ফেনীবাসীর আশা ভঙ্গ
* সর্বমহলে ক্ষোভ-হতাশা
* নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন দাবি বিএনপি নেতাদের
আরিফ আজম :
ফেনীতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেও সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবিটি উপেক্ষিত থাকায় ফেনীবাসি আশাহত হয়েছেন। রাজনৈতিক সচেতনরা ছাড়াও সর্বমহলে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এ দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আন্দোলনে নামছেন সচেতন নাগরিকরা। তবে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা সহ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানান বিএনপির নেতারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব চলাকালে ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানিয়ে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি। তিনি ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের আবেদন করেন। জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের ক্ষেত্রে অবকাঠামো নির্মাণ, উপযুক্ত শিক্ষক পদায়ন, যন্ত্রপাতি সংস্থানের বিষয়াবলী নিশ্চিত করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এ সকল প্রস্তুতি ব্যতিরেকে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপন যুক্তিযুক্ত নয়। এ কারণে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েই দেশের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়ে থাকে।তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ৮টি নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন। তার মধ্যে মুন্সীগঞ্জে একটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, নাটোর ও নরসিংদী প্রত্যেকটি একটি এবং ভোলা, শেরপুর এবং লক্ষ্মীপুরে একটি করে মেডিকেল কলেজের প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন এবং বিবেচনাধীন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে আমরা যখন সমস্ত কিছু যোগানের মাধ্যমে আরও মেডিকেল কলেজ স্থাপন করতে যাব, তখন ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করব। কারণ শুধু মেডিকেল কলেজ স্থাপন করলে হয় না, এর সাথে প্রচুর রোগীর সংকুলান দিতে হয়। মানে একটি হাসপাতালের দরকার হয় শিক্ষার্থীদের হাতে-নাতে গুণগত উচ্চমানের শিক্ষা দেওয়ার জন্য। ৮টি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রমের মধ্যপথে এবং শেষে প্রধানমন্ত্রী যখন সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন আমরা বিবেচনা করব। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে উত্থাপনকারী সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করেন।
এদিকে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রত্যাহারের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় সর্বমহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নেটিজেনরা সরকারের নীতিনির্ধারকদের সমালোচনায় মেতে উঠে। শুধু তাই নয়, চলতি বছর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেয়া মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির বক্তব্যটি প্রচার করেন।
এই প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব ফেসবুকে লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ফেনী মেডিকেল কলেজ দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।
ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম- আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক ফেসবুকে লিখেছেন, “নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ফেনী মেডিকেল কলেজ দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। এক্ষেত্রে কোন ছুদুর বুদুর চলবে না।”
ইসলামী আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারী একরামুল হক ভূঁইয়া লিখেছেন, “ফেনীতে মেডিকেল কলেজ,পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও লালপোল ওভারব্রীজ অতি প্রয়োজনীয়। এই দাবীতে ফেনীবাসি ঐক্যবদ্ধ। আমজনতা মনে করে খাল খননের চেয়েও এই দাবী গুলো অপরিহার্য। মানববন্ধন, গনজমায়েত, বিক্ষোভ মিছিল, ঢাকা প্রেস ক্লাব অবস্থান ও প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় অভিমুখে রওয়ানা..”
জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা আমির মুফতি আবদু হান্নান লিখেছেন, চব্বিশের রক্তস্নাত ফেনীতে নির্বাচনী জনসভায় মেডিকেল কলেজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সংসদে উনার উপস্থিতিতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন। জুলাইকে ধারন করতে যেমন আন্দোলন প্রয়োজন তেমনি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা সহ ন্যায্য দাবী আদায়ে ফেনীবাসীকে আবার রাজপথে নামতে হবে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এসএম কায়সার এলিন লিখেছেন, ফেনীবাসির প্রাণের দাবি “ফেনীতে মেডিকেল কলেজ চাই”।
জেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য আবু আইয়ুব আনসারী শামীম লিখেছেন, ফেনী-২ এর মাননীয় সাংসদ অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি ভাই, সংসদে নয় আপনি ফেনী মেডিকেল কলেজের দাবি আদায়ে রাজপথে নামুন, সমগ্র ফেনীবাসী আপনার সাথে আছে।