শহিদুল ইসলাম :
২০০৫ সালের ২২ মার্চ ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও ২০০৬ সালের ৮ আগস্ট উদ্বোধনের মাধ্যমে চালু হয় ফেনী শহরের সালাউদ্দিন মোড় সংলগ্ন জেলার একমাত্র জিমনেসিয়াম মরহুম খায়রুল আনোয়ার পেয়ারু জিমনেসিয়াম। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জেলার ইনডোর খেলোয়াড়দের একমাত্র জিমনেসিয়ামের অবস্থা এখন খুবই জরাজীর্ণ।
টিনের চালে অসংখ্য ফুটো থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এ মাঠ। সংস্কার না করায় খসে পড়েছে দেয়ালের রং। ফাটল ধরেছে ফ্লোর ও কোটের। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ওয়াশরুমও। রয়েছে খাওয়ার পানি ও পর্যাপ্ত আলোর সমস্যাও। এভাবে নানাবিধ সমস্যায় ভুগছে এ জিমনেসিয়াম।
জানা যায়, জেলার এ জিমনেসিয়ামে বিভিন্ন ক্লাবের খেলোয়াড়রা খেলতে আসেন। সরকারি ও ক্লাবগুলোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন টুর্নামেন্ট। ব্যাডমিন্টন ছাড়াও ক্যারাতেও এখানে প্রশিক্ষণ হয়। কিন্তু জিমনেসিয়ামের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে খেলাধুলা নিয়মিত ব্যাহত হয়।
খেলোয়াড়রা জানায়, জেলার একমাত্র এ জিমনেসিয়াম বিকালে ও রাতে শতাধিক খেলোয়াড় নিয়মিত অনুশীলন করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়ে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার ফলে এটি খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে খেলোয়াড়দের খেলতে অসুবিধা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলার ব্যাডমিন্টন টিমের ম্যানেজার তসলিম হাজারী ফেনীর সময়কে বলেন, “এ জিমনেসিয়ামের ভিতরে যে টিন আছে তা ফুটো হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। খেলা যায় না। এখনো পানি আছে ভিতরে।। ফ্লোরের অবস্থা খারাপ। ফ্লোরটা নষ্ট হয়ে গেছে। বাথরুমের সমস্যা। লকার আছে,তাও সমস্যা। দরজা ভাঙা। অর্থাৎ পুরাটাই সমস্যা। এই যে মাঠ আছে এ মাঠে খেলতে গিয়ে অনেকের পা ভেঙে গেছে। এখন বর্ষাকাল।এখন সংস্কার করা না হলে সামনে খেলা যাবে না।”
ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের অ্যাম্পায়ার তাহসিন ফরহাদ জানান, “ জিমনেসিয়াম জেলা ক্রীড়া সংস্থা তেমন একটা দেখাশোনা করে না। আমরা যারা খেলি তারা নিজেদের পকেট থেকে টাকা-পয়সা দিয়ে আমরা চালাই। এটা দীর্ঘদিন ধরে উপরে যে টিন দেওয়া, টিনশিটে ছিদ্র আছে। এসব ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। বৃষ্টি হলে আমরা খেলতে পারি না। তা পরিষ্কার করতে আধাঘন্টা বা ঘন্টাখানেক লেগে যায়। এছাড়া শৌচাগারে সমস্যা। মোটর থাকলে আমরা পানি খেতে পারি না।”
জানতে চাওয়া হলে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব হীরা আক্তার ফেনীর সময়কে বলেন, “ জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে আমাদের মিটিং হয়েছে। জিমনেসিয়াম এর সংস্কারের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই এর সংস্কার শুরু হবে।”
জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য মো. ফয়েজ করিম ফেনীর সময়কে বলেন , “আমরা অতিসত্বর টিন ও মাঠ সংস্কারে ব্যবস্থা গ্রহন করছি। অন্যান্য সমস্যা সমাধানেরও চেষ্টা চলছে। প্লেয়ারদের জন্য সুন্দর জিমনেসিয়াম উপহার দেওয়ার জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থা করে যাচ্ছে।”
জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির আরেক সদস্য শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক বলেন, “খেলার উপযোগী করে তোলার জন্য জিমনেসিয়ামের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে টিন লাগনোর জন্য বলা হয়েছে ইতিমধ্যে। আমাদের আশা,আমরা ভালো একটা মাঠ উপহার দিবো।”