সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৩:৩৯

ফাঁসির সেল থেকে মুক্ত আকাশে নুসরাত হত্যা মামলায় আপিলে খালাস প্রাপ্ত ১০আসামি


নিজস্ব প্রতিনিধি : সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে হাইকোর্টে আপিলে খালাস পাওয়া ১০আসামি তিনটি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার সোনাগাজী পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ-সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম সাড়ে সাত বছর পর ফেনী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। একইদিন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার  সোনাগাজী কামিল মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আব্দুল কাদের, মোহাম্মদ শামীম, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন গাজীপুর কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মহিলা বন্দি কামরুন্নাহার মণি গাজীপুর কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
এ সময় তার সাথে থাকা কন্যা মোবাস্বেরা খানম রাথি (৬) ও বেরিয়ে আসেন। মুক্তি প্রাপ্তদের সবাইকে তাদের স্বজনরা ফুল দিয়ে বরণ করেন। ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি করেন নিহত নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনী জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদের আদালত ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেছিলেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে গত ২৪ আগস্ট অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড ও চারজন আসামি নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ও উম্মে সুলতানা পপির যাবজ্জীবন এবং ১০ জন আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।
ফেনী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় মাকসুদ আলমের খালাসের আদেশের কপি বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ফেনী কর্তৃক প্রেরিত রোববার রাত ৮টার দিকে ফেনী জেলা কারাগারে পৌঁছায়। সেই আদেশের আলোকে ১৪ সেপ্টেম্বর মাকসুদ আলম প্রকাশ মাকসুদ আলী কাউন্সিলরকে কারাগার থেকে মুক্তি প্রদান করা হয়।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন।
এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!