* ঠিকাদারী নিয়ে দ্বন্দ্বের জের
* চাঁদা দাবীর অভিযোগ
সদর প্রতিনিধি : ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের সোমবারিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি সড়কের উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান মাসুদ লোকজন পাঠিয়ে কাজটি বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানায়, সোমবারিয়া বাজার সংলগ্ন আবদুর রউপ মেম্বার বাড়ি, সরদার বাড়ি, কেরামী বাড়ি, চকিদার বাড়ি সড়ক বিগতসময়ে উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) এক কিলোমিটার সড়কটি মেরামত ও পুকুরের গার্ডওয়াল সহ ২কোটি ১৯লাখ ৪৫হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাতুল এন্টারপ্রাইজ কাজ শুরু করে।
স্থানীয়রা জানায়, কাজ শুরুর পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ফেনী পৌর শ্রমিকদলের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফের কাছে চাঁদা দাবী করেন মাসুদ। টাকা না দিয়ে কাজ চালিয়ে গেলে নানারকম হুমকি-ধামকি দেয়। একপর্যায়ে হানিফ কাজ বন্ধ করে দেয়।
নূরু নবী নামে এক বৃদ্ধ জানান, দীর্ঘ ২০বছর তাদের চলাচলের ১ কিলোমিটার রাস্তায় কাঁদামাটিতে অনেক কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কাজ শুরু হলেও চাঁদাবাজরা কাজ বন্ধ করে দেয়।
আবদুর রহিম নামে একজন জানান, এই এলাকার মানুষ বিএনপি করার কারনে বিগতসময়ে কোন উন্নয়ন হয়নি। আমরা দীর্ঘবছর কাঁচা রাস্তায় চলাচল করেছি। এখন নতুন করে পাকা রাস্তা বরাদ্দ হওয়ায় শুনেছি জেলা বিএনপি সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ ঠিকাদারের কাছে টাকা দাবী করে। এতে তারা কাজ বন্ধ করে চলে যায়।
জাহানারা আক্তার নামের এক গৃহবধূ জানান, আমরা ছেলে-মেয়েদের নিয়ে স্কুলে যেতে চরম কষ্ট হয়। অসুস্থ রোগীরা নানা ভোগান্তির শিকার হন। চাঁদা দাবী ও কাজ বন্ধের বিষয়টি জেলা বিএনপির নেতাদের অবহিত করা হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাতুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও জেলা বিএনপির সদস্য সাইফুর রহমান রতন জানান, দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে মাসুদ কাজ বন্ধ করতে হুমকি-ধামকি দেয়। এতে নির্মাণ কাজে নিয়োজিতরা প্রাণভয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি সহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদের দাবী, আমি কখনো ধলিয়া যাইনি, চাঁদা চাওয়ার বিষয়টিও সঠিক নয়।