* গতবারের তুলনায় এ বছর দাম বাড়তির অভিযোগ ক্রেতাদের
* মাঝারি গরু ও খাসির চাহিদা বেশি
সদর প্রতিনিধি :
পবিত্র ঈদুল আযহা যত ঘনিয়ে আসছে ততই জমজমাট হয়ে উঠেছে কোরবানী পশুর হাট। বিভিন্ন হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দুপুর থেকে সন্ধা পর্যন্ত হাটগুলোয় চলছে কেনাবেচা। চাহিদানুযায়ী এবারে হাটে মাঝারি আকারের গরু ও খাসির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম তুলনামূলক বেশি বলে দাবী করছেন ক্রেতারা। তবে এখন পর্যন্ত নিজেদের মত করে ভালো দামে বিক্রি করায় গত বছরের চেয়ে কিছুটা ভালো লাভ হচ্ছে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। শেষ পর্যন্ত ভালো লাভে ঘরে ফিরার আশা তাদের।
গতকাল সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী বাজার ও কাজিরবাগ ইউনিয়নের নতুন রানিরহাট ঘুরে দেখা যায়, দুটি হাটে সারিসারি গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিক্রেতারা। বিক্রেতাদের সাথে দরকষাকষি করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা কোন গরু যেমন সাড়ে ৪লাখ টাকা চাচ্ছেন। আবার সাধ্যমত দামে কিনতে চাচ্ছেন ক্রেতারা। এবারের ঈদের জন্য কুমিল্লার গুনবতী দশবাহারের কবির আহম্মদ ৪০টি গরু লালন-পালন করেছেন। ইতিমধ্যে ৯টি তিনি বিক্রি করে ফেলছেন। গতকাল মোহাম্মদ আলী বাজারে নিয়ে আসেন ৯টি গরু। কোনটির দাম হাঁকছেন আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত।
কবির আহম্মদ ফেনীর সময় কে বলেন, “এখানে ১১টি গরু নিয়ে এসেছি। এখনো একটাও বিক্রি করতে পারিনি। মোটামুটি শুরু হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ভালো লাভ হচ্ছে। বাকিগুলাও ভালো দামে বিক্রি করার আশাবাদী।”
রংপুর থেকে ৪০ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া খরচ করে ৯টি গরু নিয়ে আসেন মো: মনির। এরমধ্যে ৪টি গরু বিক্রি করে ফেলছেন। গত শনিবার পদুয়া বাজারে ও গতকাল মোহাম্মদ আলী বাজারে আনেন। মোহাম্মদ আলী বাজারে নিয়ে আসেন ৫টি। মো: মনির বলেন, “যেগুলো বিক্রি করেছি এগুলায় গতবারের চেয়ে ভালো লাভ হয়েছে। বাকিগুলোও ভালো দামে বিক্রি করার আশাবাদী।”
আলকরার কামরুল হোসেন কাজল গরু নিয়ে আসেন ১১টি। তিনি বলেন, “বিক্রি আসরের পর হবে। ক্রেতা আসতেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়নি।”
ফেনী শহরের সালাউদ্দিন মোড় থেকে মোহাম্মদ আলী বাজারে গরু কিনতে যান মোহাম্মদ সাঈদুল হক। বিক্রেতারা দাম বেশি চাইছেন বলে দাবী তার। তিনি ফেনীর সময় কে বলেন, “অনেক বেশি দাম চাচ্ছে। সাধ্যের মধ্যে পেলে নিয়ে নিবো। এখন যে দাম চাচ্ছে এক-দুইদিন পর হয়তো কমে যাবে। তবে দাম বেশি চাচ্ছে এখানে।”
আরেক ক্রেতা বলেন, “দাম অনেক বেশি।ঘুরে দেখতেছি। বিক্রেতারা আকাশচুম্বী দাম চাচ্ছে।”
মোহাম্মদ আলী বাজারের ইজারা কমিটির সদস্য জাবেদ হোসেন বিজয় বলেন, “দুপুর থেকে মোটামুটি ভালো বিক্রি হচ্ছে। এখানে ঈদের আগেরদিনও বাজার রয়েছে। ওইদিন বেশি জমবে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার কুরবানির জন্য জেলার ৬টি উপজেলায় গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ৫শ ২৫টি। এরমধ্যে ৯০ হাজার ৪শ ৫২টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ৯শ ২৭টি বেশি রয়েছে। এরমধ্যে জেলায় গরুর রয়েছে ৭হাজার ৫শ ৬৯টি, ছাগল রয়েছে ১৩ হাজার ২শ ২৯টি, মহিষ রয়েছে ১ হাজার ৭শ ৩৫টি ও ভেড়া রয়েছে ৩ হাজার ৯শ ১৯টি।