সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:৪৪

দাগনভূঞায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ১৬০কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা শিক্ষার্থীরা যেন প্রযুক্তির ভালো দিকটা কাজে লাগায় -পরিবেশ মন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিনিধি : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘ছেলে-মেয়েদের বেশি বেশি পড়তে হবে, শিখতে হবে। শিখার কোন বিকল্প নেই। নিজেদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে। ছেলে-মেয়েদের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। আর তারা যেন প্রযুক্তির ভালো দিকটা ব্যবহার করে।’
তিনি গতকাল বুধবার দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ বছরে এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সমাজ পরিবর্তন হচ্ছে। আগামীতে পরিবর্তন আরও দ্রুত গতিতে হবে। এতে আমাদের সন্তানদেরও পরিবর্তন হবে। সমাজের যে পরিবর্তন, এ পরিবর্তনের সাথে আমাদেরও পরিবর্তন হতে হবে। এ পরিবর্তনের আমাদের ছেলে-মেয়েদের প্রস্তুত করতে হবে। অভিভাবকদের এ জন্য নিজেদেরও প্রস্তুত হতে হবে। এখন প্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবন হচ্ছে। আগামীতে আরো হবে। নতুন প্রজন্ম যেন সমাজের পরিবর্তনের সাথে ভালোভাবে চলতে পারে সে দায়িত্ব অভিভাবকদের। এর সাথে আমাদের খাপখাওয়াতে হবে। আমরা চাই আমাদের পরিবর্তন হোক।’

পরিবেশ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি ছেলে বা মেয়েকে যখন বড় করা হয়, তখন সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব থাকে অভিভাবকের। ছেলে-মেয়েদের কিভাবে সমাজের সাথে খাপ খাওয়াবে ও ভালো করবে এটার সব দায়িত্ব অভিভাবকদের। পরে দায়িত্ব হলো শিক্ষকদের। এখানে জিপিএ ৫ যারা পেয়েছে তারা রয়েছে। যারা পায়নি এবং যারা অকৃতকার্য হয়েছে তাদের সবাইকেও স্বাগত জানাই। যারা খারাপ করছে তাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। তারা যদি নিজেদের পরিবর্তন করতে চায় তাহলে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। জিপিএ ৫ না পেলেও ভালো কিছু করা যায়, খারাপ ফল থেকেও ভালো কিছু করা যায়। সুতরাং চেষ্টা করতে হবে।’ ‘মেধার আলোয় আলোকিত হোক ভবিষ্যত’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফেনী জেলা প্রশাসক মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ১শ ৬০জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাইস্কুল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফী উল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীদুল ইসলাম।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীদুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ ফয়জুল আজীম নোমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইসমাইল।

শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন দাগনভূঞা ইসলামীয়া আজিজয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক আহমেদ মজুমদার ও আতাতুর্ক সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান।


কৃতী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন দাগণভূঞা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী অয়ন্তিকা দত্ত ও রামনগর কে এম সি উচ্চ বিদ্যালয়ের জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী এম এ আহনাফ শাহরিয়া।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মাহবুবউল করিম বলেন, ‘ঝরে পড়াটা আমাদের বড় সমস্যা। স্কুলে কিছুদিন আসার পর আসে না। তাদের নিয়মিত করার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রাণ। শিক্ষকরা যতটুকু আন্তরিক হবে, শিক্ষার্থীরা ততটুকু শিখতে পারবে। শিক্ষকরা শ্রেণিতে যাওয়ার আগে নিজেদেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মেধার আলোকে ভাগ করে প্রয়োজনকে কার্যক্রম চালাতে হবে। এতে সাফল্য আসবে। তবে শিক্ষকদের আন্তরিকতার বিকল্প নেই। শিক্ষকরা শিক্ষার প্রাণ। আপনারা যত বেশি আন্তরিক হবেন, তত বেশি ফলাফল ভালো হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!