মার্চ ৬, ২০২৬ ১৭:৫৮

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ৩ থেকে ৬ মাসে পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার দাবী

নিজস্ব প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রফেসর ড. শাহজাহান মাদানী বলেছেন, অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের পাওনা ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দিতে হবে। অবসরের টাকা দিতে গড়িমসি কেনো। অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের নিয়ে সম্মেলন ডাকা হবে। দাবী আদায় না হলে ঢাকার রাজপথে অনশন করা হবে।
তিনি বলেন, এক-দেড়মাস আগে আড়াইশ কোটি টাকা দেয়া হয়। প্রতিমাসে ১শ কোটি টাকার মতো আবেদন জমা হয়। এজন্য সরকারের বাজেট বরাদ্দ দেয়ার দাবী জানান শাহজাহান মাদানী। গতকাল শনিবার দুপুরে ফেনী জেলা মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের আয়োজনে শিক্ষক সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শহরের ডিএম কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ড. আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যক্ষ মুফতি ফারুক আহমাদ, যুগ্ম-সম্পাদক ড. সাইফুল ইসলাম রফিক, ফেনী জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, এডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, জামায়াতের জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা মো: ইসমাইল।

মাওলানা নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে ও মাওলানা মাহমুদুল হকের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুর রহীম, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সদর উপজেলা সভাপতি হাবিব উল্যাহ বাহার, মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সদর উপজেলা সভাপতি মাওলানা বজলুল করিম ফেনী শহর সভাপতি মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক, ছাগলনাইয়া উপজেলা সভাপতি মাওলানা সামছুল করিম, সোনাগজী উপজেলা সভাপতি মাওালানা ইব্রাহীম খলিল, দাগনভূঞা উপজেলা সভাপতি মাওলানা ফারুক আহমদ, ফুলগাজী উপজেলা সভাপতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম, পরশুরাম উপজেলা সভাপতি মাওলানা ইয়াকুব মজুমদার প্রমুখ।

অধ্যক্ষ মুফতি ফারুক আহমাদ বলেন, মাদরাসা। শিক্ষা যুগ যুগ ধরে বৈষম্যের শিকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচৃচ মাধ্যমিক কলেজ, অনার্স-মাষ্টার্স পর্যায়ের কলেজ সরকারী থাকলেও সরকারি ইবতেদায়ী মাদরাসা, দাখিল মাদরাসা, আলিম মাাদরাসা, ফাজিল মাদরাসা নেই। সরকারের কাছে প্রতিটি জেলায় একটি কামিল মাদরাসা, উপজেলায় একটি ফাজিল মাদরাসা, নীতিমালা আছে এমন দাখিল মাদরাসাসমূহ সরকারীকরনের দাবী জানান তিনি।

ড. আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা বৈষম্য রয়েছে। স্কুল-মাদরাসার শিক্ষকদের মধ্যে রাখা যাবেনা। এগুলো সুন্দর সুরাহা করতে হবে। এ ব্যাপারে মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ সোচ্চার থাকবে।

সম্মেলনে মাদরাসা শিক্ষকদোর ১৭ দফা দাবি তুলে ধরে অনতিবিলম্বে কার্যকর করতে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত এবং কারিগরিসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের জোর চাকরি, শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা ও বোনাস, সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা, সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত, সব নন-এমপিও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা এমপিও ভুক্তির গেজেট ঘোষণা করে বেতন। ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা স্থাপন, পাঠদান অনুমতি, স্বীকৃতি প্রদান এবং এমপিও যুক্তকরণ নীতিমালা বাস্তবায়নে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাদের দীর্ঘসূত্রতা অবিলম্বে বন্ধ, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা নীতিমালা ২০২৫ পরিপূর্ণ অনুসরণ করে প্রতি ৩ মাস পর পর যেসব মাদরাসা এমপিওভুক্তি অর্জনের শর্ত পূরণ করেছে তাদেরকে এমপিওভুক্ত, যেসব মাদরাসা জাতীয়করণের শর্ত পূরণ করবে তাদেরকে নিয়মিত এবং ধারাবাহিকভাবে এমপিওভুক্তি ও জাতীয়করণ, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ তহবিলে ইতোমধ্যে যারা আবেদন করেছে তাদের প্রাপ্য অবিলম্বে সরকারি তহবিল থেকে প্রদান করতে হবে এবং এর দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ করার লক্ষ্যে ডিজিটালাইজেশন, প্রতিটি উপজেলায় অবিলম্বে একটি করে ফাজিল ও জেলায় কামিল মাদরাসা সরকারিকরণ, মাদরাসা ও স্কুলের সব শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে মহানবী (সা.) এর জীবনীসহ মহামানবদের জীবনী সম্বলিত প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতার সংযোজন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানোন্নয়নের জন্য সব স্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ও গবেষণা কর্মের সুযোগ দেওয়া এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলির ব্যবস্থা, শিক্ষার সব স্তরের পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতাবোধের আলোকে এবং ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ইতিহাস গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা, শিক্ষার সব স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা চালু করতে হবে এবং সব শ্রেণির পাঠ্য পুস্তক দেখে ধর্মীয় মূল্যবোধ বিরোধী বিষয় বাদ দেয়া, প্রাথমিকে ২০১৬ সাল থেকে ধর্মীয় শিক্ষা চালু এবং ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া, ইবতেদায়ী শাখার জন্য সরকারি পিটিআই-এর মতো ঊঞও এবং বিএমটিটিআই সব বিভাগীয় শহরে তৈরি করা, মাদরাসা শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদের বাস্তবায়নে বিধান প্রণয়ন, বিসিএসসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের যোগ্য করার জন্য যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন করা এবং মাদরাসা ও স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন