গ্যাস সংকটে ফেনীতেও জনদুর্ভোগ চরমে
নিজস্ব প্রতিনিধি :
সারাদেশের মতো ফেনীতেও গ্যাস সংকট চরমে। বাসা-বাড়ী, রেষ্টুরেন্টে রান্নায় দুর্ভোগ ছাড়াও সিএনজি চালিত যানবাহনও পড়ে ভিষন বিপাকে। এতে করে রাস্তাঘাটে যাত্রিরাও ভোগান্তির শিকার হন।
ভুক্তভোগিরা জানান, শনিবার রাত থেকে জেলা জুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়। গতকাল রবিবার ভোরে অনেকেই ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ গ্যাস না থাকায় বিপাকে পড়েন। সকালের নাস্তার জন্য অনেককে শহরে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ভিড় করতে দেখা যায়। একই অবস্থা হয় দুপুরের খাবারেও। অনেক রেস্টুরেন্টে খাবার সংকট দেখা দেয়।
ফেনী শহরের বাসিন্দা ইলিয়াস জানান, গ্যাস না থাকায় দুপুরে রান্না হয়নি। শহরের নবী হোটেল থেকে পরিবারের চার সদস্যদের জন্য খাবার এনেছি।
সার্কিট হাউজ রোডের বাসিন্দা কাউসার হামিদ জানান, আমার পরিবারের তিন সদস্য আজ গ্যাস না থাকায় দুপুরের খাবার হোটেল থেকে আনতে হয়েছে।
সার্কিট হাউজ রোডের আলিফ ফুডের মালিক জানান, সকাল থেকে গ্যাস না থাকায় কারখানা বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা বসে আছে। গ্যাস না আসলে শ্রমিকদের বসিয়ে বেতন দিতে হবে।
মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম জানান, গ্যাস না থাকায় ছাদে মাটির চুলা বসিয়ে রান্নার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে রান্না করতে পারি নাই। বৃষ্টি বন্ধের অপেক্ষায় আছি।
এছাড়া গ্যাস সংকট থাকায় প্রতিটি স্টেশনের সামনে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে।
গ্যাস সরবরাহ না থাকায় মহিপাল থেকে ট্রাংক রোডের ভাড়া ১০টাকার স্থলে জনপ্রতি ২০টাকা করে নিয়েছে। এছাড়া অন্যান্য রুটেও ভাড়া দ্বিগুণ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাজমুল আলম নামে এক যাত্রী জানান, গ্যাস সংকটে শহরে সিএনজি-অটোরিকসা অনেক কম। তাই কিছু চালক মহিপাল থেকে ট্রাংক রোডের ভাড়া ১০টাকার স্থলে ২০টাকা নিয়েছে।
স্কুলছাত্র পাঁচগাছিয়া বাসিন্দা শাহরিয়ার জানান বাসা থেকে ভাড়া বাবদ ৪০টাকা নিয়ে আসছি। ট্রাংক রোড থেকে সিএনজিতে ভাড়া ২০টাকা চাইতেছে, তাই হেঁটে মহিপাল যাচ্ছি।
সিএনজি চালক সবুজ মিয়া জানান, ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেই। তাই এলপিজি দিয়ে গাড়ি চালাইতেছি। খরচ বেশি তাই ভাড়া ৫/১০টাকা বেশি নিতে হচ্ছে।
বাখরাবাদ এরিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী কিরণ শংকর পাল জানান, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের গ্রাহক চাহিদা প্রতিদিন ২৮-৩০মিলিয়ন ঘনফুট। পাওয়া যাচ্ছে প্রতিদিন ১২-১৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ ঘাটতি থাকায় গ্যাস সংকট বিরাজ করছে।
খাবারের জন্য হোটেল-রেস্টুরেন্টে ভিড়
বিকালে শহরের নবী হোটেলের সামনে খাবার কিনতে দীর্ঘলাইন দেখা গেছে। এছাড়া আল ফাহাম, বাংলা হোটেল, ফাইভ স্টার, নাহার চৌধুরী রেস্টুরেন্ট, হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট, গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, কুটুম বাড়ি রেঁস্তোরা, মহিপাল ফাইভ স্টার, জান্নাত রেস্টুরেন্ট, ইত্যাদি হোটেল খাবারের জন্য উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়ার মত। অনেক হোটেলেও খাবার মিলেনি। গ্যাস না থাকায় অনেক রেস্তোঁরায়ও রান্না হয়নি। জামাল উদ্দিন নামে এক ক্রেতা জানান,সারাদিন গ্যাস ছিলো না। দুপুরে বাসায় রান্না হয় নাই। এখন বাচ্চাদের জন্য দুই প্যাকেট বিরিয়ানি নিতে আসছি।