নিজস্ব প্রতিনিধি : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ফেনীতেও ইতিমধ্যে সরব হতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিশেষ করে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং জামায়াতের ঘোষিত প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে মাঠে সরব হতে শুরু করেছে। এদিকে বিএনপিতে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রায় দশ থেকে বারোজন করে। সদস্য পদে প্রার্থীর সংখ্যাও প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ থেকে ৬ জনের বেশি। সংখ্যায় পিছিয়ে নেই সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদেও। এদিকে জেলার তিনটি ছাড়া বাকি সবকটি ইউনিয়নে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদেও প্রায় ৮৫ থেকে ৯০শতাংশ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছে এসব প্রার্থীরা। এছাড়া এনসিপি থেকে এখন পর্যন্ত জেলার কোনো ইউনিয়নেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলটি থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রায় দশ থেকে বারো জন করে। কোনো কোনো ইউনিয়নে কম থাকলে আবার কোনো ইউনিয়নে সংখ্যাটা বেশি। ইতিমধ্যে নিজেদের মতো করে অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে এসব মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। নিজেদের মতো করে পালন করছেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিও। প্রার্থিতা নিয়ে ইতিমধ্যে বেশিরভাগ ইউনিয়নেই গ্রুপিং ছড়িয়ে পড়েছে চরম পর্যায়ে। এতে নিজেদের মধ্যে বাড়ছে সংঘর্ষের শঙ্কাও। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘটেছে মারামারির ঘটনাও। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে পাঁচগাছিয়ায় বিএনপি নেতা কামালের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। ঘটনাকে নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করায় হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া মোটবীতে সপ্তাহখানেক পূর্বে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যেও অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী ঘোষণার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জেলা বিএনপি। প্রার্থী ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে যাচাই-বাছাই। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের থেকে নেওয়া হচ্ছে মতামত।
দলটির একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সম্পাদক ও ইউনিয়ন বিএনপির সুপার ৫-এর মতামত নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের নামও দিতে বলা হয়েছে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে তিনজনকে ঠিক করা হবে। সেই তিনজন থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি একজনকে মনোনয়ন দিয়ে থাকবেন।
জেলা বিএনপির সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত মাথায় রেখে একক প্রার্থী ঘোষণা করবে দলটি। সেখানে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়াতে দেওয়া হবে না বলে জানান নেতারা। দাঁড়ালেও নেয়া হবে ব্যবস্থা। এছাড়া প্রার্থী বাছাইয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে অতীত ত্যাগ, নির্যাতন ও মামলা-হামলার বিষয়। এছাড়া সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলে জড়িতদের বাদ দেওয়া হবে বলেও দলটির নেতারা জানান।
এ বিষয়ে ফেনী সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির ফেনীর সময়কে বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা ৯ ইউনিয়ন নিয়ে বসেছি। আজ (গতকাল) বাকি তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে বসা হচ্ছে। সবার মতামত নেওয়া হচ্ছে। মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। যেসব প্রার্থীর নাম আসবে, সেখান থেকে আমরা তিনজনকে বাছাই করব। পরে তিনজন থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির মতামতের ভিত্তিতে একজনকে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন, সেসব মেনে প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হবে। বিশেষ করে যারা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলবাজ, তাদের কোনোভাবে দেয়া হবে না। তাদের বাদ দেওয়া হবে।’
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘ইতিমধ্যে ইউনিয়ন ও উপজেলা বিএনপি বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সিদ্ধান্তে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।’
একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩ ইউনিয়নে
ঘোষণা করেনি জামায়াত
জেলার ৪৩ইউনিয়নের ৪০ইউনিয়নে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘ সময় ধরে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এসব প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ওয়ার্ড সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদেও প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে বলে দলটির সূত্র ফেনীর সময়কে নিশ্চিত করেছে।
জেলা জামায়াতের সূত্র জানায়, জেলার ৪৩ইউনিয়নের মধ্যে ৪০ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জেলার সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী সদর, চরদরবেশ ইউনিয়ন ও ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নে এখনো কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এসব ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থাকায় ঘোষণা করা হয়নি বলে দলটির একাধিক সূত্র জানায়। এছাড়া বাকি ওয়ার্ড পর্যায়েও একাধিক প্রার্থী থাকায় সেসবেও এখনো প্রার্থী ঠিক করতে পারেনি দলটি। তবে খুব দ্রুত প্রার্থী ঘোষণা শেষ করতে কাজ করছে দলটি বলে একাধিক সূত্র ফেনীর সময়কে নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন ফেনীর সময় কে বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে মাঠে কাজ করছে। আমাদের জেলা থেকে ৪০ ইউনিয়নে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থীরা নিজেরা যার যার এলাকায় সময় দিচ্ছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন ও যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন এবং গণসংযোগও করছেন। জামায়াতে ইসলামী সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি যেগুলো রয়েছে, ওই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড প্রার্থীদের নামও খুব দ্রুত ঘোষণা করা হবে ইনশাআল্লাহ।’
জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান বলেন,‘ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে আমরা প্রস্তুত। আমাদের প্রার্থীরা কাজ করে যাচ্ছে। যেসব ইউনিয়নে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি সেসবেও দ্রুত ঘোষণা করা হবে।’
প্রার্থী ঘোষণা দিতে
পারেনি এনসিপি
জেলার কোনো ইউনিয়নে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অনেকে এলাকায় নির্বাচন করার আগ্রহ দেখালেও দল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে বেশ কিছু ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারে দলটি। বিশেষ করে সোনাগাজী উপজেলার ৬ইউনিয়ন, ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়াসহ জেলার বেশকিছু ইউনিয়নে প্রার্থী ঘোষণা দিতে পারে বলে জানা যায়।
দলটির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সূজা উদ্দিন সজিব ফেনীর সময়কে বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত আসার পরে আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রার্থী ঘোষণা দেব।’
দলের জেলা শাখার সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক বলেন, ‘এনসিপি প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে যোগ্য, সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করা হবে।’