সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:০০

দাগনভূঞায় বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে নিজদলীয়দের হামলা, সাংবাদিকসহ আহত ৩০


দাগনভূঞা প্রতিনিধি :

দাগনভূঞায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে নিজ দলীয়দের হামলায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ২৫জন নেতাকর্মী ও কয়েকজন পুলিশ ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকালে দাগনভূঞা পৌর শহরের আতাতুর্ক স্কুল মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। উপজেলা বিএনপি মো. আকবর হোসেন এই হামলার জন্য দল থেকে বহিষ্কৃত ও উশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন।


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বিকালে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে আতাতুর্ক স্কুল মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সভাপতি মো. আকবর হোসেন এর সভাপতিত্বে সভায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল প্রধান অতিথি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক বিশেষ অতিথি ছিলেন।


সভা শেষে নেতাকর্মীরা স্কুল মিলনায়তন থেকে বের হয়ে মেইন রোডে আসা মাত্র আতাতুর্ক স্কুল মার্কেটের সামনে আক্রমনের শিকার হয়। প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন তখন ভূয়া ভূয়া শ্লোগান দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ইট-পাটকেল ও জুতা নিক্ষেপ করে। এসময় দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পৌরশহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


এতে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন ও তার স্ত্রী সাবেক সহ-সভাপতি শাহিনা আকবর, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা হুদন, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম দুলাল, তার স্ত্রী মহিলা দলের সভানেত্রী জাহানারা বেগম, রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জামাল হোসেন, বাকি বিল্লাহ, শ্রমিকদল নেতা বাদশা, রিজন, সেচ্ছাসেবক দলের শুক্কুর ও দাগনভূঞা পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন সুজন আহত হন। হামলাকারীদের মধ্যে রাব্বি, রিয়াজ, রায়হান, নাঈম ও হুমায়ুনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। এদের মধ্যে দুলাল, সুজন ও রাব্বি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে সুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে পুলিশ ছাড়াও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ফখরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন টিপু, এম রহমান সোহেল ও আবদুল্লাহ আল মামুনও আহত হন।


দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা শেষে বের হওয়ার সময় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা ফটিকের নেতৃত্বে অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এতে তার স্ত্রী উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহিন আকবর, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ইকবাল সুজন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মানিক, পৌর স্বেচ্চাসেবক দলের আহবায়ক নিজাম উদ্দিন হায়দার, উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহবায়ক এম সাইফুল ইসলাম দুলালসহ তাদের পক্ষের ৩৫-৪০জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন আমি ও আমার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিত হামলা করা হয়।


দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান জানান, সংঘর্ষের আশঙ্কায় সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এরপরও একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!