নিজস্ব প্রতিনিধি :
ঠান্ডা-গরমে সোনাগাজীতে হাম, জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীর ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের জন্য ৬টি শয্যা থাকলেও গতকাল রবিবার বিকাল পর্যন্ত ৬০জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি ছিল। ভাইরাস জনিত জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীর ব্যাথা, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৭দিনে ১শ ৬৭জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ২০জন শিশুসহ ৩৫জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভর্তি হওয়া শিশু রোগীদের মধ্যে ৭০শতাংশই হাম, জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীর ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল।
১-৭ বছর বয়সী শিশুর পাশাপাশি রোগীদের মধ্যে নবজাতকও ছিল। গত ৭ দিনে প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে ২২-২৩জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ থেকে প্রায় সাড়ে ছয়শজন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে শিশুসহ প্রায় সাড়ে চারশজন রোগী জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে এসেছেন। গতকাল দুপুরে ১৯ শিশুকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বর্তমানে হাসপাতালে ৬০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিবন্ধন বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭দিনে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত প্রায় ২শ ৪১রোগীকে ভর্তি করা হয়। হামের উপসর্গে ২০জন, ডায়রিয়ায় ৫২জন এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৪৩জন রোগী রয়েছেন। এরমধ্যে শিশু ১শ ৬৭ জন। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় ৯৫জন।
উপজেলার চর খোন্দকার এলাকার ৫ মাসের শিশু নুসাইফার বাবা নিজাম উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তার মেয়ের সর্দি-কাশি জ্বর ছিলো। পরবর্তীতে দুধ খাওয়ানোর পর বমি করতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর থেকে ডায়রিয়া শুরু হয়। শরীরের লাল রঙের গোটা দেখা দেয়। সকালে তাকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা নিরিক্ষা শেষে শিশুটির হামে আক্রান্ত বলে জানান এবং ভর্তি করাতে বলেন।
উপজেলার সোনাপুর এলাকার গৃহবধূ নাজমা আক্তার বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় তেলে ভাজা নাস্তা খাওয়ার পর তাঁর মেয়ে অহনার পেটে সমস্যা দেখা দেয়। এরপর তার কয়েকবার পাতলা পায়খানা শুরু হয় ফার্মেসী থেকে স্যালাইন এনে খাইয়েছি নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালে এনে ভর্তি করান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত স্যাকমো মো. আবদুল কুদ্দুস বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জ্বর, সর্দি-কাশি, হাম ও ডায়রিয়া-নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২৫জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ৭ দিনে ঠান্ডা-গরমজনিত, জ্বর, সর্দি-কাশি, হাম, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় তিন হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালের বর্হিবিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আরমান বিন আবদুল্লাহ প্রেষনে ফেনীর ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সংযুক্ত রয়েছে। এরপর থেকে অদ্যবধি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু বিশেষজ্ঞ কোন চিকিৎসক নেই। বাধ্য হয়ে মেডিকেল অফিসাররাই সব ধরনের রোগীর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগ, জ্বর, সর্দি-কাশি, হাম, শরীর ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শয্যার সংকট হলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও বহির্বিভাগে আসা রোগীদের সেবা দিয়ে সুস্থ করতে চিকিৎসকেরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, প্রতিদিন বর্হিবিভাগে প্রায় ৬শ জনের বেশি রোগী সেবা নিতে আসেন। এর মধ্যে অর্ধেক থাকে শিশু। হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে তাদেরকে হিমশিম খেতে হয়। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট হাসপাতালে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়নের জন্য জোর দাবি জানান।