মো: মহি উদ্দিন ,পরশুরাম
পরশুরামে গত চার দিনের শৈত্যপ্রবাহে জন জীবনে এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাহিরে বের হচ্ছে না। সারা দিন সূর্যের দেখা নেই। শ্রমজীবী মানুষেরা হয়ে পড়েছে কর্মহীন। অতিরিক্ত শীতের কারণে বাড়ছে শিশুদের নিউমোনিয়া , শ্বাসকষ্ট, জ্বর সর্দি ফুসফুসে পানি ও ডায়রিয়াসহ নানা রোগীর সংখ্যা।
সরেজমিনে ঘুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায় শৈত্য প্রবাহের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগ বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া জনিত রোগী একসপ্তাহ প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।আরও কিছু রোগী উপস্থিত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাসায় রেখে চিকিৎসা চলছে। যাদেরকে ভর্তি না করলে চিকিৎসা চলবে না তাদেরকে হাসপাতালের ভর্তি রেখে সেবা দিতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। অতিরিক্ত ঠান্ডা থাকায় বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোন্দকিয়া গ্রামের মিটন দাস জানান, আমার বাচ্চার সর্দি, কাশি,জ্বর নিয়ে সাত দিন ধরে ভোগছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে । এখন পর্যন্ত আমার বাচ্চা সুস্থ হয়নি। ডাক্তার বলেছে আরও কিছুদিন থাকতে হবে।ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে চিকিৎসা চলছে। আগের থেকে একটু ভালো আছে।
ঠান্ডা, কাশি জ্বর নিয়ে আসা তাহমিনা আক্তারের (১৪মাস) বয়সী এক শিশুর মা আয়েশা আক্তার বলেন, আমি আমার বাচ্চার শীতের শুরুতে জ্বর, সর্দি, গলা ব্যাথা, ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে আনলে ডাক্তার ভর্তি দেন। ডাক্তার দেখানোর পরে ডাক্তার জানায় আমার বাচ্চার নিউমোনিয়া হয়েছে, বুকের ডান পাশে কফ জমেছে। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে এমন হয়েছে বলে ডাক্তার বলেছে। আরও কয়েক দিন থাকতে হবে বলে জানিয়েছে ডাক্তার।
ফাতেমা নামের এক শিশুর মা বলেন, আমার বাচ্চার ঠান্ডা লেগেছে। যার কারণে সর্দি , কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়েছে। পরে ডাক্তার বলেছে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে নিউমোনিয়া হয়েছে যার কারণে ওকে প্রতিদিন ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে রাখতে হচ্ছে। ডাক্তার বলেছে ,এখানে আরও কিছুদিন থেকে চিকিৎসা নেওয়া লাগবে।
পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অফিস সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনের অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে শিশু বাচ্চাদের সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। বেশির ভাগই ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। শীতজনিত রোগীর সংখ্যা চিন্তা করে আমরা খুব তাড়াতাড়ি শিশু ওয়ার্ডের বেড সংখ্যা বাড়ানো ব্যবস্থা করবে । সুত্র আর ও জানায়, আমাদের জনবল সংকট রয়েছে তবে যে জনবল আছে তা দিয়ে আমরা সর্বোত্তম সেবা প্রদান করে যাবো, যেন সাধারণ রোগীদের কোন সমস্যা না হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরশুরাম স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ইফতেখার আহমেদ বলেন, গত কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহে ঠান্ডাজনীত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। আর এই রোগীদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশী।
২৪ ঘন্টায় অনেক শিশু ভর্তি হয়েছে, কয়েকজন রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে গেছে। পরামর্শ অনুসারে চিকিৎসা চলছে। যাদের সবারই নিউমোনিয়া , শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভুগছে। আমরা আশা করছি দুই চার দিন পরে শৈত্য প্রবাহ কমলে রোগীর সংখ্যাও কমে যাবে।