শহর প্রতিনিধি :
ফেনী শহরের নাজির রোডে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে মো. মাসুদ হাসান মাহিদ (১৯) নামে এক টমটম চালক নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাতে শহরের নাজির রোডের টিকটক গলির মাথায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। এসময় ইরফান নামে আরো একজন গুরুতর আহত হয়। নিহত মাসুদ কুমিল্লার তিতাস থানার জয়পুর গ্রামের মো. নয়নের ছেলে এবং ফেনী শহরের রেলগেইট এলাকার বাসিন্দা।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শি সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় টমটম নিয়ে বের হলে কয়েকজন কিশোর তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে তারা মাসুদকে ছুরিকাঘাত করে। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদকে মৃত ঘোষণা করে।
মাসুদের ছোট ভাই জানান, ‘ইয়াফি, রাহাত, শান্ত, মারুফ ও নিলয় আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। এর আগেও তারা একবার আমার ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল।”
এদিকে এ ঘটনায় রাহাত ও মারুফ নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিহত মাসুদ, আহত ইরফান ও হামলাকারী রাহাত এবং মারুফ একসাথে আড্ডা দিয়ে থাকে। মাসুদ টমটম চালাতো মাঝে মাঝে। বাকিরা কিছু করতো না। এরা নাজির রোড এরিয়ায় নিয়মিত আড্ডা দিয়ে থাকে এবং মাঝে মাঝে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এদের মধ্যে প্রকাশ ও শান্ত নামে দুই বড় ভাই রয়েছে বলে জানা যায়। প্রকাশ কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম নেতা জোবায়ের হোসেন শরীফের অনুসারী ও একসময় ছাত্রলীগ ছিলো বলে জানা যায়। তারা ওই এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে করে থাকে। এরা টিডিএক্স-১০ ও এসআরডিএক্স গ্যাং গ্রুপের সদস্য বলে জানা যায়।
জানতে চাওয়া হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রধান আসামী মারুফ সহ দুইজন আটক করা হয়েছে। ওর ছোট ভাইকে কোন কারনে খেলার মাঠে শাস্তি দিয়েছিল বা বকাঝকা করছিল। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে রাতের বেলা প্রথমে নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে এ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে মাসুদের মৃত্যু হয়। দুইজন আহত হয়।”