জুন ৬, ২০২৬ ০৩:০৪

লেমুয়ায় ৭ কি.মি. সড়কের গাছ লুট


নিজস্ব প্রতিনিধি :

ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের লেমুয়া-মমতাজ মিয়া সড়কের দুই পাশের গাছ টেন্ডার ছাড়াই কেটে নেয় স্থানীয় প্রভাবশালীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ গাছগুলো ২০০৩সালে রংধনু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংঘ বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে লাগানো হয়েছে।


স্থানীয়রা জানায়, লেমুয়া ব্রীজ থেকে মমতাজ মিয়া পর্যন্ত সড়কটি সম্প্রসারণ করার জন্য সম্প্রতি ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন করার পর কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়াই গাছগুলো কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় সৈয়দ কামরুল ইসলাম, পিংকু, আবদুল কাদের, আজিজুল হক ভেন্ডর ও মফিজুল হক।


স্থানীয় রংধনু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংঘ সভাপতি শামছুদ্দীন চৌধুরী মানিক জানান, ‘‘গাছগুলো তারা লাগিয়েছে। কোন টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়া গাছ কেটে নেয়া দু:খজনক ঘটনা। এলাকায় এ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।’’


স্থানীয় রংধনু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংঘের কোষাধ্যক্ষ নিজাম উদ্দীন জানান, ‘‘২০০৩ সালে বৃক্ষরোপের মাধ্যমে গাছগুলো লাগানো হয়। অথচ কে বা কারা লাখ লাখ টাকার গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এটি সরকারি প্রতিকারও দাবী করেন তিনি।’’


লেমুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ আলম মিয়াজী জানান, ব্যক্তি মালিকানা গাছ দাবী করে গাছগুলো কেটে নিচ্ছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। তবে টেন্ডার ছাড়া গাছ কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে।


লেমুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নান্টু কুমার দাস জানান, ‘‘জায়গাটি স্বাস্থ্য বিভাগের। গাছ কাটা সম্পর্কে স্বাস্থ্য বিভাগ অবগত নয়। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এসে দেখেন রবিবার সকালে সব গাছ কাটে ফেলেছে। এ বিষয়ে বন বিভাগ, এলজিইডি, সড়ক বিভাগ কোথাও থেকে লিখিতভাবে ও মৌখিক জানানো হয়নি।


লেমুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ফেরদৌস আহমেদ কৌরেশী জানান, এলাকার কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যক্তি টেন্ডার ছাড়া গাছগুলো কাটা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক গাছ কাটার বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানিয়েছে।


সামাজিক বন বিভাগের ফেনী সদর উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিক জানান, লেমুয়া অথবা ধলিয়াতে রাস্তার পাশে গাছ কাটা নিয়ে আমাদের দপ্তর থেকে কোন টেন্ডার হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই।


লেমুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক জসিম উদ্দিন জানান, কে বা কারা গাছ কেটে নিচ্ছে তা আমাদের জানা নেই। আমরা গাছগুলো জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী দ্বীপ্ত দাস গুপ্ত জানান, টেন্ডার হয়েছে এমন কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে গাছ কেটে নিচ্ছে এমন খবর পেয়ে তা যথাযথ কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।


এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক সাহেদা ইসলাম বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জায়গার গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। গাছগুলো কোন দপ্তর টেন্ডার দিয়েছে। তা আমরা বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও নিশ্চিত হতে পারিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!