জুন ৬, ২০২৬ ০২:১০

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ১শ শয্যার জনবলও নেই, চলছে ২৫০শয্যা


নিজস্ব প্রতিনিধি :

ফেনী জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রায় একযুগ আগে ২৫০শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিলো। নামে ২৫০শয্যা হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী না থাকায় যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ফেনীসহ আশপাশের জেলার বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, আড়াইশ শয্যা দূরের কথা একশ শয্যার জনবলও নেই। ফলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে জেলার অন্যতম প্রধান এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ৭৪জন ডাক্তারের মধ্যে ৩২টি পদ শূন্য রয়েছে। ৯জন সিনিয়র কনসালটেন্ট পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৫জন। এরমধ্যে মেডিসিন, শিশু, ডেন্টাল, চক্ষু ও স্কীন বিশেষজ্ঞ পদ শূন্য রয়েছে। জুনিয়র কনসালটেন্ট পদে ১২জনের পদ থাকলেও এখানেও ৫জনের পদ শূন্য। এরমধ্যে চক্ষু, সার্জারী, ফিজিক্যাল মেডিসিন, প্যাথলজি, রেডিওলজি রয়েছে। ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের ২টি ও মেডিকেল অফিসারের ১টি পদ শূন্য রয়েছে।


সূত্র আরো জানায়, দ্বিতীয় শ্রেনীর ২১৮জন নার্সের মধ্যে ১৪৭জন কর্মরত রয়েছেন। এই পদের ৭১টিই শূন্য। তৃতীয় শ্রেনীর ৪৩টি পদের মধ্যে ১৭জন, চতুর্থ শ্রেনীর ৭৩টি পদের মধ্যে ৫৮জনসহ ১৭৮জনের পদ শূন্য রয়েছে।


হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই হাসপাতালে ফেনী জেলা ছাড়াও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নোয়াখালীর সেনবাগ, চট্টগ্রামের মীরসরাই, খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চিকিৎসাসেবা নেন। অব্যাহত রোগীর চাপ সামলাতে ২০০৫সালে ফেনী ১০০শয্যার সদর হাসপাতালটিকে ২৫০শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০০৭ সালের ২০ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের ২৩ফেব্রুয়ারি নতুন ভবনটি উদ্বোধন হয়। ১১কোটি টাকা ব্যয়ে ৪তলা বিশিষ্ট ওই ভবনে বর্হি:বিভাগ, এক্স-রে ও সিটিস্ক্যান বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, ১০শয্যার আইসিইউ, ১২শয্যার সিসিইউ, ১৪শয্যার ডায়ালাইসিস, জেনারেল ওয়ার্ড, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড, কেবিন ও ভিআইপি কেবিন রয়েছে।


হাসপাতালের আরএমও ডা. রোকন উদ দৌলা জানান, রোগীর খুবই চাপ। ২৫০শয্যার এ হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ভর্তি রোগী ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। এই জনবল দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।


হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম জানান, হাসপাতাল ২৫০শয্যার হলেও অথচ জনবল কাঠামো ১০০শয্যারও কম। চিকিৎসকসহ জনবল স্বল্পতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!