আরিফ আজম :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে কারা প্রার্থী হতে পারেন এমন আলোচনার মধ্যেই নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। আগামীতে জাতীয় সরকারের রুপরেখার ঘোষনার অংশ হিসেবে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। এক্ষেত্রে বিএনপির হাইকনান্ডের সাথে তার ঘনিষ্ঠতাও সবার মুখে মুখে।
মঞ্জুর ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, একসময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের বাসিন্দা মজিবুর রহমান মঞ্জু। পরবর্তীেেত জামায়াতের ঢাকা মহানগরের দায়িত্বে ছিলেন। দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের নির্বাহী পরিচালক থাকাকালে মিডিয়া ব্যক্তিত্বে পরিণত হন মঞ্জু। জামায়াত ছেড়ে নতুন দল করার পর শুরুর দিকে জামায়াত নেতাকর্মীদের সাথে তার বৈরি সম্পর্ক হয়। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখায় ধীরে ধীরে সেটি কমে যায়। ইতিমধ্যে লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথেও তার একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। সমসাময়িক নানা প্রেক্ষাপট আলোচনার পাশাপাশি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী সদর আসন থেকে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মঞ্জুকে ‘গ্রীন সিগন্যাল’ দিয়েছেন বলে মনে করছেন তার ঘনিষ্ঠরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফেনী থেকে ছাত্রশিবিরের প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি হন মঞ্জু। সেই কারণে ফেনীতে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের অনেকের কাছে পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন তিনি। বিএনপি অধ্যুষিত জেলা হলেও তারেক রহমানের জাতীয় সরকারের রূপরেখা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মঞ্জুকে জেলা সদরের আসনটি ছেড়ে দেয়া হতে পারে। তার ফলশ্রুতিতে মঞ্জু ফেনী-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর থেকে তিনি ফেনীতে নানারকম সামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি মঞ্জু ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ আমি আমার পিতৃ ও মাতৃভূমি ফেনী-২ (সদর) আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।”
এবি পার্টির জেলা সদস্য সচিব ফজলুল হক বলেন, “ছাত্রজীবন থেকে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সংগ্রামের সাথে জড়িত এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে মঞ্জু ভাইয়ের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ফেনীতে উনি তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও জাতীয় রাজনীতিতে মঞ্জু ভাইয়ের বিশেষ অবদান রয়েছে। উচ্চ শিক্ষিত, সৎ, সমাজসেবক এবং জনদরদী এমন একজন নেতাকে ফেনী-২ আসনে এমপি হিসেবে পেলে ফেনীবাসী বিশেষ উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি।”
যা ভাবছেন অন্য দলের নেতারা
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর প্রার্থীতা ঘোষণার পর তার রাজনৈতিক দলের গন্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক সচেতন মহলে তুমুল আলোচনা হচ্ছে। বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও তাদের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীতা পাওয়ার ব্যাপারে ধোঁয়াশায় রয়েছেন । ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থীতা ঘোষনার পর থেকে অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া ভোটের মাঠে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ফেনী বিএনপি অধ্যুষিত জেলা। অতীতেও এখানে বিএনপি প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এই ধারাবাহিকতায় আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি থেকে প্রার্থী হবেন এটাই তৃণমূলের প্রত্যাশা।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্য দল থেকে প্রার্থীতা ঘোষনা করা হচ্ছে। সেই হিসেবে মজিবুর রহমান মঞ্জুও প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। কিন্তু বিএনপি থেকে এখনো চূড়ান্ত রূপরেখা না দেয়ায় জোটের প্রার্থী হবেন কিনা সেটা এখনো বলা যাচ্ছেনা। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব যাকে প্রার্থী দিবেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা তার জন্য কাজ করবেন।
জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী মুহাম্মদ আবদুর রহীম বলেন, আগামী নির্বাচনে জোট হবে কিনা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। জোট না হলেও যেকেউ নির্বাচন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই হিসেবে এবিপার্টির সামগ্রীক অবস্থান অনুযায়ী মঞ্জু সাহেব প্রার্থী হলে জামায়াতে ইসলামীতে প্রভাব ফেলতে পারবেন কিনা এটা নিয়ে আমাদের ভাবনা নেই।
গণঅধিকার পার্টির সদস্য সচিব রেজাউল করিম সুজন বলেন, মজিবুর রহমান মঞ্জু একজন তরুণ নেতা। আমরা চাই আগামীর বাংলাদেশ তরুনদের হাতেই চলুক। গণঅধিকার পরিষদ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে এবি পার্টি সহ সকল দলের সাথে একাত্মতা পোষন করে আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিল। মঞ্জু ভাই যেহেতু ফেনীর সন্তান সেক্ষেত্রে তিনি ফেনী থেকে নির্বাচন করবেন এটা স্বাভাবিক বিষয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা সংগঠক আবদুল কাইয়ুম সোহাগ বলেন, এবি পার্টি ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শক্তি। সেই হিসেবে মজিবুর রহমান মঞ্জু ভাই প্রার্থীতা ঘোষনা করায় তাকে এনসিপির পক্ষ থেকে স্বাগত জানাই।