মার্চ ৬, ২০২৬ ১৭:৩৪

দাগনভূঞায় সংযোগ সড়ক নেই মই বেয়ে ব্রীজ পারাপার

আজহারুল হক :

একসময় এলাকাবাসীরা পার হতেন বাঁশের সাঁকোয় পরে করা হয় কাঠের ব্রীজ। প্রয়োজনে সেখানে করা হয় সরকারি অর্থে ৮ কোটি টাকার ব্রীজ। বন্যা পরিস্থিতিসহ বেশকিছু কারণে সেখানে থাকা রাস্তা থেকে প্রায় ২০ ফুট উঁচুতে করা হয় দাগনভূঞার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মমারিজপুর-আশরাফপুর গ্রামের সংযোগ ব্রীজটি। দীর্ঘদিনেও সংযোগ সড়ক তৈরি না করায় মই বেয়ে ব্রীজ পারাপার করে স্থানীয় বাসিন্দারা।


সরেজমিনের জানা গেছে, ব্রীজটি ব্যবহার করতে পারলে অতিসহজে মাতুভূঞা থেকে বেকেরবাজার ও বেকেরবাজার থেকে মাতুভূঞায় যাতায়াত করতে পারবেন পথচারীরা। এছাড়া করিম উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়, মাতুভূঞা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, মাতুভূঞা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেকেরবাজার ও তার আশপাশে রয়েছে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে। এলাকার মানুষের বহুল প্রতিক্ষার পর কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রীজ নির্মাণ হলেও দুই পাশে রাস্তা করা হয়নি। যার ফলে ব্রীজ থাকলেও রাস্তার অভাবে ঝুঁকি ও ভোগান্তি নিয়েই দুই পাশে দেয়া মই দিয়ে রাস্তা পার হতে হয়।


মাতুভূঞা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী জেরিন মই বেয়ে পার হবার সময় জানান, ঝুঁকি থাকলেও এই মই বেয়েই ব্রীজটি পার হতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।


বৃদ্ধা আছিয়া বেগম জানান, বাবারে মনে অর পাহাড়ে উড়িয়ের,অন কিরুম জি বিয়া দিছি হে পাড়ে যাইতে হয়। উঠি জিরাইয়ের বল হড়ি গেছে, হই মাথা হাড়ি গেলেও কিছু করার নাই মাইয়ারে চাইবেরলায় যাইতে অইবো হে পারে।


মমারিজপুরের বাসিন্দা দাউদুল ইসলাম শিমুল বলেন, ব্রীজটি এ এলাকার জনগণের জন্য ভোগান্তির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও বয়স্ক মানুষ পার হতে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমস্যা দ্রুত সমাধান করে জনগনের ব্যবহার উপযোগী করতে স্থানীয় প্রশাসন যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানান।
আশ্রাফপুর এলাকার বাসিন্দা রবিউল হোসেন মজিব বলেন, আমরা যখন করিম উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতাম তখন সাঁকো দিয়ে পার হতাম। সময়ের প্রয়োজনে এখন ব্রীজ করা হয়েছে। কিন্তু রাস্তা এখনো করা হয়নি। তাহলে এত টাকা খরচ করে কেন ব্রীজ করা হলো। আমি আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রীজের দুই পাশের রাস্তার কাজ হবে এবং ছাত্র-ছাত্রীসহ উভয় এলাকার বাসিন্দারা সুন্দরভাবে পারাপার হতে পারবে।এ বিষয়ে আমি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।


ফেনী জেলা এনসিপির আহবায়ক ও মমারিজপুরের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, বর্তমানে ব্রীজটি যে অবস্থায় আছে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অত্র অঞ্চলের শত শত শিক্ষার্থী, অসুস্থ মানুষ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের জনগণ প্রতিদিন এই ব্রীজের মাধ্যমে যাতায়াত করে। তাই এটি ব্যবহার উপযোগী করে নির্মাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জনগণের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে এটি আরো পূর্বে সংস্কার করা উচিত ছিলো। অতিদ্রুত এটি জনগণের ব্যবহার উপযোগী করার জোর দাবী জানাই।


দাগনভূঞা উপজেলা প্রকৌশলী মো: মাছুম বিল্লাহ জানান, ব্রীজটির বাকি কাজের মেয়াদ গত জুনেই শেষ হয়ে গেছে। মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আমরা ঢাকায় ইতিমধ্যে কাগজপত্র প্রেরণ করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন