মার্চ ৬, ২০২৬ ০৭:০৪

ফেনীতে ছাত্রদলের ২ বছরের কমিটি চলছে ৮ বছর

নিজস্ব প্রতিনিধি :

ফেনী জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন হয়েছে ২০১৮ সালের ১২ জুলাই। এর একমাস পর ২২ অক্টোবর ৩৯৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির নেতাদের প্রথম সারির সবাই বিবাহিত, কারো কারো ছেলে-মেয়ে পড়ে স্কুল-মাদরাসায়। শুধু তাই নয়, জেনারেশন গ্যাপে এসব নেতাদের সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিশতে পারছেন না। ফলে সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিজ জেলা হলেও এখানে বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে ছাত্র সংগঠনটি দীর্ঘদিনের জৌলুস হারাতে বসেছে। গঠনতন্ত্র অনুসারে দুই বছর পর পর কমিটি করার নিয়ম এখন কাগজে-কলমে। এনিয়ে মাঝে মধ্যে পদধারী নেতাকর্মীদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্ষেপ করলেও সেই বিষয়ে দায়িত্বশীল পর্যায়ের কারো ভ্রুক্ষেপ নেই।


সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেলা ছাত্রদল সভাপতি সালাহউদ্দিন মামুন ২০০২ সালে ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন ২০০১ সালে এসএসসি পাস করেন। মামুন এক মেয়ে ও এক ছেলের জনক। এদের একজন ডাক্তারপাড়ার একটি স্কুলে অধ্যয়নরত। মোরশেদ এক মেয়ের জনক।


এছাড়া সুপার ফাইভে থাকা সিনিয়র সহ-সভাপতি ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মিল্লাত এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন রিয়াদের একমাত্র ছেলে মাদরাসায় অধ্যায়নরত। সহ-সভাপতিদের মধ্যে তৌহিদুল ইসলাম আকাশ, আব্বাস পাটোয়ারী, মিজানুর রহমান রাসেল ও রিয়াদুল করিম জেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য। নিজাম উদ্দিন সোহাগ বর্তমানে পৌর যুবদলের সহ-সভাপতি, নাসির উদ্দিন মানিক পৌর যুবদলের সাবেক সদস্য, ইকবাল হোসেন রুমেল পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব, আবুল খায়ের লিটন পরশুরাম উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক, আবু জাফর চৌধুরী ও রেজাউল করিম চৌধুরী লাকী ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবদল যুগ্ম-আহবায়ক। এছাড়া অপর সহ-সভাপতি ফখরুদ্দিন সেন্টু, মাইনুল হোসেন জ্যাকসন, ওসমান গনি মাহফুজ, বাপ্পা খন্দকার, আকবর হোসেন রনি, ইমাম হোসেন শামীম, মোজাম্মেল হোসেন রাজিব, ফখরুল করিম, সাজ্জাদ হোসেন দোলন, ইমাম হোসেন রাজন, হাসান মাহমুদ, মাইনুদ্দিন রিমন, সাইফুদ্দিন চৌধুরি মুকুল, হুমায়ুন কবির, ইউনুস রুবেল, আজহারুল ইসলাম সোহেল, ফখরুল ইসলাম সুমন, গোলাম কিবরিয়া বিবাহিত। কাজী জামশেদুর রহমান ফটিক দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ের বহিস্কার রয়েছেন।
এদিকে যুগ্ম-সম্পাদকদের মধ্যে মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, আলমগীর হোসেন, আলাউদ্দিন রুমন, রশিদ আহমেদ মজুমদার, কপিল উদ্দিন পাটোয়ারী, গোলাম মোর্শেদ শুভ, আবু তাহের মিয়াজী, আকরাম হোসেন রাসেল, ফজলে রাব্বি, তাজুল ইসলাম পাভেল, দ্বীন মোহাম্মদ দিদার, রহমত উল্যাহ জিংকুও বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন।
সংগঠনের বিভিন্ন সূত্র জানায়, পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনেকে ছাত্র রাজনীতিতে নিষ্প্রভ ভূমিকায় রয়েছেন। দুই বছর মেয়াদের এই কমিটি ৮বছর পেরিয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগই পরিবারের তাগিদে কেউ আইনজীবী, প্রবাসী কিংবা ব্যবসায়ী। এই কমিটিতে থাকা প্রায় সব নেতাই পড়াশোনায় অনিয়মিত। এমনকি আগামী কমিটির নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের অনেকে বিবাহিত বলে জানা গেছে।


এদিকে পূর্নগঠনের কথা বলে ভেঙ্গে দেয়া হলেও গত ১৪ মাস ধরে সদর উপজেলা কমিটি নেই। ২০২১ সালে পৌর আহবায়ক কমিটি করা হলেও ওয়ার্ড পর্যায়ে তারা কোন কমিটি করতে পারেনি।


তৃণমূল নেতকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়েও সাংগঠনিক কর্মকান্ড থেমে থাকেনি। ছাত্রদলের জেলা কমিটির মেয়াদ ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সম্মেলন হয়নি। বর্তমান কমিটির অনেকে বয়স সীমারেখায় আগামী কমিটিতে আটকে যেতে পারেন। এতে করে দীর্ঘ মেয়াদী নেতৃত্ব সংকটের আশংকা করছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন ফেনীর সময় কে বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন। দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ফ্যাসিস্টের শাসনামলে আমাদের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের, একদম ওয়ার্ড লেভেল থেকে শুরু করে থানা, পৌরসভা, জেলা এবং সেন্ট্রাল পর্যন্ত সকল নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তার কারণ হলো আমরা গণতান্ত্রিক দল। আমরা রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে জনগণের পাশে থেকে রাজনীতি করে যেকোন পরিস্থিতিতে সম্মুখসারিতে এসে মোকাবিলা করার কাজ করি।”


তিনি আরো বলেন, “আমাদের সেন্ট্রাল থেকে যে নির্দেশনা রয়েছে, সেই মোতাবেক কমিটিগুলো গঠন করা হয়। কিছু নিয়ম আছে, নিয়মের ভিত্তিতে আমরা কমিটি গঠন করে থাকি। আমরা এ মূহুর্তে গণতন্ত্র উত্তরণের জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা যদি জয়ী হই তাহলে সাংগঠনিক পরিবর্তনও আসবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন