সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৫:১৯

সাংবাদিকরা কেবল জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ: কাদের গনি চৌধুরী


ঢাকা অফিস : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, সাংবাদিকরা কেবল জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের স্বাধীন, সত্যনিষ্ঠ ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে হবে। সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো জনগণের প্রতি যে দায়, তার প্রতি নিষ্ঠাবান থাকা এবং অসত্য না লেখা।’ গতকাল বুধবার জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে বাসস এর মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য ‘সাংবাদিকতা, ভিডিও সাংবাদিকতা ও মোবাইল সাংবাদিকতা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রওনক জাহান।

জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান) ড. মো. মারুফ নাওয়াজের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ প্রকৌশল) পারভীন সুলতানা রাব্বী, উপ-পরিচালক (বেতার অনুষ্ঠান) মো. আবুজার গাফফারীসহ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সাংবাদিকগণ।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সমাজের বিভিন্ন ঘটনা ও তথ্য সংগ্রহ করে তা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ বা প্রচার করার একটি প্রক্রিয়া। সাংবাদিকের প্রধান কাজ হলো তথ্যগুলো সঠিক ও নির্ভুল কিনা, তা যাচাই করা।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য হলো জনগণকে দেশের এবং বিশ্বের সঠিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা। সমাজে ঘটা অন্যায় বা অনিয়ম তুলে ধরে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং মানুষের বিবেক ও সচেতনতা বাড়ানো।’

সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলা  উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা করা। যা সত্য, তা-ই তুলে ধরা। কারণ সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণে সাংবাদিকতা হয় না।’

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা একজন সাংবাদিককে সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে। ভালো সাংবাদিক হওয়ার জন্য বই ও পত্রিকা পড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার ওপর লেখা বই সংগ্রহ করে নিয়মিত পাঠ ও অনুশীলন করতে হবে। জানার জন্য পড়ালেখার বিকল্প নেই।’

সাংবাদিকদের ‘জাতির বিবেক’ বলা হয় উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বিবেকের সঙ্গে প্রতারণা করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই দলদাসে পরিণত হওয়া যাবে না। জনগণ দাসত্বের সাংবাদিকতাকে মনে প্রাণে ঘৃণা করে। তাই তাদের ‘পেট ডগ’ বা পোষা কুকুরে পরিণত হওয়া যাবে না। থাকতে হবে  সমাজের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায়।’ সংবাদপত্রকে ‘নিউজপেপার ইজ দ্য পিপলস পার্লামেন্ট অলওয়েজ ইন সেশন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবাদপত্রই জনগণের সংসদ,যার অধিবেশন সর্বদা চলমান।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘এখানে আমরা সাংবাদিকরা হলাম শিক্ষার্থী, পরীক্ষা দিই। আর আমাদের খাতা দেখেন, আমাদের পরীক্ষা নেন দেশের ১৮কোটি মানুষ। আমরা কি ভুল লিখেছি, কি সত্য লিখেছি, কি মিথ্যা লিখেছি, লেখাটা বস্তুনিষ্ঠ কি না সেটাও কিন্তু জনগণ প্রতিদিন আমাদের পরীক্ষা করেন। তাই আমাদের দায়িত্ববোধ অনেক বেশি।’ অনলাইন সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে বাসসের প্রধান সম্পাদক বলেন, ‘অনলাইন সাংবাদিকতা অনেকটা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ের মতো। শুরুতেই খেলার সুতা ধরতে জানতে হবে। প্রথম ওভারে না হোক, অন্তত পাওয়ার প্লেতে ভালো রান করতে হবে।’


তিনি বলেন, প্রথম ওভার বলতে তিনি ব্রেকিং নিউজ এবং পাওয়ার প্লে বলতে এর ফলো-আপ অথবা বিশ্লেষণের কথা বলেছেন। অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘সবার আগে সঠিক সংবাদ’এই নীতি মেনে চলতে হবে উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘সবার আগে সংবাদ দিতে হবে, আবার সঠিক সংবাদও দিতে হবে। সবার আগে দিতে গিয়ে মিথ্যা, অর্ধসত্য বা অর্ধমিথ্যা সংবাদ দেওয়া যাবে না।’ উল্লেখ্য, একদিনের এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বাসসের ৪০জন মফস্বল সাংবাদিক অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!