সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৬:৫৩

১৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি মহিপালে বাসা থেকে লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার গ্রেফতার হয়নি দুষ্কৃতিকারীরা


শহর প্রতিনিধি :

১৬দিনেও উদ্ধার হয়নি মহিপালে বাসায় ঢুকে দিনদুপুরে গৃহবধূকে জিম্মি করে লুট হওয়া নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার। এখনো গ্রেফতার হয়নি দুষ্কৃতিকারীরা। টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তবে পুলিশের দাবী লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও দুষ্কৃতিকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জানা যায়, ১৯আগস্ট বুধবার সকালে শহরের মহিপাল মুসলিম ভূঁইয়া বাড়ির হাজী আজিজ আহমদ সড়কের রেহান ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় প্রবাসী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামানের বাসায় তার স্ত্রী শাহানা আক্তার কে ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে নগদ ১০লাখ ৬০হাজার টাকা ১৪ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সোহেল নামে এক ভ্যান চালককে গ্রেফতার করা হয়। সে এখন কারাগারে রয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় ২০ আগস্ট প্রবাসী নুরের জামান ফেনী মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এ ঘটনার সাথে মূলত সোহেল এবং সোহেলের ভাই সজিব ও তার স্ত্রী ফাতেমা জড়িত। সোহেল ও সজিব দুইজনে আপন ভাই এরমধ্যে সজিব ও তার স্ত্রী একই ভবনের তৃতীয় তলায় দীর্ঘ সময় ধরে ভাড়া রয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে ছিল সখ্যতাও। ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. নুরুজ্জামানের দাবি, সজিব ও তার স্ত্রী ফাতেমা তাদের বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। তাদের কোথায় কি আছে তা তারাই জানতেন। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামরায় ঘটনার আগে-পরে তাদের তৎপরতা ছিল বলে তার দাবি। তিনি বলেন, ‘এখানে সজিব ও সোহেল মিলে ডাকাতদের ভাড়া করে এ ঘটনা ঘটায়। এদের সাথে ফাতেমা সম্পৃক্ত ছিলো।’

মো. নুরুজ্জামান আরো বলেন, ‘আমার লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার হইছে কি না জানি না। কিন্তু মূল দুই ডাকাত সদস্যকেই গ্রেফতার করা হয়নি। পাশাপাশি এখনো সজীব ও তার স্ত্রী ফাতেমা আটক করা হয়নি। তারা জড়িত। তাদের আটক করলে সব পাওয়া যাবে।’

এদিকে পুলিশের দাবি, লুট হওয়া নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং দুইজনকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া সজীব ও ফাতেমার সম্পৃক্ততার বিষয় কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবী পুলিশের। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. অলি আহাদ বলেন, ‘লুট হওয়া নগদ টাকা ও স্ব^র্ণালংকার উদ্ধার এবং ডাকাত সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আর সজীব বা ফাতেমার কোন সম্পৃক্ততা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। যদি ডাকাত সদস্যরা গ্রেফতার হয়, সেখানে যদি তাদের নাম আসে তাহলে অবশ্যই তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কিন্তু সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পেলে গ্রেফতার তো সম্ভব না।’
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর দুইজনকে গ্রেফতারে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!