নিজস্ব প্রতিনিধি :
আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর ৯ কোটি ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনায় সেই জিনাত রেজওয়ানা ও ফেনীর সাবেক এমপি নিজাম হাজারীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পারসিত চাকমা আদালতে চার্জশিট জমা দেন। এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর ৯ কোটি ২ লাখ ৮০হাজার টাকা আত্মসাৎ ও ৫ কোটি চাঁদা না দেওয়ায় মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে নিজাম হাজারীসহ আরো ৬জনের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন।
চার্জশিটভুক্ত মামলার অন্য আসামিরা হলেন জাতীয়পার্টির সাবেক এমপি আহসান আদেলুর রহমান, নিজাম হাজারীর নিকটাত্মীয় আবদুল আউয়াল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাকিব মিঞা, ঝালকাঠির আলিম তালুকদার, ফেনী শহরের বারাহিপুরের কহিনুর আক্তার ও সুলতানপুরের ফারহানা আক্তার।
মামলার তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীর সাথে জিনাত রেজওয়ানার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাধে আনোয়ার হোসেন জিনাত রেজওয়ানের কাছে টাকা পেয়ে থাকেন। টাকা চাওয়া হলে বরং ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে তার কোম্পানির প্যাড ও চেক চুরি হওয়ার কথা বলে তখন সরকার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে থানায় দুইটি পৃথক জিডি করেন ও হুমকি-ধামকি দেন। একপর্যায়ে সাক্ষীদেরও নানাভাবে হয়রানি করা হয়। পরে আবার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গেলে আউয়াল, কহিনুর, ফারহানার মাধ্যমে বিষয়টি জাতীয়পার্টির সাবেক এমপি আহসান আদেলুর রহমানকে জানালে তিনি নিজাম হাজারীকে জানায়। পরে নিজাম হাজারী তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন।
একপর্যায়ে তাও টাকা ফেরত চাওয়া হলে তাকে নিজাম হাজারীর বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় নিজাম হাজারী তার কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্ল্যেখ করা হয়। দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়।
পরে ছাড়তে না চাইলে পরিবার থেকে ২০লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে বাকি টাকা পরদিন দেয়ার শর্তে ছেড়ে দেয়া হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় রহস্যময় নারী জিনাত রেজওয়ানা আওয়ামীলীগের আলোচিত নেতা নিজাম হাজারীর প্রভাব খাটিয়ে বেশ কয়েকবার ফেনী সার্কিট হাউজে রাত্রী যাপনের তথ্য পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে সিলেট, হবিগঞ্জ ও ফেনী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশত মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
রেজওয়ানা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক গড়ে তোলে তাদের ব্লাকমেইল করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।