মার্চ ৬, ২০২৬ ১০:৩৫

ফেনীর সময় গণমাধ্যমকর্মী তৈরীর ইনস্টিটিউট

ফেনীকে বলা যায় পত্রিকার শহর। ফেনীতে দৈনিক, অর্ধ সাপ্তাহিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক মিলিয়ে প্রায় সত্তরেরও অধিক পত্রিকার ডিক্লারেশন রয়েছে। এ শহরে যে পরিমাণ পত্রিকা রয়েছে রাজধানীর পরে পত্রিকার সংখ্যার দিক থেকে বোধহয় ফেনী শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়াও ফেনীকে সাংবাদিকতার সূতিকাগারও বলা হয়ে থাকে। ফেনী অগণিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের জন্মস্থান হিসেবেও উর্বর ভূমি। ফেনীতে জন্ম হয়েছে পতিতযশা ও দেশ বরেণ্য সাংবাদিকরা। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার উর্বর ভূমি হিসেবে ফেনীর এক ঝাঁক তরুণ ও মেধাবী গণমাধ্যমকর্মী জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়ায় কর্মরত আছেন। সাংবাদিকতা পেশার প্রতি এ জেলার মানুষের কৌতূহল বেশিই বলা যায়। সাংবাদিকতা যতোটা না পেশা তার চেয়ে অনেক বেশি নেশা, ভালোলাগা। এই নেশাটা হচ্ছে ফেনী ও দেশের জন্য, মানুষের জন্য কিছু করার নেশা। সেই দিক থেকে দৈনিক ফেনীর সময় গণমাধ্যমকর্মী তৈরির ইনস্টিটিউট হিসেবে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে আসছে। ফেনীর সময় প্রকাশের আগে সংবাদকর্মীদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এগিয়ে থাকার প্রত্যয় স্লোগান ধারণ করে পাঠকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সম্পাদক শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিটি সংবাদকর্মীকে শিখন-শেখানোর মানসিকতা লালন করেন।

গণমাধ্যমকে বলা হয়ে থাকে দেশের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি চেয়ারের যেমন চারটি খুটির মাঝে একটি খুটি ছাড়া যেমন চেয়ারটি অচল তেমনি গণমাধ্যম ছাড়া একটি রাষ্ট্রও প্রায় অচল। তাই গণমাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংবাদিকায় ফেনীর সোনালী অধ্যায় রচিত হয়েছে। ফেনী জন্ম দিয়েছে অগণিত প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বের। ফেনীর কৃতি সন্তানরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাদের পথ অনুস্বরণ করে এখনও এক ঝাঁক তরুণ ও মেধাবী গণমাধ্যমকর্মী জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা পালন করে আসছেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গণমাধ্যম নিয়ে কথা বলতে গেলে যাঁদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- প্রয়াত আবদুস সালাম, জহুর হোসেন চৌধুরী, মাহবুবল হক, খাজা আহম্মদ, ওবায়েদ উল হক, গিয়াস কামাল চৌধুরী, এবিএম মূসা, শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার, এরশাদ মজুমদার, শহীদ সেলিনা পারভীন, ফেরদৌস আহমদ কোরেশী। এখনও যারা জাতীয় পর্যায়ে ফেনীর মুখ উজ্জ্বল করছেন তাদের মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য-কালাম উদ্দিন সবুজ, মাসুদ মজুমদার, মোয়াজ্জেম হোসেন ও ইকবাল সোবহান চৌধুরী। এছাড়াও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাংবাদিক এম আবদুল্লাহ। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে)র সাবেক সভাপতি এবং দৈনিক আমার দেশ এর নগর সম্পাদক। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাংবাদিকদের কল্যাণে তিনি নিরলসভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সম্পাদিত ২০০৯ সালের ১৭ জুন দৈনিক ফেনীর সময় উদ্বোধনী সংখ্যা বের হয়। ফেনী প্রেসক্লাবে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ফেনীর সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের সরব উপস্থিতি ছিল। সেইদিন ৪ কালারের ১২পৃষ্ঠা পত্রিকা পাঠকের হাতে হাতে প্রেসক্লাব আঙ্গিনা মুখরিত হয়ে ওঠে। তবে সবার মুখে মুখে ছিল আগামীকাল ১৮ জুন ২০০৯ পত্রিকা কি বের হবে? কারণ তখন সাপ্তাহিক পত্রিকা নিয়মিত বের হওয়া ছিল কল্পনাতীত বা স্বপ্নের মতো। সেইদিন থেকে আজ অবধি নিয়মিত প্রকাশনার নাম দৈনিক ফেনীর সময়। মফস্বলে নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশনায় ইতিহাস গড়ল ফেনীর সময়। এ কন্টকাকীর্ণ পথ মাড়িয়ে ২০২৫ এ আসা কোন সহজ কাজ নয়। এ কঠিক কাজ সহজ করার নাম হলো ফেনীর সময়। দৈনিক পত্রিকা হিসেবে ফেনীর সময় শুরু হলেও এখানে রয়েছে এখন দৈনিক অনেকগুলো পত্রিকা। অনিয়মিত প্রকাশনা হলেও পথ অনুসরণ করে এখন তারাও প্রতিযোগিতায় রয়েছে।

২০০৯ সালে দৈনিক ফেনীর সময় প্রকাশিত হলেও এরআগে ২০০৫ সালের ৩০ অক্টোবর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সম্পাদিত সাপ্তাহিক আলোকিত ফেনী বের হয়। আলোকিত ফেনীও ফেনীর উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অল্প সময়ের মাঝে পত্রিকাটি ফেনীর মানুষের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পাঠকের অকুণ্ঠ ভালোবাসার কারণে দৈনিক ফেনীর সময় আত্মপ্রকাশে সহজ হয়। দীর্ঘ পথচলায় ফেনীর সময় কন্টকাকীর্ণ পথ মাড়িয়ে চলেছে। মফস্বল শহর হিসেবে ফেনীতে দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করা ছিল স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে ফেনীর সময়। ফেনীর সময়’র পথ অনুসরণ করে আজকে এখানে হাফ ডজনেরও বেশি দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হচ্ছে। ফেনীর সময়’র সাংবাদিকরা জাতীয় পর্যায়ে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাশেদুল হাসান, আবদুর রহিম, ইমরান মাহফুজ। এছাড়াও ফেনীর সময় পরিবারের সম্মানিত সদস্য যারা ছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- কবি মনজুর তাজিম, কবি শাবিহ মাহমুদ, নুর উল্যাহ কায়সার, এম এ জাফর, আবদুল্লাহ আল মামুন, এডভোকেট জিয়াদ হাসান রাসেল, এম এ হাসান, বজলুর রহিম ভূঁইয়া সুমন, জহিরুল হক মিলন, সাহিদা সাম্য লিনা, আনোয়ার হোসেন সুখী। এছাড়াও ফিচার এডিটর কবি মাহবুব আলতমাস আমাদের থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। আজকের এদিনে তাঁকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

ফেনীর মত ছোট্ট একটি জেলায় প্রতিদিন নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা বের করা কঠিন থেকেও কঠিন কাজ। সেই কাজ সহজ করেছেন মফস্বলে আধুনিক সাংবাদিকতার রূপকার মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। তিনি প্রতিদিন ফেনীর সময় পরিবারের সদস্যদের শিখন-শেখানো কলাকৌশলের মানসিকতায় কাজ আদায় করেন। প্রতিটি সংবাদকর্মী যেন দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। তিনি বলে থাকেন- আপনারা যারা এখানে কাজ করছেন প্রত্যেক জন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। সবসময় উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে সৃষ্টিশীল কাজ করার মানসিকতা তৈরি করেন। ফেনীর সময়’র প্রতিটি শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে আন্তরিক হওয়ার জন্য তিনি যথেষ্ট মনোযোগি হয়ে দায়িত্ব পালনে গুরুত্বারোপ করেন। সংবাদপত্র জনস্বার্থের ধারক ও বাহক হয়ে জনকল্যাণে নিয়োজিত থাকবে এটাই চাহিতব্য। বিশেষ কোনো শ্রেণি বা মহলের স্বার্থসিদ্ধির সেবাদাসে পরিণত হলে একটি সংবাদপত্র সমাজে প্রতিক্রিয়াশীলতা ছড়ানো ছাড়া ইতিবাচক কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। মহাসমারোহে নতুন কোনো সংবাদপত্রের আবির্ভাব ঘটা অনেকটাই সহজ কিন্তু পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা বেশ কঠিন। এ কঠিনকে সহজ করেছে ফেনীর সময়। ফেনীর সময় এর পথ চলায় আমিও একজন সহযাত্রী হিসেবে শুরুর আগে থেকেই যুক্ত রয়েছি। সংবাদপত্রের এই পথ সহজ কোন পথ নয়। এখানে টিকে থাকতে হলে প্রতিটি মুহুর্তে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ভাষাজ্ঞান ও হৃদয়গ্রাহী উপস্থাপনা থাকা জরুরি। আবেগের অতল গহনে অবতরণ করে সর্বান্তকরণে জড়িয়ে পড়ার কারনেই পাঠকের সঙ্গে গভীরতম সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হয়। পাঠকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী চাপ রাখতে পেরেছে ফেনীর সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন