সদর প্রতিনিধি :
ফেনীতে আন্দোলন করেই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবী আদায় করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান। জাতীয় সংসদে ফেনীতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রত্যাহারের প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে শহরের ট্রাংক রোডের প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জেলা সেক্রেটারী মুহাম্মদ আবদুর রহীমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর অধ্যাপক আবু ইউসুফ, সহকারি সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন, পেশাজীবী সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক মানিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াছ, শহর আমীর ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান।
মুফতি আবদুল হান্নান আরো বলেন, “আমরা আজকে রাজপথে আসার কথা ছিল না। ফেনীবাসীর প্রাণের দাবি পার্লামেন্টে উপেক্ষিত হয়েছে। ফেনীবাসীর প্রাণের দাবী মেডিকেল কলেজ উপেক্ষিত হওয়ার প্রতিবাদে ফেনীর মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। আমরা মনে করি ফেনীর ইতিহাস সেই ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস। ফেনীর কৃতি সন্তান ভাটির বাঘ শমসের গাজী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৪৭ এর আন্দোলন, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি আন্দোলনে ফেনীবাসী গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে। মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। আন্দোলনের মাধ্যমে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবী আদায় করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। সকলকে নিয়ে মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ জনগনের প্রাণের দাবী নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।”
তিনি বলেন, “ফেনী হচ্ছে বাংলাদেশের নাভী। ঢাকা-চট্টগ্রামের মাঝামাঝি অবস্থানে ফেনী জেলা অবস্থিত। ফেনী জেলার সাথে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। চিকিৎসার জন্য সবাই ফেনীতে আসে। সুতরাং এখানে মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, “গণভোটের ৭০শতাংশ মানুষ হ্যাঁ ভোটকে সমর্থন দিয়েছে। সরকারি দল হ্যাঁ ভোট বাতিলের জন্য প্রস্তাব আসছে। হ^্যাঁ ভোট বাতিল, জুলাই সনদ উপেক্ষিত হলে ২ হাজার জুলাই শহীদের রক্ত, ৩০ হাজার পঙ্গু হয়েছে তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে। তাদের ত্যাগ ও অবদানের বিনিময়ে ন্যায়, ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে।”
আধ্যাপক আবু ইউছুপ বলেন, “এভাবে আমাদের আজকে রাস্তায় দাঁড়ানোর কথা ছিল না। আমাদের ফেনীর মানুষের আসলে দূর্ভাগ্য। আমরানঅতীতে দুইবারের প্রধানমন্ত্রী পেয়েও কিছু পাইনি। কারণ হচ্ছে ফেনীর রাজনীতি যারা করে তাদের দূর্বলতার কারণে আমরা সরকার থেকে কিছু আদায় করতে পারিনি।”
মুহাম্মদ আবদুর রহীম বলেন, “আমাদের প্রাণের দাবী জাতীয় সংসদে প্রত্যাখান হয়েছে। যদি এই দাবী পুন:বহাল তথা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা না হয় ফেনীবাসীও তাদের প্রত্যাখান করবে।”
অ্যাডভোকেট এম. জামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা ফেনীবাসী যদি একত্রিত হই, আমরা সবাই যদি এ দাবীতে সোচ্চার থাকি ইনশাআল্লাহ। তাহলে আগামীগে আমরা ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করতে পারবো।”
আবু বক্কর ছিদ্দিক মানিক বলেন, “ফেনী প্রাচ্যের লেবানন হিসেবে পরিচিত ছিল। অতীতে যারা এমপি হয়েছিলেন তারা বিনাভোটে হয়েছিলেন। তারা ফেনীর মানুষের জন্য কিছু করেননি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতিও আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মেডিকেল কলেজ ফেনীর মানুষের প্রাণের দাবি। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী যেন সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন।”
মুহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, “আমরা সরকারকে বলবো আপনারা আমাদের দাবি মেনে নিন। না হয় আমরা ফেনীর গণমানুষকে সাথে নিয়ে মেডিকেল কলেজ আদায় করে নিবো।”
ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের দূর্ভাগ্য যে অন্যরা মেডিকেল কলেজ পায়,কিন্তু আমরা পাইনা। অথচ প্রধানমন্ত্রী পাইলট মাঠে ফেনীতে মেডিকেল কলেজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করতে পারেননি।”
ইমাম হোসেন আরমান বলেন, “ফেনীতে মেডিকেল কলেজ আমাদের নায্য দাবী। কিন্তু মেডিকেল কলেজ কেন প্রত্যাহার করা হলো তা আমরা জানতে চাই। এটা আমাদের প্রাণের দাবি। আমরা ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপন চাই।”