জুন ৬, ২০২৬ ০৪:০০

ফেনীর ৪৩ চাঁদাবাজ কারা


নিজস্ব প্রতিনিধি :

সারাদেশে শীর্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা করেছে সরকার। এই তালিকায় ফেনী জেলার ৪৩জনের নাম রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তথ্যটি প্রকাশের পর তালিকায় কারা রয়েছেন এনিয়ে রাজনৈতিক মহল সহ সর্বত্র জোর আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে চব্বিশের ৫ আগষ্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জেলা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তাদের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। ফলে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়া বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম এই তালিকায় বেশি বলে জানা গেছে। তালিকাভূক্ত এসব অপরাধীদের বেশ কয়েকজন শুধু চাঁদাবাজি এই নয়, মাদকসহ বহুমাত্রিক অপরাধে জড়িত।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পর অপরাধ দমনে কঠোর নীতি গ্রহণ করে বিএনপি। চাঁদাবাজদের তালিকা করার সময় রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। এসব অপরাধীরা ৫ আগষ্টের পর মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদাবাজী করে। শুধু তাই নয়, চাঁদা দিতে না পেরে অনেকেই প্রাণভয়ে পালিয়ে যান।


গত ৮মার্চ ফেনী জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, সরকার ২-৩মাসের মধ্যেই অপারেশন ক্লিনহার্ট এর মতো একটি অভিযান চালাবে। প্রকৃতপক্ষে যারা অন্যায় করছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সরকার এই ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দিবেনা। মাদকাসক্ত ও মাদককারবারী কারা এটা সবার জানা। অভিযান চালিয়ে তাদের ধরা দরকার। কিশোরগ্যাং প্রশ্নেও সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ধরা হবে।
ফেনী-১ ও ২ আসনের সংসদ সদস্য যথাক্রমে রফিকুল আলম মজনু ও অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ভিপি চাঁদাবাজসহ অপরাধীরা নিজ দলের হলেও ছাড় দেয়া হবেনা বলে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে হুঁশিয়ারী করেছেন।


জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ও ধলিয়া ইউনিয়নের চাঁদা না পেয়ে সড়কের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। একপর্যায়ে উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত এস্কেভেটর পুঁড়িয়ে দেয়া হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় এক সাংবাদিকের নিকটাত্মীয়ের কাছে চাঁদা দাবী করে কতিপয় ব্যক্তি। চাঁদা না দেয়ায় ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের টিএনটি সংলগ্ন বাড়ির কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে ওই ব্যক্তি একই সড়কে বালুর স্তুপ রেখে আরেকটি দোকান বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া চাঁদা না দেয়ায় শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের একটি ডায়গনষ্টিক সেন্টারের মালিক প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। দাগনভূঞায় দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায় এক ঠিকাদারের কয়েকটি কাজ দফায় দফায় বন্ধ করে দেয়া হয়। একপর্যায়ে বালুভর্তি ট্রাক লুট করা হয় বলে থানায় অভিযোগ করা হয়।


সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-২ আসনের জামায়াত জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সম্প্রতি মতবিনিময় সভায় চাঁদা না দেয়ায় এক ছাত্রদল নেতা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করেছেন বলে অভিযোগ করেন। ঘটনাটি তিনি জেলা বিএনপিকে জানিয়েও সমাধান না পেয়ে বিএনপির হাইকমান্ডকে অবহিত করেছেন।


এব্যাপারে জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা কথা বলতে রাজি হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!