জুলাই ১৬, ২০২৬ ০০:৫৭

ফেনীতে সিএনজি অটোরিক্সা ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য


নিজস্ব প্রতিনিধি :

ফেনী শহরের হাসপাতাল মোড় থেকে ১৪ কিলোমিটার ফুলগাজী বাজার পর্যন্ত সিএনজি অটোরিক্সায় ভাড়া যাত্রী প্রতি ৩০-৩৫টাকা। পুরাতন মুন্সিরহাট আর নতুন মুন্সিরহাট পর্যন্ত নেয়া হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকা। পরশুরাম পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার যেতে ৪০ টাকা আদায় করা হয়। অন্যদিকে মহিপাল থেকে দরবেশের হাট পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার যেতে ৫০ টাকা নেন চালকরা। শহরের মাষ্টারপাড়া মৌলভী বাজার থেকে লস্করহাট যেতে ৭ কিলোমিটার সড়কে আদায় করা হয় ৩০ টাকা। সন্ধ্যার পর এসব ভাড়া বেড়ে দ্বিগুন হয়ে যায়।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং আভ্যন্তরীন এলাকায় সিএনজি অটোরিক্সায় যাতায়াতে ভাড়া নিয়ে এই নৈরাজ্য দীর্ঘদিনের। কেউ কম ভাড়া দিতে চাইলে চালকদের দুর্ব্যবহারের শিকার হন। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর চালকরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। কেউ কারো কথা না শোনা মনোভাবে থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে দাবীকৃত ভাড়া দিয়ে থাকেন। বিষয়টি নিত্যনৈমিত্তিক হলেও জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এমনকি বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল আমিন শেখ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অজয় চন্দ্র দাস ও সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাকছুদ আহমেদ এর সমন্বয়ে ফেনী-সোনাগাজী রুটে সিএনজি অটোরিক্সার ন্যায্যা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ফেনী শহর থেকে লালপোল পর্যন্ত ১০ টাকা. ফেনী-বটতলা পর্যন্ত ১৫ টাকা, ফেনী-কুঠিরহাট ১৫ টাকা, ফেনী-বালুয়া চৌমুহানী ২০ টাকা, সোনাগাজী-ধলিয়া ৩০ টাকা, ডাকবাংলা-ফেনী ৩০ টাকা, ফেনী-মতিগঞ্জ ৩৫ টাকা, ফেনী-সোনাগাজী ৪০ টাকা, ফেনী-বাগেরহাট ২০ টাকা, সোনাগাজী-লালপোল ৩০ টাকা, সোনাগাজী-ডাকবাংলা ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চালকদের কেউ কেউ এখনো সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইচ্ছেমত ভাড়া নিচ্ছেন বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।


অন্যদিকে মহিপাল থেকে দাগনভূঞা যেতে ১৫ কিলোমিটার সড়কে নেয়া হয় ৩০টাকা। আর সিলোনীয়া পর্যন্ত ২০টাকা ও বেকের বাজার পর্যন্ত ৩০টাকা নেয়া হয়। শহরের হাসপাতাল মোড থেকে ছাগলনাইয়া যেতে ১২ কিলোমিটার সড়কে ৩০টাকা নেয়া হয়। জেলা সদরের সাথে উপজেলা পর্যায়ের কিলোমিটার প্রতি ভাড়ার তুলনায় সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের হাট-বাজারে যাতায়াতে ভাড়ার তারতম্য রয়েছে।

মঙ্গলকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সেলিম উদ্দিন বলেন, ট্রাংক রোড থেকে ডাকবাংলা পর্যন্ত গতকাল মঙ্গলবার যাওয়া-আসায় ৪০ টাকা করে ৮০টাকা দিতে হয়েছে। ভাড়া নির্ধারণের কথা বলা হলে চালক উল্টো ক্ষেপে যান। নির্ধারিত ভাড়া তারা আইন মানতে রাজী নন। শুধু তাই নয়, ডাকবাংলা থেকে কাজিরহাট পর্যন্ত গেলে ২০টাকা দিতে হয়।

প্রবীণ সাংবাদিক আবু তাহের বলেন, জেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে ভাড়া নির্ধারণ করা হোক। প্রতিদিন চালক-যাত্রীদের বাকবিতন্ডা হয়। একটি রুটে একাধিক স্থানে টোল ও নামে-বেনামে সমিতির নামে চাঁদা উঠনো হচ্ছে। টোলের টাকা পাবলিক দিতে হচ্ছে। এ নৈরাজ্য বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

ফেনীতে সিএনজি ভাড়া নিয়ে চালকরা বেপরোয়া

নিউজ সাইড স্টোরী :

ফেনী পৌর এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও প্রতিদিন যাত্রী ও চালকদের মাঝে বাকবিতন্ডা চলছে। সিএনজিতে শহরের যেকোনো স্থান থেকে উঠানামা করলেই ১০টাকা আদায় করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পৌরসভার ট্রাংক রোড থেকে মহিপাল ভাড়া নির্ধারিত ছিল ১০টাকা। এছাড়াও ট্রাংক রোড থেকে পাঠান বাড়ি রাস্তার মাথা পর্যন্ত যেকোনো স্থানে ৫টাকা পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত ছিল। একইভাবে ট্রাংক রোড থেকে সালাউদ্দিন মোড় পর্যন্ত ১০টাকা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় পর্যন্ত ছিল ৫টাকা ছিল। তেমনিভাবে ট্রাংক রোড থেকে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারিত ছিল ১০টাকা, রেলগেট পর্যন্ত ৫টাকা ছিল। এছাড়াও ট্রাংক রোড থেকে লালপোল পর্যন্ত ১০টাকা ও দাউদপুর ব্রীজ পর্যন্ত ছিল ৫টাকা।

বিগত প্রায় ৩মাস ধরে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা কৌশল করে ভাংতি নেই বলে ১০টাকার নোট দিলে আর টাকা ফেরত দিতো না যাত্রীদের। একপর্যায়ে সিএনজি অটোরিকশায় উঠলেই ১০টাকা জোর করে আদায় করে নেয় চালকরা। এ নিয়ে প্রতিদিনই চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
আরিফ হোসেন প্রবীণ নামের এক যাত্রী জানান, ট্রাংক রোড থেকে এফ রহমান এসি মার্কেটের সামনে সামলে চালককে ভাড়া দিলে সে ১০টাকা রেখে দেয়। এসময় চালককে জিজ্ঞেস করা হলে সে জানায় উঠানামা ১০টাকা। কে নির্ধারন করে দিয়েছে জিজ্ঞেস করা হলে কোন উত্তর দেয়নি।

তিনি আরো জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ ছোটছোট জনসম্পৃক্ত এসব বিষয়গুলো যদি নজর না দেন তাহলে স্বল্প আয়ের মানুষ গুলোর কি চরম দশা হবে। তিনি পৌর কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ জানান।

দেলোয়ার হোসেন সোহেল নামের এক যাত্রী জানান, তার দুই ছেলে শিশু নিকেতন কালেক্টরেট স্কুলে পড়াশোনা করে। এছাড়াও বিকালে প্রাইভেট পড়ার জন্য যেতে হয়। ট্রাংক রোড থেকে শিশু নিকেতনের সামনে আগে ৫টাকা ভাড়া ছিল। কিন্তু এখন ১০টাকার নিচে চালক মানতে রাজি নয়। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে আমাদের বাঁচার উপায় কি। সামান্য পথ যদি ১০টাকা ভাড়া হয় এটা কিভাবে সম্ভব। অথচ যাত্রী নামা মাত্র অন্য যাত্রীও সিএনজিতে উঠেন।

তিনি আরো জানান, একজন যাত্রী ট্রাংক রোড থেকে উঠে শিশু নিকেতনের সামনে নামলে ১০টাকা আবার ওখান থেকে আরেকজন যাত্রী উঠে ডিসি অফিসের সামনে নামলেও ১০টাকা। ডিসি অফিসের সামনে থেকে ওঠে সালাউদ্দিন মোড় গেলে ১০টাকা আদায় করা হচ্ছে। তাহলে চালকের ভাড়া পড়ে ৩০টাকা। এটা তো মেনে নেয়া যায় না।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হয়নি তাহলে ভাড়া কেন চালকরা নিজ ইচ্ছায় বৃদ্ধি করবে। এটা পৌর প্রশাসক নজরে আনা প্রয়োজন।

জানতে চাইলে ফেনী পৌরসভার প্রশাসক মো. দিদারুল আলম ফেনীর সময় কে জানান, ‘‘পৌর এলাকায় সিএনজি অটোরিকশার ভাড়ার বিষয়ে তার নলেজে ছিলনা। ভাড়া নিয়ে যেহেতু চালক-যাত্রী উভয়ের মাঝে বৈষম্য হচ্ছে তা অবশ্যই দেখা যাবে। প্রয়োজনে চালক ও মালিক পক্ষকে ডেকে কি করা যায় সেটাও করা হবে।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!