জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৩:২২

ফেনীতে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের
নামে হওয়া শতাধিক মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি


নিজস্ব প্রতিনিধি :

পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ফেনীতে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের নামে হওয়া শতাধিক মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি। এসব মামলার মধ্যে বেশ কয়েকটি হত্যা মামলাও রয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহার না হওয়ায় এখনো আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে হয় অনেক নেতাকর্মীদের।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৪ সালের ৫আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পূর্ব পর্যন্ত বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফেনীতে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অন্তত ৬ শতাধিক মামলা দেয়া হয়। এসব মামলায় আসামি করা হয় উভয় দলের প্রায় ১৫ হাজার নেতাকর্মীকে। আবার বেশিরভাগ মামলায় ঘুরে ফিরে আসামি ছিলেন দল দুইটি শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। অনেকে ছিলেন ৩০ থেকে ৩৫টি কিংবা অর্ধশতাধিক মামলার আসামি।

২৪ বছর বয়সে ২২ মামলার আসামি হয়েছিলেন এক ছাত্রদল নেতাও। অন্তত ২ ডজন গায়েবী মামলার চার্জশীটে যুক্ত করে দেয়া হয় ফেনীতে কর্মরত ৬ সাংবাদিককে। এরমধ্যে দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, দৈনিক আমার দেশ প্রতিনিধি এস.এম ইউসুফ আলীও রয়েছেন।

সূত্র আরো জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় পতিত সরকারের সময়ে করা রাজনীতিক হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরমধ্যে বেশ কিছু মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। প্রায় দুই বছর হতে চললেও এখনো প্রত্যাহার হয়নি শতাধিক মামলা। মামলার বেশিরভাগই রয়েছে হত্যা ও অস্ত্র মামলা। এরমধ্যে প্রত্যাহার হয়নি এমন অস্ত্র মামলার সংখ্যায় বেশি। এসব মামলার মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে রয়েছে শতাধিক ও জামায়াত নেতাকর্মীদের নামে রয়েছে অন্তত ৮টি। এরমধ্যে ২০ থেকে ২২টি মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে ২দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানায়, এসব মামলার মধ্যে বেশিরভাগ বাদী পুলিশ। প্রত্যাহার না হওয়া এসব মামলায় হত্যা মামলা রয়েছে ১৩টির মত, অস্ত্র মামলা রয়েছে ২৫টিরও বেশি। এছাড়া নাশকতা ও ভাংচুরের মামলাও রয়েছে অনেকগুলো। মামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে ২০১৩ সালে শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে যুবদল নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা।

ওইদিন পুলিশের গুলিতে হারুন নামে এক যুবদলকর্মী নিহত হয়। উল্টো পুলিশ বাদি হয়ে তৎকালীন জেলা যুবদল সভাপতি গাজী হাবিব উল্ল্যাহ মানিক ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীসহ যুবদল-ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের আসামি করে মামলা দায়ের করে।

এছাড়া ফাজিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজের ভাই হত্যাকান্ডের ঘটনায় শাহজাহানসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়। এভাবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে সোনাগাজীতে দুইজন নিহতের ঘটনায়ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

সোনাগাজীর তাকিয়া বাজারে আওয়ামীলীগ দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তাদের একজন নিহতদের ঘটনায়ও বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়।

এছাড়াও শহরতলীর কালিপালে জোড়া খুনের ঘটনায় তখনকার জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এসবের কোন মামলায় এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।

জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক গাজী হাবিব উল্ল্যাহ মানিক বলেন, ইতিমধ্যে মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলের পক্ষ থেকে পিপি এর কাছে জমা দেয়া হয়েছে। আশাকরছি তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমীর মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, আমরা আদালতের মাধ্যমে চেষ্টা করতেছি যেন এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলা সহসায় শেষ করা যায়।

জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, এখনো অনেক মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের আদালতে ছুটতে হচ্ছে, আমরা আশাকরছি অচিরেই এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে।

জানতে চাইলে পি.পি. মেজবাহ উদ্দিন খাঁন বলেন, পতিত সরকার আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মামলা সমূহের মধ্যে ৫৫৬টি প্রত্যাহারের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ২২৩টি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এরমধ্যে ১৮০টি প্রত্যাহার ও অপর মামলা সমূহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হয়েছে। আরো প্রায় ১শত মামলা প্রত্যাহারের জন্য জেলা কমিটি বরাবরে জমা রয়েছে। এরমধ্যে জেলা কমিটিতে ৭টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপর মামলা সমূহ নিয়ে পরবর্তী সভায় আলোচনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!