শুভপুরে সরকারি জব্দকৃত বালু লুট
- লুটের পরিমান ২লাখ ২৩হাজার ৮শ ৩০ঘনফুট
- বালু লুটের ঘটনায় মামলা
- দুইটি ট্রাক জব্দসহ ৩ জন গ্রেফতার
- অভিযোগের তীর আলমগীর সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে
নিজস্ব প্রতিনিধি :
ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুরে ফেনী নদীর তীরে উপজেলা প্রশাসনের জব্দ করা ২লাখ ২৩হাজার ৮শ ৩০ঘনফুট বালু লুট করে নিয়ে গেছে দুবৃত্তরা। যার বাজার মূল্য ৬৭লাখ ১৪হাজার ৯শ টাকা। এঘটনায় ছাগলনাইয়া থানায় এসআই পংকজ দাস নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। সেখানে মামলার এজাহারে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে দৈনিক ফেনীর সময় এ এই নিয়ে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে আলমগীর সিদ্দিকী ও তার লোকজন অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আদালতের নির্দেশে ফেনী নদীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জয়পুর এলাকায় সরকারি জব্দ করা বালুর সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে উপজেলা প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারী উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ১শ ৭০টি বালুর স্তূপ পরিমাপ করেন। পরে তিনি ৩৮ লাখ ৯৮ হাজার ৬শ ৯৭ ঘনফুট বালু পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে আদালত থেকে পুনরায় পরিমাপ করতে বলা হয়। পুনরায় পরিমাপ করতে গেলে ২ লাখ ২৩ হাজার ৮শ ৩০ ঘনফুট বালু গরমিল পাওয়া যায়। প্রতি ঘনফুট বালুর দাম ৩০ টাকা হিসেবে লুট হওয়া বালুর দাম ৬৭ লাখ ১৪ হাজার ৯শ টাকা বলে তিনি মামলায় উল্লেখ করেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২০ জুলাই বিকাল ৫টা ২০মিনিটের মধ্যে বালু লুট হয়েছে।
মামলা সূত্র আরো জানায়, ইউনিয়নের জয়চাঁদপুর সাহেবের হাটের পূর্ব পাশে নদীর পাড়ে রক্ষিত ১শ ৬৮নং ক্রমিকে আলামত হিসেবে ২ লাখ ৩৪ হাজার ঘনফুট বালু উল্লেখ থাকলেও জব্দকালে সেখানে ৩৮ হাজার ৬শ ১০ঘনফুট বালু পাওয়া যায়। একইভাবে ১শ ৬৯নং ক্রমিকে আলামত ২১ হাজার ৬শ ঘনফুট বালু উল্লেখ থাকলেও জব্দকালে ৩ হাজার ৪শ ৫০ঘনফুট বালু এবং ১শ ৭০নং ক্রমিকে ২০ হাজার ৫শ ৮০ ঘনফুট বালু উল্লেখ থাকলেও জব্দ কালে ১০হাজার ২শ ৯০ঘনফুট বালু পাওয়া যায়। এভাবে ১শ ৭০টি বালুর স্তুপ হতে ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮শ ৬৭ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়। সেখানে প্রতিবেদনে ১শ ৬৮ হতে ১শ ৭০নং স্তুপে ২ লাখ ৭৬ হাজার ১শ ৮০ঘনফুট বালু উল্লেখ থাকলেও ৫২ হাজার ৩শ ৫০ঘনফুট বালু পাওয়া যায়। আর বাকি বালু গরমিল পাওয়া যায়।
অন্যদিকে শুভপুর ঘাট এলাকা থেকে চুরি করা বালুবোঝাই তিনটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। ২৬ জুলাই মধ্যরাতে জব্দ করা বালু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় ছাগলনাইয়া জিরো পয়েন্ট থেকে বালুভর্তি দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়। এসময় দুই চালককেও আটক করা হয়। পরে পৃথক মামলায় তিন ট্রাক চালককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জয়পুর গ্রামের মিয়াধনের ছেলে শাহাবুদ্দিন, একই গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে ফজলুল করিম এবং নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ তাহিরপুর গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে মমিনুল হক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তানভীর মেহেদী বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে দুই লাখ ঘনফুটের বেশি বালু চুরির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত পরিমাণ এবং কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ড চাওয়া হবে। রিমান্ড নিলে প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসবে আশাকরি।’
এদিকে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত মাস দেড় মাস ধরে ঘোপালের আলমগীর সিদ্দিকী তার অনুসারীদের নিয়ে বালু নিয়ে যাচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
এছাড়া মাইন উদ্দিন মামুন, হিছাসরার ইসমাইল মজুমদার, বোমা ইদ্রিস, যুবলীগ নেতা আলমগীর, সাইফুল ও সোহাগ সহ একটা সিন্ডিকেট জড়িত বলে তারা জানায়। রাত ১০টা থেকে বালু নিয়ে যাওয়া হতো বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র ফেনীর সময় কে নিশ্চিত করেছে। এদিকে বালু নিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ ফেনীর সময় এর হাতে এসেছে।
অন্যদিকে বালু নিতে বাধা দেওয়া নিয়ে বিএনপি নেতা রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার টিপুকে গুলি করে আলমগীর সিদ্দিকী ও তার লোকজন। ওই সময়ও অন্তত আরো ৫ জন আহত হয়। এব্যাপারে আলমগীর সিদ্দিকীকে প্রধান আসামী করে ১৪জনের নাম উল্লেখ করে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা হয়েছে।