পরশুরামে ৭ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা ব্যাগ ও গাছের চারা উপহার পেলো শিক্ষার্থীরা ফেনীর সময় এর সাহসী ১৭ উদযাপন
পরশুরাম প্রতিনিধি :
দৈনিক ফেনীর সময় এর ১৬ বছর পেরিয়ে ১৭তম বর্ষে পদার্পন উপলক্ষ্যে পরশুরামে ৭ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেয়া হয়েছে। একইদিন বিভিন্ন স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান।
পরশুরাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি এমএ হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, পরশুরাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবু কাওছার মোহাম্মদ হারেস, পরশুরাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল হাকিম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম খলিল মনি, জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবদুল হালিম, দৈনিক ফেনীর সময় এর নির্বাহী সম্পাদক আলী হায়দার মানিক ও চীফ রিপোর্টার আরিফ আজম।
সাংবাদিক গাজী মাসুদ রানার সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন পরশুরাম পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল আলিম, ফেনী জজ কোর্টের এপিপি আবদুল আলিম মাকসুদ, পৌর জামায়াতের আমির মো: মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শামছুল আলম শাকিল, বিআরডিবির চেয়ারম্যান আবু তালেব রিপন, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক এর উপজেলা সভাপতি ইউসুফ বকুল, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক জহিরুল ইসলাম ও পৌর শাখার সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মিসফাকুস সামাদ রনি, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা যুগ্ম-সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নোমান আল বারী, শ্রমিক দলের সভাপতি আতিকুর রহমান, করাতকল সমিতির সভাপতি আবদুল মঈদ ভূঁইয়া রাজন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক ফেনীর সময় এর পরশুরাম প্রতিনিধি ও পরশুরাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: মহিউদ্দিন।
সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ হলেন- সুবার বাজার ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাজহারুল ইসলাম, কবি শামসুন নাহার মাহমুদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, বেড়াবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুব্রত চৌধুরী, ধনীকুন্ডা হোসনে আরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মুজাহিদ আলী খাঁন, পরশুরাম সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক কেএম সফিউল্লাহ্, ফয়েজুল উলুম মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক হাফেজ আবু ছালেহ ও পূর্ব সাহেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা লিপি চৌধুরী।

‘ফেনীর সময় স্বতন্ত্র বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে’
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেছেন, ‘সৃষ্টির আদিকাল থেকেই যেই দেশ গুণীজনদের সম্মান করেনা সেই দেশে গুণীজন জন্ম হয়না। সৌদি আরবে জোয়ারভাটা দেখা আর সমুদ্রের ঢেউ গোনা ছাড়া কাজ হয়না। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফ্রিকা সহ অন্যান্য মুসলিম দেশের মেধাবী ছেলেরা ইহুদী-খ্রিষ্টানদের সেবা করে। সৌদি আরবের টাকার অভাব নেই। তারা চাইলে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় করে ১০ হাজার ছেলেকে নিয়োগ দিতে পারে। ফেনীর সময় বিষয়টি ভালোভাবে উপলব্দি করেছে। তারা অন্যান্য আয়োজন বাদ দিয়ে গুণীজনদের সম্মান করেছে। এটা নি:সন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’
গতকাল দৈনিক ফেনীর সময় এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা কম হচ্ছে উল্লেখ করে নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর আরো বলেন, ‘২০০৬ সালে একটি জাতীয় গণমাধ্যমে ১২ হাজার কোটি টাকা দূর্নীতির খবর ছেপেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেও সেটি প্রমাণ করতে পারেনি। কিছুদিন ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ দেখেছি। পশ্চিমা পত্রিকায় ইসরাইলের জয়জয়কার অবস্থা। ইরানকে নিয়ে আল-জাজিরা কিছু বলার চেষ্টা করেছে। ইসরাইল সেটি বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা দেখিনি। দেশীয়-আন্তর্জাতিক মিডিয়ার এই যখন অবস্থা তখন ফেনীর সময় গত ১৭ বছর স্বৈরাশাসকের সময়ে স্বতন্ত্র বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সবাই পঁচে যায়নি, সবাই গলে যায়নি। কেউ কেউ টিকে আছে বলেই সমাজ-দেশ এখনো টিকে আছে। আগে পত্রিকা ছিল কম, এখন বেশি। ফেসবুকেও সব খবর পাওয়া যায়। এর বেশিরভাগেরই কোন রেফারেন্স নাই। এসবের মধ্য দিয়ে সহজে গুজব ছড়ায়।’
‘অপসাংবাদিকতার কারনে মহৎ পেশাকে কলংকিত করা হয়েছে’
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব বলেছেন, ‘তিনটি স্তম্ভের উপর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত। আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ। সংবাদপত্র চতুর্থ স্তম্ভ না হলে রাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলে সংবাদপত্র পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। সংবাদপত্রের প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। সাংবাদিকদের মধ্যেও ভালো-মন্দ আছে। মানুষ হিসেবে ভুল-ত্রুটি থাকবে। সংবাদপত্রকে নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। ১৭ বছরে বাকস্বাধীনতা বলতে কিছুই ছিল না।’
গতকাল দৈনিক ফেনীর সময় এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
পরশুরাম পৌরসভার সাবেক এ মেয়র আরো বলেন, ‘সাংবাদিকের সংখ্যা বাড়ছে। তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু প্রফেশনালি হওয়া প্রয়োজন। গুনগত পরিবর্তন হয়ে সত্যিকার সাংবাদিক হওয়া জরুরী। জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকতাও কমার্শিয়াল হয়ে গেছে। দেশের অন্যান্য জেলার থেকে ফেনীর অবস্থা খুবই খারাপ। অপ্রিয় হলেও সত্য- অপসাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতার কারনে এই মহৎ পেশাকে কলংকিত করা হয়েছে।’