আরিফ আজম :
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে ফ্যাসিজম সৃষ্টি হবেনা। কালো টাকা ও পেশিশক্তির রাস্তা বন্ধ হবে। দেশে কোন ফ্যাসিবাদ থাকতে পারবেনা। যতক্ষণ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন না হবে ততক্ষন পর্যন্ত আমরা লড়াই করে যাবো। নির্বাচনের জন্য কিছু জরুরী ও মৌলিক সংস্কার করতে হবে। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করে নির্বাচন হলে সেটি হবে নির্বাচনের জন্য হণহত্যা। এটি আমাদের সন্তানদের রক্তের সাথে বেঈমানী হবে। আমরা বেঈমানী করব না। কাউকে বেঈমানী করতে দেব না। মৌলিক ও জরুরী সংস্কার বাধা দেয়া যাবে না। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে আবার ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে।’
গতকাল শনিবার বিকালে শহরের কিং অব ফেনী কমিউনিটি সেন্টারে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সুধী সমাবেশে জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, হেফাজতে ইসলামের সেক্রেটারী মাওলানা ওমর ফারুক, এনসিপির সংগঠক জাহিদুল ইসলাম সৈকত, আজিজুর রহমান রিজভী ও শাহওয়ালি উল্যাহ মানিক, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এটিএম সামছুল আলম চৌধুরী প্রমুখ আলেম-ওলামা, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিগণ অংশ নেন।
জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুর রহীমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারি সেক্রেটারী মাওলানা আবু তাহের মোহাম্মদ মাছুম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরের উত্তরের সহকারি সেক্রেটারী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামীলীগ সরকার আমাদেরকে উন্নয়নের মহাসড়কের কথা বলেছে। কিন্তু আমরা ওই উন্নয়নের মহাসড়ক দেখিনি। আমরা ২৬ লক্ষ কোটি টাকা পাচারের উন্নয়ন তাদের দেখেছি। রূপপুরে ৭২ হাজার টাকার বালিশ দেখেছি। বিরোধী দল ও মতের উপর দানবীয় নির্যাতন ও বেপরোয়া তান্ডব দেখেছি। তারা জামায়াতের ১ থেকে ১১ নম্বর নেতা পর্যন্ত সিরিয়ালে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে। রিমোট কন্ট্রোল রায় দিয়ে তারা শুধু আমাদেরকে খুন করে নাই, তারা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে খুন করে দিয়েছে। জাহেলী যুগ থেকে এ পর্যন্ত সবসময় যুবকদের হাতেই সমাজ পরিবর্তন হয়েছে। যুবকরাই পরিবর্তনের নিয়ামক। জাতী হিসেবে আমরা আবু সাঈদদের কাছে ঋণী, তাদের বন্ধুদের কাছে ঋণী। তারা জীবন দিয়ে ৫ আগস্টের পরে আমাদের জাতীকে মুক্ত করেছে।’
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দেশে যখন কোন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পুলিশ সদস্য ছিল না। তখন আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় পালাক্রমে ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করেছি। দীর্ঘ ১৫ দিন দায়িত্ব পালনের পর আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘরে ফিরেছি। যখন থানাগুলোতে কাজের কোন পরিবেশ ছিল না, তখন আমরা ২৩২টি থানায় যাবতীয় সরঞ্জাম দিয়ে কাজ শুরু করে পুলিশের সাথে ছিলাম। তাই আপনারা কোন রাজনৈতিক দলের পুলিশ হবেন না। আপনারা নাগরিকদের পুলিশ হন।’
এর আগে দুপুরে একই ভেন্যুতে রুকন সম্মেলনে ডা. শফিকুর প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী সরকার স্বস্তির সাথে জামাতে নামাজও আদায় করতে দেয়নি। মহান আল্লাহ এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এখন সুযোগ দিয়ে পরীক্ষা করছেন। এখনো চলার পথ মসৃণ নয়। দ্বীন কায়েমের সম্ভাবনা যত বেশি ষড়যন্ত্র তত গভীর হবে। সামনের সময় খুব কঠিন। ইসলামী দলগুলোকে টুকরো করে ভাগ ভাগ করা হয়েছে। ইতোপূর্বে ইসলামপন্থীদের মাথায় কাঠাল ভেঙে খেয়েছে। দ্বীন কায়েমের জন্য অন্যের সঙ্গী নয়, নিজেরা নিজেদের সঙ্গী হতে হবে। এটা দেখে অনেকের সাখরাতুল মাওত শুরু হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনগণকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমাদের ভয়কে জয় করতে হবে। মানবিক সমাজ তথা মানুষের অধিকার আদায়ে মানুষের কাছে যেতে হবে। যুবকরা যা চিন্তা করে আমরা সেটা পরিকল্পনা করি। ভুল হলে তালিকা নয়, দরদ দিয়ে সংশোধন করতে হবে। ভালো কাজের তালিকা করে এগিয়ে নিতে হবে। যুবসমাজকে ভালো মানুষ হিসেবে তৈরি করতে হবে। বৈষম্যহীন, ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত ন্যায়-ইনসাফ, শান্তির সমাজ বিনির্মাণে যুবকদের কাছে টেনে নিতে হবে। তাদের চিন্তার সাথে অন্যদের সংঘাত চলছে। এই জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নেয়ার ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে জামায়াতের। আমরা নির্বাচনী মোর্চা নয়, দ্বীন-ঈমানদারীর প্রশ্নে ঐক্য হওয়া যাবে। আমরা কারো করুণার কাঙ্গাল নই।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কালো টাকা, পেশীশক্তির রাস্তা বন্ধ হবে। ফ্যাসিজম সৃষ্টি হবে না। পিআর পদ্ধতি হলে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন হবে এমন চিন্তা একটি বিশেষ দল থেকে প্রচার করা হবে। শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। ১৮ কোটি মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ হচ্ছে। এজন্য স্থানীয় সরকারের নির্বাচন চাই। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে খারাপ লোকেরা নেতৃত্ব পেয়ে যায়। কথা লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত এই আওয়াজ জোরদার করতে হবে। দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থ বড় প্রমাণ করতে হবে।’