জুন ৬, ২০২৬ ০৩:১৫

জহির রায়হান মাঠে আ’লীগ নেতার সুপারিশে তাঁত মেলার অনুমতি উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতারা, ক্ষোভ


নিজস্ব প্রতিনিধি :

ফেনীতে ব্যবসায়ীদের আপত্তি উপেক্ষা করে তাঁত, বস্ত্র ও শিল্প মেলা অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ফেনী পৌর শাখার সাবেক সহ-সভাপতি আবুল কাশেম মেলা আয়োজনে সুপারিশ করেন। তিনি পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে একতরফাভাবে গঠিত ফেনী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি। বুধবার সকালে শহরের মিজান রোডের শহীদ জহির রায়হান হল মাঠে বিতর্কিত এই মেলার উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহরের প্রাণকেন্দ্রে তাঁত, বস্ত্র ও শিল্পমেলা প্রস্তুতির শুরু থেকে ব্যবসায়ীরা বিরোধীতা করে আসছেন। মেলার অনুমতি না দিতে জেলা প্রশাসক মনিরা হকের কাছে ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে আবেদন করেন শহর ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল। তাদের দাবী, ফেনীতে প্রতি কয়েকমাস অন্তর বিভিন্ন রকমের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে করে ফেনীর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েন। এসব মেলায় মানহীন পন্য বিক্রিসহ ফেনীর কোন ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ বা কোন প্রকার স্টল নিতে পারেন না। মেলাগুলোতে স্টল ভাড়া নেয়া ব্যবসায়ীদের সবাই বহিরাগত। কিন্তু ফেনী জেলার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ভ্যাট, ট্যাক্স দেন তারা ব্যবসায় হুমকীর সম্মুখীন হচ্ছেন।


শহর ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ফেনী শহরের ব্যবসায়ীদের জন্য এই কথিত মেলা খুবই হুমকি স্বরূপ। বন্যা পরিস্থিতি ও আন্দোলন সংগ্রাম, নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে ব্যবসা বাণিজ্য এখনো স্থিতিশীল হয়নি। এরমধ্যেই কয়েক মাস পরপর তাঁত বস্ত্র ও শিল্প মেলার নামে ফেনীর বাহিরে লোকজন এসে মানহীন এবং ঠকবাজি করে যাচ্ছে। আগেও পতিত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে সরকার দলীয় নেতা ও প্রশাসনের লোকজনের যোগসাজসে এই ধরনের মেলা গড়ে ব্যবসায়ীদের সর্বনাশ করেছে।


আলাল আরো বলেন, বিগত বছর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম এরকম মেলা আয়োজন বিষয়ে ফেনী ব্যবসায়ীদের দাবীর প্রেক্ষিতে মিজান রোডের জেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে আর কোনো এইরকম মেলা অনুষ্ঠিত হবেনা বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। সম্প্রতি মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে। এটি বন্ধ করার জন্য তিনি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


এদিকে গত ৩০ মার্চ চেম্বারের পক্ষ থেকে আবুল কাশেম মেলা আয়োজনের সুপারিশ করেন। সুপারিশপত্রে উল্ল্যেখ করা হয়, এ.এস.টি কর্পোরেশন জেলা পরিষদ মালিকানাধীন শহীদ জহির রায়হান হলের মাঠে তাঁতবস্ত্র ও হস্তশিল্প মেলা আয়োজনের জন্য চেম্বার অব কমার্সকে আবেদন করে। ফেনী জেলা প্রশাসনের সম্মতিক্রমে ও শর্তাবলী মেনে এ.এস.টি কর্পোরেশনকে মেলা আয়োজনের জন্য সুপারিশ করা গেল।


অপরদিকে বুধবার সকালে জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন। এসময় যুগ্ম-আহবায়ক এয়াকুব নবী, চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি ও স্টারলাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন, চেম্বারের পরিচালক মুশফিকুর রহমান পিপুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাঈদুর রহমান জুয়েল, ছাত্রদল সভাপতি সালাহ উদ্দিন মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে মেলা উদ্বোধনের খবর জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ী ও গ্র্যান্ড হক টাওয়ারের পরিচালক ইমন উল হক বলেন, আগষ্ট পরবর্তী চেম্বার এর কোনো কার্যক্রম নেই অথচ ব্যবসায়ীদের ১২টা বাজাতে মেলা আয়োজনে সহযোগীতা করছে। এখানে তাঁত, হস্ত বা কুঠির শিল্পের কোনো আইটেম নেই।


আয়কর আইনজীবি আরিফুল হাসান রবিন বলেন, ফেনীর সনামধন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সুযোগ না দিয়ে বহিরাগত হকারদের নিম্নমানের পণ্য এনে মেলা আয়োজনের সুযোগ করে দিয়ে চেম্বার অব কমার্স নিজেদের অবস্থানকে ছোট করেছে।


সাংবাদিক জহিরুল হক মিলু বলেন, চেম্বার অব কমার্স দীর্ঘদিন অকার্যকর সারাদিন বিদ্যুৎ সংকট এবং সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা, নানা কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন। এই ধরনের মেলা “মরার উপর খাঁড়ার ঘা” হিসাবেই দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে শেখ ফরিদ বাহার বলেন, এখন ঈদ মৌসুম নয়। তাছাড়া মেলাটি শহরের একপ্রান্তে। এই মেলা চলমান থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যে কোন প্রভাব পড়বেনা বলে তিনি মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!