পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার বেশি উৎপাদন হলেও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও শ্রমিক মজুরী বেশি হওয়ায় লাভের আশা তো দূরে থাক খরচ পোষাতে হিমসিম খাচ্ছেন কৃষকরা। ফলে বাম্পার ফলনেও ফেনীর কৃষকদের মন ভালো নেই।


কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬উপজেলায় ৩১হাজার ৪শ ৮হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রার স্থলে আবাদ হয়েছে ৩১হাজার ৪শ ১৭হেক্টর। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৮হাজার ৭শ ৩হেক্টর, ছাগলনাইয়ায় ৫হাজার ৭শ ৪৫হেক্টর, দাগনভূঞায় ৬হাজার ৪শ ৮৫হেক্টর, ফুলগাজীতে ৪হাজার ৭শ ১৯হেক্টর, পরশুরামে ৩হাজার ২শ ৫৫হেক্টর ও সোনাগাজীতে ২হাজার ৫শ ২০হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে হাইব্রীড জাতের ৫হাজার ৭শ ৫৬হেক্টর ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ২৫হাজার ৬শ ৭১হেক্টর ধান আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব মতে শনিবার পর্যন্ত ৮৫% কর্তন শেষ হয়েছে। এপ্রিল এর শেষ দিকে শুরু হওয়া বোরো কর্তন চলতি মাসের শেষ দিকে শেষ হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
ইতিমধ্যে কর্তন হওয়া জমিতে উৎপাদনও লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ চলতি মৌসুমে হাইব্রীড জাতের ধানে হেক্টর প্রতি ৪দশমিক ৭৫মেট্টিক টন উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধার্য্য করে। এর স্থলে উৎপাদন হয়েছে ৪দশমিক ৭৮মেট্টিক টন।


অপরদিকে উচ্চ ফলনশীল জাতেও হেক্টর প্রতি ৩দশমিক ৭৬মেট্টিক টন উৎপাদনের লক্ষমাত্রার স্থলে ৩দশমিক ৭৭মেট্টিক টন উৎপাদন হয়েছে।
সরেজমিন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, মৌসুমের শেষ দিকে ডিজেলের মূল্য বাড়ায় সেচ খরচ বেড়ে যায়। একইভাবে শ্রমিক মজুরীও আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও কৃষকরা আয়-ব্যায়ের হিসাব মিলাতে পারছেন না।


সরকারী হিসাব মতে কেজি প্রতি ধানে উৎপাদন খরচ ২৫.৩৩টাকা ধরা হলেও কৃষকদের হিসাবে এই খরচ ৩০টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কারণ হিসাবে তারা বলছেন সরকারী হিসাবে ৭৫০টাকা করে শ্রমিক মজুরী নির্ধারণ করা হলেও মাঠে শ্রমিকের দাম ক্ষেত্র বিশেষে এর দ্বিগুণও হয়েছে।


পরশুরামের অনন্তপুর গ্রামের কৃষক মো. নয়ন (৪৫) জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে ওই এলাকায় ধান কাটতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। এক্ষেত্রে জনপ্রতি শ্রমিক মজুরী ১৫শ টাকা পড়েছে বলে তিনি জানান। দাগনভূঞা উপজেলার বিভিন্ন স্থানেও ১হাজার টাকার নিচে শ্রমিক পাওয়া যায়নি।


তবে সদর উপজেলায় শ্রমিক মজুরী আগের থেকে বেশি বাড়েনি বলে জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা। লেমুয়া ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শিপন চৌধুরী জানান, এখানে শ্রমিক মজুরী আগের মতোই আছে। তাছাড়া ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবও পড়েনি। ডিজেলের মূল্য বাড়ার আগেই ধান পরিপক্ক হয়ে যাওয়ায় সেচের প্রয়োজন হয়নি। তাছাড়া শেষ দিকে বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচ খরচ কমে গেছে। তিনি জানান, ওই এলাকায় ৯৫% বোরো কর্তন শেষ হয়েছে।


কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আতিক উল্যাহ জানান, অনুকূল আবহাওয়া, পোকাদমনসহ সুষম স্যার ব্যবহারে কৃষি বিভাগের পরামর্শ বাস্তবায়নসহ নানা কারণে এবার জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি বলেন, দিন দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনও যেভাবে বাড়ানো যায় সেই বিষয়ে কৃষকদেরকে যথাযথ পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অধিক ফলনশীল হাইব্রীড জাতের ধান আবাদে কৃষকদের আগ্রহী করতে কৃষিবিভাগের লোকজন মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, এবার জেলায় ব্রি-১০৮ জাতের ধানে সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে। এখানে হেক্টর প্রতি ৩.৮মেট্টিক টন চাল বা ক্ষেত্র বিশেষে আরো বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!